রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেনে সেনা নিয়োগ এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন সদস্য পাঠাতে গিয়ে নিয়োগ কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনা বেড়ে চলেছে। একই সঙ্গে জোরপূর্বক নিয়োগের অভিযোগও বাড়ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এমন বাস্তবতায় দেশজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
যুদ্ধের পাশাপাশি নতুন সংকট
যুদ্ধের শুরুতে স্বেচ্ছায় সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার প্রবণতা থাকলেও সময়ের সঙ্গে সেই আগ্রহ অনেকটাই কমে গেছে। দীর্ঘ যুদ্ধ, প্রাণহানি এবং অনিশ্চয়তার কারণে অনেকেই সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চাইছেন না।
সাম্প্রতিক সময়ে সেনা নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার সময় কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনা বেড়েছে। একাধিক এলাকায় তাদের মারধর করা হয়েছে, এমনকি গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
নিয়োগ নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ

অনেকের অভিযোগ, সেনা নিয়োগের সময় কখনও কখনও কঠোর এবং বলপ্রয়োগমূলক পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। রাস্তায় পরিচয়পত্র যাচাইয়ের নামে মানুষকে আটক করে গাড়িতে তুলে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে জনবলের ঘাটতি পূরণ করতে গিয়েই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে কঠোর পদ্ধতি মানুষের মধ্যে আরও ভয় এবং প্রতিরোধ তৈরি করছে।
নির্যাতনের অভিযোগও বাড়ছে
সেনা নিয়োগ কর্মকর্তাদের ওপর হামলার পাশাপাশি নিয়োগ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ক্ষমতার অপব্যবহার, মারধর এবং বেআইনি আটকের অভিযোগ উঠেছে।
একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক জানান, সেনা নিয়োগ থেকে অব্যাহতি থাকা সত্ত্বেও তাকে জোর করে একটি গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয় এবং বাধা দিলে মারধরের শিকার হতে হয়। পরে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। তিনি আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দায়ের করেছেন।
যুদ্ধফেরত সেনাদের হতাশা
যুদ্ধে অংশ নেওয়া অনেক সেনা সদস্য মনে করছেন, দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে লড়াই করার পর এখন তারাই মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়ছেন। একজন যুদ্ধফেরত সেনা জানান, রণাঙ্গনে বহু ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বেঁচে ফিরলেও দেশে ফিরে সেনা নিয়োগ অভিযানে অংশ নিতে গিয়ে হামলার শিকার হন।
তার মতে, সামনের সারিতে থাকা সেনাদের বদলি প্রয়োজন হলেও স্বেচ্ছায় যোগ দিতে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা খুবই কম। ফলে কর্তৃপক্ষ কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে।
সমাধানের পথ এখনও অনিশ্চিত
সেনা নিয়োগ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে বিভিন্ন সংস্কার নিয়ে আলোচনা চলছে। নতুন সদস্যদের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদের চুক্তি, উন্নত বেতন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের মতো উদ্যোগ বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি নিয়োগ কার্যক্রমে আরও প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বড় ভূমিকার প্রস্তাবও এসেছে।
তবে এখন পর্যন্ত সংকটের কার্যকর সমাধান সামনে আসেনি। যুদ্ধ চলতে থাকায় জনবল সংকট এবং সামাজিক অসন্তোষ—দুই চ্যালেঞ্জই একসঙ্গে মোকাবিলা করতে হচ্ছে ইউক্রেনকে।




















