বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে আবারও ইতিহাস গড়ার সুযোগ সামনে আর্জেন্টিনার। রোববার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসির দল। জয় পেলে ১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের কীর্তি গড়বে আর্জেন্টিনা।
অন্যদিকে, ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেন নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার লক্ষ্যে মাঠে নামছে। একই সঙ্গে ১৮ বছর বয়সী লামিন ইয়ামালকে ঘিরে ভবিষ্যৎ তারকার আলোচনাও বাড়ছে।
আবেগে ভরা আর্জেন্টিনার যাত্রা
নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার পথ মোটেও সহজ ছিল না। দুটি ম্যাচেই পিছিয়ে পড়েও তারা ঘুরে দাঁড়ায় এবং দুটি ম্যাচই অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। সেমিফাইনালে সামান্য ফেবারিট ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর ম্যাচে এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ গোল করেন। দুটি গোলেই সহায়তা করেন ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি।
আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, এই আবেগই দলকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তার মতে, সমর্থকদের সঙ্গে দলের যে বন্ধন তৈরি হয়েছে, সেটিই এই অভিযানের সবচেয়ে মূল্যবান অর্জন।
স্কালোনি বলেন, মানুষ এখন আবার আর্জেন্টিনার জার্সি পরে খেলা দেখছে, একে অপরকে জড়িয়ে ধরছে এবং দলকে সমর্থন করছে। এই ঐক্য ও আবেগ খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।
ইতিহাসের সামনে মেসি
২০২১ ও ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকা জয়ের পর এবার বিশ্বকাপ ধরে রাখার লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মেসি। ইতালির ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালের দল এবং পেলের ব্রাজিলের ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালের পর টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ী তৃতীয় দল হওয়ার সুযোগ এখন আর্জেন্টিনার সামনে।
গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ বলেন, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এবার তিনি অনেক বেশি উপভোগ করছেন। জাতীয় দলের হয়ে এটি তার পঞ্চম ফাইনাল। তিনি সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, হাসিমুখেই মাঠে নামতে চান, কারণ এমন মুহূর্ত সব ফুটবলার পান না।
স্পেনের আত্মবিশ্বাসী অগ্রযাত্রা
স্পেনও দুর্দান্ত ছন্দে ফাইনালে পৌঁছেছে। গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র ছাড়া পুরো টুর্নামেন্টেই তারা দাপট দেখিয়েছে। সেমিফাইনালে ফেবারিট ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে দলটি।
যদিও পুরো টুর্নামেন্টে লামিন ইয়ামালের গোল মাত্র একটি। এফসি বার্সেলোনার হয়ে এপ্রিল মাসে হ্যামস্ট্রিং চোটে পড়ার পর তিনি পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় ছিলেন। তবু তার উপস্থিতি স্পেনের আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

মেসির সঙ্গে তুলনা নয়
স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে মনে করেন, লামিন ইয়ামালের সঙ্গে লিওনেল মেসির তুলনা করা ঠিক হবে না।
তার ভাষায়, মেসি ফুটবল ইতিহাসের এক অনন্য খেলোয়াড় এবং তরুণদের জন্য আদর্শ। ইয়ামালকে নিজের স্বাভাবিক খেলাই খেলতে হবে। তার অসাধারণ সম্ভাবনা রয়েছে এবং ভবিষ্যৎও উজ্জ্বল।
নতুন ইতিহাসের অপেক্ষায় স্পেন
২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্ন দেখছে স্পেন। ফ্যাবিয়ান রুইজ, দানি ওলমো ও রদ্রির মতো মিডফিল্ডারদের নিয়ে দলটি নিজেদের শক্তিতে আত্মবিশ্বাসী।
মিডফিল্ডার রদ্রি বলেন, দল এখন পর্যন্ত নিজেদের অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট হলেও তাদের লক্ষ্য আরও বড়। এই প্রজন্মকে গর্বিত করার মতো একটি নতুন ইতিহাস গড়াই এখন তাদের একমাত্র লক্ষ্য।
আবেগ, অভিজ্ঞতা ও নতুন প্রজন্মের প্রতিভার লড়াইয়ে বিশ্বকাপের এই ফাইনাল ফুটবলপ্রেমীদের জন্য হতে যাচ্ছে অন্যতম আকর্ষণীয় এক মহারণ।
মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে স্পেনের মুখোমুখি। অন্যদিকে দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামছে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















