গাজার অস্থায়ী শরণার্থী শিবিরগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে গুটিবসন্ত। অতিরিক্ত ভিড়, নিরাপদ পানির সংকট এবং ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি মানার সুযোগ না থাকায় বিশেষ করে শিশুরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, রোগীকে আলাদা রাখার সুযোগ না থাকায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
শিবিরে বেড়েছে সংক্রণের চাপ
গাজার বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে গুটিবসন্তের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত অসংখ্য মানুষ ছোট ছোট তাঁবুতে একসঙ্গে বসবাস করছেন। ফলে একজন আক্রান্ত হলে খুব দ্রুত অন্যদের মধ্যেও রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।
আট বছরের এক শিশুর শরীরে লাল ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ার পর চিকিৎসক তাকে আলাদা রেখে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পরামর্শ দিলেও পরিবারের পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ পরিবারের সবাইকে একই ছোট তাঁবুতেই থাকতে হচ্ছে।

ভিড় ও পানির সংকট বড় বাধা
স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, গুটিবসন্ত শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে সহজেই ছড়ায়। তাই আক্রান্ত ব্যক্তিকে কিছুদিন আলাদা রাখা জরুরি। কিন্তু শরণার্থী শিবিরে একটি তাঁবুতেই অনেক সদস্যের বসবাস হওয়ায় সেই সুযোগ নেই।
পরিবারগুলোর অভিযোগ, সপ্তাহে মাত্র একবার পানি পাওয়া যায় এবং সেটিও পর্যাপ্ত বা পরিষ্কার নয়। সাবান, শ্যাম্পু কিংবা অন্যান্য পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী সংগ্রহ করাও অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে রোগের বিস্তার ঠেকানো আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
শিশুদের জন্য বাড়ছে দুর্ভোগ
শিবিরে বসবাসকারী শিশুদের অনেকেই ত্বকের চুলকানি, জ্বর ও ফুসকুড়িতে ভুগছে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের পাশাপাশি ইঁদুর ও অন্যান্য কীটপতঙ্গের উপস্থিতিও তাদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। অনেক শিশু রাতে স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতেও পারছে না।

চিকিৎসকদের মতে, সাধারণ অবস্থায় গুটিবসন্ত অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণযোগ্য হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে রোগীদের পরিচর্যা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়ছে চাপ
স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, গুটিবসন্তের পাশাপাশি শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, ডায়রিয়া এবং বিভিন্ন ত্বকের রোগও বাড়ছে। এতে চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে রোগীর চাপ ক্রমেই বেড়ে চলেছে।
তাদের মতে, শুধু ওষুধ দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। নিরাপদ আবাসন, পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি, উন্নত স্যানিটেশন এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত না হলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















