ইন্দোনেশিয়ায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৩২ হাজার ৩৮৯ জন শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। দেশটির জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য বলছে, উৎপাদন খাতের ধীরগতির প্রভাব এবং অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে ছাঁটাইয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে শ্রমিক নেতাদের দাবি, সরকারি পরিসংখ্যানে যে সংখ্যা দেখানো হয়েছে, বাস্তবে চাকরি হারানো মানুষের সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হতে পারে।
ছাঁটাইয়ের সর্বোচ্চ চাপ পশ্চিম জাভায়
জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের ‘সাতু ডাটা কেমনাকার’ (Satu Data Kemnaker) প্ল্যাটফর্মে সোমবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মোট ছাঁটাইয়ের মধ্যে ৬ হাজার ৭২৭ জনই পশ্চিম জাভার শ্রমিক। এটি জাতীয় মোট ছাঁটাইয়ের ২০ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
এরপর সবচেয়ে বেশি ছাঁটাই হয়েছে বানতেন প্রদেশে, যেখানে চাকরি হারিয়েছেন ৩ হাজার ৭৮২ জন। পূর্ব জাভায় ছাঁটাইয়ের সংখ্যা ২ হাজার ৮৫১।
সরকারি হিসাবের সীমাবদ্ধতা
জনশক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রকাশিত তথ্য কেবল চাকরি হারানো বীমা (Job Loss Insurance-JKP) কর্মসূচির আওতাভুক্ত শ্রমিকদের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।
সরকারি বিধান অনুযায়ী, যারা স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়েছেন, অবসরে গেছেন, স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়েছেন অথবা মারা গেছেন, তারা এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত নন। ফলে সরকারি তথ্য দেশের সামগ্রিক শ্রমবাজারের পুরো চিত্র তুলে ধরে না।

শ্রমিক নেতাদের দাবি, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি
রাষ্ট্রপতির শ্রম ও শ্রমিক কল্যাণবিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা সাঈদ ইকবাল বলেছেন, জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত পরিসংখ্যান বাস্তব পরিস্থিতির তুলনায় কম হতে পারে।
তিনি, যিনি একই সঙ্গে কনফেডারেশন অব ইন্দোনেশিয়ান ট্রেড ইউনিয়নস (KSPI)-এর সভাপতি এবং লেবার পার্টির চেয়ারম্যান, বলেন, অনেক ছাঁটাইয়ের ঘটনা সরকারি তথ্যভান্ডারে অন্তর্ভুক্ত হয় না। তাই প্রকৃতপক্ষে চাকরি হারানো শ্রমিকের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি বলে তিনি মনে করেন।
বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রভাব
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন খাতে ছাঁটাই বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে উপ-জনশক্তিমন্ত্রী আফ্রিয়ানসিয়াহ নূর বলেন, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সম্ভাব্য আরও ছাঁটাই মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো একটি বিশেষ ‘লেঅফ টাস্কফোর্স’ গঠন করেছেন।
সরকারের আশা, এই টাস্কফোর্স সম্ভাব্য কর্মসংস্থান সংকট পর্যবেক্ষণ, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে ভূমিকা রাখবে।
ইন্দোনেশিয়ার উৎপাদন খাতের গতি শ্লথ হয়ে পড়ায় শ্রমবাজারে চাপ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে সরকারি তথ্যের বাইরে থাকা ছাঁটাইয়ের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
ইন্দোনেশিয়ায় প্রথমার্ধে ৩২ হাজারের বেশি শ্রমিক ছাঁটাই; উৎপাদন খাতের ধীরগতির মধ্যে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে দাবি শ্রমিক নেতাদের।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















