বিশ্বজুড়ে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চাহিদা দ্রুত বাড়তে থাকায় নতুন প্রজন্মের কম খরচের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্রের দাম প্রচলিত প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্রের অর্ধেকেরও কম হবে, ফলে দ্রুত উৎপাদন এবং বৃহৎ পরিসরে মোতায়েন করা সহজ হবে।
নতুন ক্ষেপণাস্ত্রে কমবে ব্যয়
নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটির নাম রাখা হয়েছে ‘পিএসি-৩ অভিযোজিত সক্ষমতা প্রতিরোধক’। এটি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে কাজ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, এটি যুদ্ধবিমান, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম। যদিও নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটির নির্দিষ্ট মূল্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে জানানো হয়েছে যে এটি প্রচলিত পিএসি-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অর্ধেকেরও কম খরচে তৈরি করা সম্ভব।
কেন বাড়ছে চাহিদা
সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংঘাতের কারণে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মজুদের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চললে পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে কম খরচে বেশি সংখ্যায় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা
লকহিড মার্টিন জানিয়েছে, নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে উন্নয়ন, পরীক্ষা ও মোতায়েনের পুরো প্রক্রিয়া আগের তুলনায় অনেক দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।
এছাড়া ইউরোপের প্রতিরক্ষা শিল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী হবে এবং ভবিষ্যতে উৎপাদনের গতি বাড়ানো সহজ হবে।
বিশ্বজুড়ে আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের প্রতিযোগিতা যখন তীব্র হচ্ছে, তখন কম খরচে কার্যকর প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্র বাজারে আনা প্রতিরক্ষা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।




















