গ্রীষ্মের দীর্ঘ ছুটিতে অনেক পরিবারেরই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় শিশুদের খাবার খাওয়ানো। বিশেষ করে সবজি বা নতুন কোনো খাবার সামনে এলেই অনেক শিশু অনীহা দেখায়। তবে একটু ধৈর্য, কৌশল আর ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে পারলে এই সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছে
খাবার পরিবেশনের ধরন বদলান
শিশুরা অনেক সময় একই খাবার ভিন্নভাবে পরিবেশন করলে আগ্রহ নিয়ে খেতে শুরু করে। সবজি ছোট ছোট টুকরো করে, মজাদারভাবে রান্না করে বা তাদের পছন্দের খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে পরিবেশন করলে গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে পারে। পাস্তা, ভাত বা অন্যান্য পরিচিত খাবারের সঙ্গে সবজি যুক্ত করাও কার্যকর হতে পারে।
জোর করবেন না, ধৈর্য ধরুন

শিশুকে জোর করে পুরো প্লেট শেষ করতে বাধ্য করলে খাবারের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হতে পারে। বরং খাবার সামনে রাখুন, খেতে উৎসাহ দিন এবং কোনো খাবার না খেলেও সেটিকে নিয়মিত পরিবেশন করুন। সময়ের সঙ্গে অনেক শিশুই ধীরে ধীরে নতুন খাবারের প্রতি আগ্রহ দেখায়।
নতুন খাবার বারবার দিন
একবার না খেলে সেই খাবার বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। একই খাবার বারবার পরিচয় করিয়ে দিলে একসময় শিশুরা সেটি গ্রহণ করতে পারে। স্বাদ, গন্ধ বা রঙের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্য অনেক সময় একাধিকবার চেষ্টা দরকার হয়।
পরিবারের সবাই একসঙ্গে খাওয়ার অভ্যাস গড়ুন
পরিবারের অন্য সদস্যদের একই খাবার খেতে দেখলে শিশুরাও আগ্রহী হয়। একসঙ্গে বসে খাবার খাওয়া এবং খাবার তৈরির ছোটখাটো কাজে শিশুদের যুক্ত করলে তাদের কৌতূহল বাড়ে। একই সঙ্গে প্লেটে অতিরিক্ত খাবার না দিয়ে পরিমিত পরিমাণ পরিবেশন করাও গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্যকর নাশতায় জোর দিন
সারাদিন অপ্রয়োজনীয় নাশতা খেলে রাতের খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যায়। তাই ফল, শসা, গাজর বা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর খাবার নাশতা হিসেবে দেওয়া যেতে পারে। তবে মাঝেমধ্যে পছন্দের খাবার খেতে দেওয়া নিয়েও অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন নয়, বরং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের ভারসাম্যের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি
খাবার বেছে খাওয়া শিশুদের মধ্যে অস্বাভাবিক নয়। তবে যদি কোনো শিশু দীর্ঘদিন ধরে অনেক ধরনের খাবার সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলে, খুব সীমিত পরিমাণে খায় বা এর কারণে স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















