দিল্লিতে অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে তাঁর পছন্দের বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, একজন নাগরিক হিসেবে নিজের চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাঁর মৌলিক অধিকারের অংশ।
আদালতের নির্দেশ
দিল্লি হাইকোর্ট জানিয়েছে, বর্তমানে সরকারি হাসপাতালে থাকা সোনম ওয়াংচুককে দ্রুত বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালে থাকা তাঁর সব চিকিৎসা নথি ও পরীক্ষার প্রতিবেদন নতুন হাসপাতালে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, নতুন হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল গঠন করে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে হবে।
মৌলিক অধিকারের বিষয়টি গুরুত্ব পেল
রায়ে আদালত উল্লেখ করেছে, সংবিধানে স্বীকৃত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জীবন-জীবিকার অধিকারের সঙ্গে চিকিৎসা বেছে নেওয়ার বিষয়টিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সেই বিবেচনায় ওয়াংচুককে নিজের পছন্দের হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
শুনানিতে সরকারের পক্ষ থেকেও এই স্থানান্তরে আপত্তি নেই বলে জানানো হয়। এরপরই আদালত স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়।
![]()
অনশন ও স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ
সোনম ওয়াংচুক দীর্ঘদিন ধরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেওয়ায় আদালত চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিবেদন তলব করে। শুনানিতে চিকিৎসকদের কাছে তাঁর রক্তের কিছু সূচক বৃদ্ধি পাওয়ার কারণও জানতে চাওয়া হয়।
চিকিৎসকদের ব্যাখ্যায় বলা হয়, দীর্ঘ সময় অনশনের কারণে শরীরে স্বাভাবিক বিপাকীয় পরিবর্তন ঘটতে পারে, যার প্রভাব পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর নিয়মিত নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।
আগের সিদ্ধান্ত বদলে নতুন নির্দেশ
এর আগে নিম্ন আদালতে তাঁকে সরকারি হাসপাতাল থেকে সরানোর আবেদন নাকচ হয়েছিল। পরে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে উচ্চ আদালত বিষয়টি নতুনভাবে বিবেচনা করে এবং চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পছন্দের হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দেয়।
এই নির্দেশের ফলে ওয়াংচুকের চিকিৎসা নতুন ব্যবস্থাপনায় চলবে এবং তাঁর স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি দল দায়িত্ব পালন করবে।
দিল্লি হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্ত ব্যক্তি স্বাধীনতা, চিকিৎসা গ্রহণের অধিকার এবং সাংবিধানিক সুরক্ষার প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে আলোচনায় এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















