০৮:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
৩০ জুলাই দেশজুড়ে ১৮ ঘণ্টা সিএনজি স্টেশন বন্ধের ঘোষণা, চার দফা দাবি পূরণ না হলে আগস্টে অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি বগুড়ায় পুকুরে ডুবে তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিক ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব ইসির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেল অবরোধ প্রত্যাহার, ৯ ঘণ্টা পর সারা দেশের সঙ্গে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নয়, যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদনশীলতা বাড়াচ্ছে একাধিক পরিবর্তন করাচিতে নিখোঁজ নাদরা কর্মকর্তা, সাংবাদিক সোহেল সাঙ্গির ছেলেকে উদ্ধারে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান ডিগ্রির বদলে দক্ষতার পথে ঝুঁকছে তরুণরা, কর্মসংস্থানের নতুন সমীকরণ গড়ছে নতুন প্রজন্ম বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক ইয়ামাল, বদলে যাওয়া স্পেনের নতুন মুখ আসামে প্রতি বছর ভয়াবহ বন্যা কেন? শুধু ব্রহ্মপুত্র নয়, সংকটের পেছনে লুকিয়ে আরও বহু কারণ পাকিস্তানের ‘হরপ্পা মুহূর্ত’: ৫ হাজার বছরের সভ্যতা ও ১৯৪৭ সালের রাষ্ট্রপরিচয়ের দ্বন্দ্ব

মেসির নীরব বিদায়, আর্জেন্টিনার অপূর্ণ উৎসব এবং ফুটবলের আবেগের নতুন বাস্তবতা

বিশ্বকাপ ফাইনালে পরাজয়ের পর একটি দেশের মানসিক অবস্থাকে সব সময় স্কোরলাইন দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। কখনও কখনও একটি হার কেবল একটি ট্রফি হারানোর গল্প নয়; সেটি হয়ে ওঠে একটি যুগের সমাপ্তি, জাতীয় প্রত্যাশার ভাঙন এবং বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়ানোর মুহূর্ত। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর যে দৃশ্য তৈরি হয়েছে, সেটি ঠিক তেমনই এক অধ্যায়।

দুই বছর আগে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে যে দল কোটি মানুষের উল্লাসের কেন্দ্রবিন্দু ছিল, এবার সেই একই দল ফিরছে অনেক বেশি নীরব, অনেক বেশি সংযত পরিবেশে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, দলের প্রতীক লিওনেল মেসি সঙ্গে সঙ্গেই দেশে না ফিরে যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হয়তো এটি কেবল ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, কিন্তু প্রতীকী অর্থে এটি আর্জেন্টাইন ফুটবলের এক নতুন বাস্তবতারও ইঙ্গিত।

পরাজয়ের পর মেসির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তায় হতাশা যেমন ছিল, তেমনি ছিল অর্জনের স্বীকৃতিও। তিনি ব্যথার কথা বলেছেন, আবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে টানা দুটি বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠাও একটি বিরল সাফল্য। আধুনিক ফুটবলে ধারাবাহিকভাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে টিকে থাকা নিজেই একটি বড় অর্জন, যদিও শেষ পর্যন্ত শিরোপা হাতে না উঠলে সেটি প্রায়ই আড়ালে পড়ে যায়।

সমস্যা হলো, সমর্থকদের স্মৃতিতে সাধারণত বিজয়ই দীর্ঘস্থায়ী হয়। রানার্সআপ হওয়ার গৌরব খুব কম সময়ই জনমনে একই মর্যাদা পায়। ফলে এই দলের সাফল্যের পরিধি মূল্যায়নের পরিবর্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে শেষ ম্যাচের ফলাফল।

End of era': Argentina fans mourn after Lionel Messi's World Cup farewell |  Flashscore.com

আরও একটি বিষয় এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে—বর্তমান ফুটবলের ভৌগোলিক বাস্তবতা বদলে গেছে। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বড় অংশই ইউরোপ বা উত্তর আমেরিকার ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর তাদের অনেকেরই দ্রুত নিজ নিজ ক্লাব বা ব্যক্তিগত জীবনে ফিরে যাওয়া স্বাভাবিক। অতীতের মতো দীর্ঘ জাতীয় উদ্‌যাপন এখন আর সবসময় সম্ভব হয় না।

এ কারণেই বিশ্বকাপ-পরবর্তী আর্জেন্টিনার পরিকল্পনাগুলোও দ্রুত বদলে গেছে। সম্ভাব্য জাতীয় ছুটি, বিশাল জনসমাবেশ কিংবা রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা—সবই একসময় আলোচনায় ছিল। কিন্তু দলের উল্লেখযোগ্য অংশ দেশে না ফেরায় সেই পরিকল্পনাগুলো কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়ে। এটি দেখিয়ে দেয় যে আবেগের পাশাপাশি বাস্তবতারও একটি কঠিন সীমা রয়েছে।

এখানে রাষ্ট্রের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলার সাফল্য বা ব্যর্থতাকে রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা বিশ্বের বহু দেশেই দেখা যায়। সরকার জনউৎসবের আয়োজন করতে চেয়েছে, রাষ্ট্রপতির ভবনের বারান্দা ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে, জাতীয় ছুটির কথাও এসেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত উৎসবের নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে নয়; সেটি নির্ধারণ করে খেলোয়াড়দের সিদ্ধান্ত এবং পরিস্থিতির বাস্তবতা।

ফাইনালের রাতেই বুয়েনস আইরেসে সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষও আরেকটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন সামনে এনেছে। ফুটবল যে জাতীয় ঐক্যের ভাষা, সেটি সত্য। কিন্তু একই সঙ্গে এটি জননিরাপত্তা, জনসমাগম এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনারও একটি কঠিন পরীক্ষা। আবেগ নিয়ন্ত্রণের বদলে যদি সংঘাত তৈরি হয়, তাহলে একটি ক্রীড়া মুহূর্ত অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে ঢাকা পড়ে।

Soccer Superstar Lionel Messi Secures World Cup Win. Here's a Look Back at  His Career. - WSJ

এই পুরো ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রতীক অবশ্যই মেসি। যদি এটি সত্যিই আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর শেষ বিশ্বকাপ হয়, তাহলে তাঁর বিদায় কোনো ট্রফি হাতে উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে নয়, বরং সংযত কৃতজ্ঞতা ও অপূর্ণতার অনুভূতির মধ্য দিয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কিন্তু সেটিই হয়তো একজন মহান খেলোয়াড়ের উত্তরাধিকারের প্রকৃত পরিমাপ নয়।

মেসির ক্যারিয়ার ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা এবং অসংখ্য ব্যক্তিগত সাফল্যে পরিপূর্ণ। একটি ফাইনালের হার সেই ইতিহাসকে বদলে দিতে পারে না। বরং তাঁর প্রতিক্রিয়া—পরাজয় মেনে নেওয়া, প্রতিপক্ষকে অভিনন্দন জানানো এবং সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ—দেখিয়ে দেয় যে কিংবদন্তির পরিচয় কেবল জয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

আর্জেন্টিনার জন্যও এই পরাজয়কে একইভাবে দেখা উচিত। একটি বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে, কিন্তু একটি শক্তিশালী প্রজন্মের উত্তরাধিকার শেষ হয়ে যায়নি। ফুটবলে সাফল্যের ধারাবাহিকতা কেবল ট্রফির সংখ্যা দিয়ে নয়, প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে বারবার ফিরে আসার সক্ষমতা দিয়েও পরিমাপ করা হয়।

সম্ভবত এ কারণেই এই প্রত্যাবর্তনকে কেবল হতাশার গল্প বলা ঠিক হবে না। এটি এমন একটি দেশের গল্প, যে আবারও বিশ্বমঞ্চের শেষ পর্যন্ত লড়েছে; এমন একটি দলের গল্প, যারা জয়ের খুব কাছে গিয়েও ব্যর্থ হয়েছে; এবং এমন এক অধিনায়কের গল্প, যার নীরব বিদায় হয়তো উৎসবের চেয়ে বেশি দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকবে সমর্থকদের স্মৃতিতে।

জনপ্রিয় সংবাদ

৩০ জুলাই দেশজুড়ে ১৮ ঘণ্টা সিএনজি স্টেশন বন্ধের ঘোষণা, চার দফা দাবি পূরণ না হলে আগস্টে অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি

মেসির নীরব বিদায়, আর্জেন্টিনার অপূর্ণ উৎসব এবং ফুটবলের আবেগের নতুন বাস্তবতা

০১:৪৭:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ ফাইনালে পরাজয়ের পর একটি দেশের মানসিক অবস্থাকে সব সময় স্কোরলাইন দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। কখনও কখনও একটি হার কেবল একটি ট্রফি হারানোর গল্প নয়; সেটি হয়ে ওঠে একটি যুগের সমাপ্তি, জাতীয় প্রত্যাশার ভাঙন এবং বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়ানোর মুহূর্ত। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর যে দৃশ্য তৈরি হয়েছে, সেটি ঠিক তেমনই এক অধ্যায়।

দুই বছর আগে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে যে দল কোটি মানুষের উল্লাসের কেন্দ্রবিন্দু ছিল, এবার সেই একই দল ফিরছে অনেক বেশি নীরব, অনেক বেশি সংযত পরিবেশে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, দলের প্রতীক লিওনেল মেসি সঙ্গে সঙ্গেই দেশে না ফিরে যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হয়তো এটি কেবল ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, কিন্তু প্রতীকী অর্থে এটি আর্জেন্টাইন ফুটবলের এক নতুন বাস্তবতারও ইঙ্গিত।

পরাজয়ের পর মেসির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তায় হতাশা যেমন ছিল, তেমনি ছিল অর্জনের স্বীকৃতিও। তিনি ব্যথার কথা বলেছেন, আবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে টানা দুটি বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠাও একটি বিরল সাফল্য। আধুনিক ফুটবলে ধারাবাহিকভাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে টিকে থাকা নিজেই একটি বড় অর্জন, যদিও শেষ পর্যন্ত শিরোপা হাতে না উঠলে সেটি প্রায়ই আড়ালে পড়ে যায়।

সমস্যা হলো, সমর্থকদের স্মৃতিতে সাধারণত বিজয়ই দীর্ঘস্থায়ী হয়। রানার্সআপ হওয়ার গৌরব খুব কম সময়ই জনমনে একই মর্যাদা পায়। ফলে এই দলের সাফল্যের পরিধি মূল্যায়নের পরিবর্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে শেষ ম্যাচের ফলাফল।

End of era': Argentina fans mourn after Lionel Messi's World Cup farewell |  Flashscore.com

আরও একটি বিষয় এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে—বর্তমান ফুটবলের ভৌগোলিক বাস্তবতা বদলে গেছে। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বড় অংশই ইউরোপ বা উত্তর আমেরিকার ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর তাদের অনেকেরই দ্রুত নিজ নিজ ক্লাব বা ব্যক্তিগত জীবনে ফিরে যাওয়া স্বাভাবিক। অতীতের মতো দীর্ঘ জাতীয় উদ্‌যাপন এখন আর সবসময় সম্ভব হয় না।

এ কারণেই বিশ্বকাপ-পরবর্তী আর্জেন্টিনার পরিকল্পনাগুলোও দ্রুত বদলে গেছে। সম্ভাব্য জাতীয় ছুটি, বিশাল জনসমাবেশ কিংবা রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা—সবই একসময় আলোচনায় ছিল। কিন্তু দলের উল্লেখযোগ্য অংশ দেশে না ফেরায় সেই পরিকল্পনাগুলো কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়ে। এটি দেখিয়ে দেয় যে আবেগের পাশাপাশি বাস্তবতারও একটি কঠিন সীমা রয়েছে।

এখানে রাষ্ট্রের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলার সাফল্য বা ব্যর্থতাকে রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা বিশ্বের বহু দেশেই দেখা যায়। সরকার জনউৎসবের আয়োজন করতে চেয়েছে, রাষ্ট্রপতির ভবনের বারান্দা ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে, জাতীয় ছুটির কথাও এসেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত উৎসবের নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে নয়; সেটি নির্ধারণ করে খেলোয়াড়দের সিদ্ধান্ত এবং পরিস্থিতির বাস্তবতা।

ফাইনালের রাতেই বুয়েনস আইরেসে সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষও আরেকটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন সামনে এনেছে। ফুটবল যে জাতীয় ঐক্যের ভাষা, সেটি সত্য। কিন্তু একই সঙ্গে এটি জননিরাপত্তা, জনসমাগম এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনারও একটি কঠিন পরীক্ষা। আবেগ নিয়ন্ত্রণের বদলে যদি সংঘাত তৈরি হয়, তাহলে একটি ক্রীড়া মুহূর্ত অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে ঢাকা পড়ে।

Soccer Superstar Lionel Messi Secures World Cup Win. Here's a Look Back at  His Career. - WSJ

এই পুরো ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রতীক অবশ্যই মেসি। যদি এটি সত্যিই আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর শেষ বিশ্বকাপ হয়, তাহলে তাঁর বিদায় কোনো ট্রফি হাতে উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে নয়, বরং সংযত কৃতজ্ঞতা ও অপূর্ণতার অনুভূতির মধ্য দিয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কিন্তু সেটিই হয়তো একজন মহান খেলোয়াড়ের উত্তরাধিকারের প্রকৃত পরিমাপ নয়।

মেসির ক্যারিয়ার ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা এবং অসংখ্য ব্যক্তিগত সাফল্যে পরিপূর্ণ। একটি ফাইনালের হার সেই ইতিহাসকে বদলে দিতে পারে না। বরং তাঁর প্রতিক্রিয়া—পরাজয় মেনে নেওয়া, প্রতিপক্ষকে অভিনন্দন জানানো এবং সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ—দেখিয়ে দেয় যে কিংবদন্তির পরিচয় কেবল জয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

আর্জেন্টিনার জন্যও এই পরাজয়কে একইভাবে দেখা উচিত। একটি বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে, কিন্তু একটি শক্তিশালী প্রজন্মের উত্তরাধিকার শেষ হয়ে যায়নি। ফুটবলে সাফল্যের ধারাবাহিকতা কেবল ট্রফির সংখ্যা দিয়ে নয়, প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে বারবার ফিরে আসার সক্ষমতা দিয়েও পরিমাপ করা হয়।

সম্ভবত এ কারণেই এই প্রত্যাবর্তনকে কেবল হতাশার গল্প বলা ঠিক হবে না। এটি এমন একটি দেশের গল্প, যে আবারও বিশ্বমঞ্চের শেষ পর্যন্ত লড়েছে; এমন একটি দলের গল্প, যারা জয়ের খুব কাছে গিয়েও ব্যর্থ হয়েছে; এবং এমন এক অধিনায়কের গল্প, যার নীরব বিদায় হয়তো উৎসবের চেয়ে বেশি দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকবে সমর্থকদের স্মৃতিতে।