০৩:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্দরে ৩ কোটি টাকার কাপড়ভর্তি কনটেইনার নিখোঁজ মহেশখালীতে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা, একাই ছিলেন বাড়িতে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের চার প্রবাসী নিহত কাঁঠাল পাতার বোঝা কাঁধে হালিমা, দিনে ৩০০ টাকায় চলে একার সংসার ১০ জেলায় বেশি হাম, টিকাদান কর্মসূচি নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন সুগন্ধি চাল রপ্তানির কোটা অর্ধেক কমাল সরকার সৌদি আরবে হুথিদের হামলায় আহত ৭৩, নারী ও শিশুও রয়েছে ভেনিসে অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তা ও হামলার অভিযোগ, লিখিত অভিযোগ পুলিশের কাছে আগামী ৫ দিনে বাড়তে পারে বৃষ্টি, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর কুমিল্লায় শিক্ষাসফরের বাস খাদে, আহত ২০ মেডিকেল শিক্ষার্থী

খাদ্যের ভার কাঁধে নিয়ে দেশকে বাঁচিয়ে রাখছেন নীরব শ্রমিকরা

ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হয় তাদের কঠিন দিনের পথচলা। কাঁধে ভারী বস্তা, হাতে লোহার হুক আর শরীরে সীমাহীন পরিশ্রমের শক্তি নিয়ে তারা চালিয়ে যান খাদ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তাদের শ্রমেই কৃষকের মাঠ থেকে শস্য পৌঁছে যায় বাজার, রান্নাঘর আর মানুষের খাবারের টেবিলে।

শস্য পরিবহনের আড়ালে থাকা অদৃশ্য নায়করা

তামিলনাড়ুর তাঞ্জাভুর, যা ধানের ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত, সেখানকার রেল পণ্যাগারে কাজ করেন এসব শ্রমিক। ধান ও কৃষিপণ্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানোর পুরো ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ তারা। প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা বস্তা তোলা, বহন করা, সাজানো ও ট্রেনে বোঝাই করার মতো কঠিন কাজ করে চলেন।

মাথায় কাপড় পেঁচিয়ে আর হাতে লোহার হুক নিয়ে তারা ট্রাক, প্ল্যাটফর্ম ও রেলবগির মাঝের সংকীর্ণ জায়গায় কাজ করেন। একের পর এক ভারী বস্তা কাঁধে তুলে নিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেন তারা। দীর্ঘ সময়ের এই কঠোর পরিশ্রমের বিনিময়ে একজন শ্রমিক দিনে প্রায় এক হাজার রুপি আয় করেন।

ঘাম, ধুলো আর ক্লান্তির সঙ্গে প্রতিদিনের লড়াই

কাজের ফাঁকে বিশ্রামের জন্য তাদের আলাদা কোনো জায়গা থাকে না। কখনো রেলবগির নিচে, কখনো ট্রাকের পাশে, আবার কখনো প্ল্যাটফর্মের এক কোণে বসেই একটু সময় কাটান তারা। প্রচণ্ড গরম, ধুলো আর শারীরিক ক্লান্তির মধ্যেও চালিয়ে যেতে হয় দায়িত্ব।

নিজেদের বাড়ি থেকে আনা খাবার খেয়েই তারা দিনের মাঝের বিরতি কাটান। কাজের জায়গায় আলাদা খাবারের ব্যবস্থাও নেই। তবুও থেমে থাকে না তাদের শ্রম, কারণ তাদের হাতের পরিশ্রমের ওপর নির্ভর করে খাদ্যের ধারাবাহিক সরবরাহ।

Daily wage laborers unload sacks of wheat from a truck at a grain... News  Photo - Getty Images

প্রযুক্তির যুগেও মানুষের শক্তির প্রয়োজন

বর্তমান সময়ে অনেক ক্ষেত্রে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়লেও খাদ্য পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ কাজে এখনো মানুষের শক্তির বড় ভূমিকা রয়েছে। প্রতিটি বোঝাই বস্তার পেছনে রয়েছে অসংখ্য শ্রমিকের পদক্ষেপ, ঘাম আর নিরলস চেষ্টা।

যারা প্রতিদিনের খাবার পৌঁছানোর এই ব্যবস্থাকে সচল রাখেন, তাদের অনেকের নাম সাধারণ মানুষের অজানা। কিন্তু তাদের পরিশ্রমের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন। এই শ্রমিকরাই প্রমাণ করেন, আধুনিকতার মাঝেও মানুষের শক্তি এখনো সমাজের অন্যতম ভিত্তি।

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম বন্দরে ৩ কোটি টাকার কাপড়ভর্তি কনটেইনার নিখোঁজ

খাদ্যের ভার কাঁধে নিয়ে দেশকে বাঁচিয়ে রাখছেন নীরব শ্রমিকরা

০৬:৪৮:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হয় তাদের কঠিন দিনের পথচলা। কাঁধে ভারী বস্তা, হাতে লোহার হুক আর শরীরে সীমাহীন পরিশ্রমের শক্তি নিয়ে তারা চালিয়ে যান খাদ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তাদের শ্রমেই কৃষকের মাঠ থেকে শস্য পৌঁছে যায় বাজার, রান্নাঘর আর মানুষের খাবারের টেবিলে।

শস্য পরিবহনের আড়ালে থাকা অদৃশ্য নায়করা

তামিলনাড়ুর তাঞ্জাভুর, যা ধানের ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত, সেখানকার রেল পণ্যাগারে কাজ করেন এসব শ্রমিক। ধান ও কৃষিপণ্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানোর পুরো ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ তারা। প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা বস্তা তোলা, বহন করা, সাজানো ও ট্রেনে বোঝাই করার মতো কঠিন কাজ করে চলেন।

মাথায় কাপড় পেঁচিয়ে আর হাতে লোহার হুক নিয়ে তারা ট্রাক, প্ল্যাটফর্ম ও রেলবগির মাঝের সংকীর্ণ জায়গায় কাজ করেন। একের পর এক ভারী বস্তা কাঁধে তুলে নিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেন তারা। দীর্ঘ সময়ের এই কঠোর পরিশ্রমের বিনিময়ে একজন শ্রমিক দিনে প্রায় এক হাজার রুপি আয় করেন।

ঘাম, ধুলো আর ক্লান্তির সঙ্গে প্রতিদিনের লড়াই

কাজের ফাঁকে বিশ্রামের জন্য তাদের আলাদা কোনো জায়গা থাকে না। কখনো রেলবগির নিচে, কখনো ট্রাকের পাশে, আবার কখনো প্ল্যাটফর্মের এক কোণে বসেই একটু সময় কাটান তারা। প্রচণ্ড গরম, ধুলো আর শারীরিক ক্লান্তির মধ্যেও চালিয়ে যেতে হয় দায়িত্ব।

নিজেদের বাড়ি থেকে আনা খাবার খেয়েই তারা দিনের মাঝের বিরতি কাটান। কাজের জায়গায় আলাদা খাবারের ব্যবস্থাও নেই। তবুও থেমে থাকে না তাদের শ্রম, কারণ তাদের হাতের পরিশ্রমের ওপর নির্ভর করে খাদ্যের ধারাবাহিক সরবরাহ।

Daily wage laborers unload sacks of wheat from a truck at a grain... News  Photo - Getty Images

প্রযুক্তির যুগেও মানুষের শক্তির প্রয়োজন

বর্তমান সময়ে অনেক ক্ষেত্রে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়লেও খাদ্য পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ কাজে এখনো মানুষের শক্তির বড় ভূমিকা রয়েছে। প্রতিটি বোঝাই বস্তার পেছনে রয়েছে অসংখ্য শ্রমিকের পদক্ষেপ, ঘাম আর নিরলস চেষ্টা।

যারা প্রতিদিনের খাবার পৌঁছানোর এই ব্যবস্থাকে সচল রাখেন, তাদের অনেকের নাম সাধারণ মানুষের অজানা। কিন্তু তাদের পরিশ্রমের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন। এই শ্রমিকরাই প্রমাণ করেন, আধুনিকতার মাঝেও মানুষের শক্তি এখনো সমাজের অন্যতম ভিত্তি।