যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বড় ধরনের বৃদ্ধির পূর্বাভাস ছিল। তবে চীনের তেল চাহিদা ও আমদানি ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের কারণে সেই চাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
গত কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের প্রভাব তেলের বাজারে পড়লেও পরিস্থিতি প্রত্যাশার মতো অস্থির হয়নি। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অতিরিক্ত তেল মজুত, বিভিন্ন দেশের সরবরাহ বাড়ানো এবং জ্বালানি মজুত ব্যবহারের পাশাপাশি চীনের ভূমিকা বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চীনের আমদানি কমানোয় বাজারে স্বস্তি
বিশ্বের সবচেয়ে বড় জ্বালানি ব্যবহারকারী দেশ চীন সাম্প্রতিক সময়ে অপরিশোধিত তেলের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। জুন মাসে দেশটির দৈনিক তেল আমদানি প্রায় ৭১ লাখ ব্যারেলে নেমে আসে, যা এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়। সংঘাত শুরুর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে এই পরিমাণ ছিল প্রায় এক কোটি ২৬ লাখ ব্যারেল।
চীন শুধু আমদানি কমায়নি, দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ব্যবস্থাপনাতেও নানা পরিবর্তন এনেছে। তেলের মজুত ব্যবহার, স্থানীয় বাজারে জ্বালানি সরবরাহকে অগ্রাধিকার এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশটি চাহিদার চাপ কমিয়েছে।
তেলের বাজারে নতুন ভূমিকা চীনের
এতদিন আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণকারী দেশ হিসেবে সৌদি আরবের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি আলোচিত ছিল। উৎপাদন বাড়ানো বা কমানোর সক্ষমতার কারণে দেশটি বাজার স্থিতিশীল রাখতে বড় ভূমিকা রাখে।
তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে চীনের চাহিদা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশটির আমদানি কমানো বিশ্ববাজারে সরবরাহের ঘাটতি কিছুটা সামাল দিতে সাহায্য করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন যদি আগের মতো বড় পরিমাণে তেল কিনতে থাকত, তাহলে দাম আরও দ্রুত বেড়ে যেতে পারত। বিপরীতে আমদানি কমিয়ে দেশটি বাজারের চাপ কমিয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তায় চীনের কৌশল
চীন তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের জন্য আমদানির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। তাই দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটি বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করছে।
বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানো, বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝোঁক এবং অভ্যন্তরীণ মজুত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চীন তার জ্বালানি চাহিদা সামলানোর চেষ্টা করছে।
এর আগে ইউরোপে গ্যাস সংকটের সময়ও চীনের আমদানি কমানোর সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিও দেখিয়েছে, বড় ক্রেতা হিসেবে চীনের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চীনের প্রভাব বাড়ছে
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে, শুধু উৎপাদনকারী দেশ নয়, বড় ভোক্তা দেশগুলোর সিদ্ধান্তও এখন জ্বালানি বাজারের গতিপথ নির্ধারণ করছে। চীনের ক্রয়ক্ষমতা ও চাহিদা নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা দেশটিকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও প্রভাবশালী অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















