ভারতের সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। শিক্ষাব্যবস্থা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশের কঠোর অবস্থানের প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের সংসদ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন। এর কিছুক্ষণ পরই সরকার বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনার আগ্রহ দেখায়।
প্রধানমন্ত্রীর জবাব দাবি বিরোধীদের
বিক্ষোভে অংশ নিয়ে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের জবাব সরকার এড়িয়ে যাচ্ছে। তার দাবি, সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার সুযোগও বিরোধীদের দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার দায় এড়ানো যায় না।
তিনি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেন। রাহুলের অভিযোগ, দেশের পরীক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং শিক্ষার্থীদের উদ্বেগকে গুরুত্ব না দিয়ে সরকার দমনমূলক পথ বেছে নিয়েছে।
সংসদে আলোচনার ইঙ্গিত
বিক্ষোভ চলাকালেই সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে তারা প্রস্তুত।
তবে কংগ্রেস জানিয়েছে, শুধু আলোচনা নয়, সাম্প্রতিক ঘটনার দায় স্বীকার করে সংশ্লিষ্ট শীর্ষ নেতাদের পদত্যাগের দাবিতেও তারা অনড় রয়েছে।
![]()
শিক্ষার্থী আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা
একদিন আগে রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
রাহুল গান্ধী সংসদ প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের বলেন, দেশের তরুণদের জন্য সুযোগের ক্ষেত্র ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ব্যবস্থার ওপরও মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে। তার মতে, শিক্ষার্থীরা শুধু বর্তমান পরিস্থিতির নয়, নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বিগ্ন।
আহতদের খোঁজ নিলেন রাহুল
সংসদে বক্তব্য দেওয়ার পর রাহুল গান্ধী আহত আন্দোলনকারীদের দেখতে হাসপাতালে যান। পরে সেখান থেকে তিনি কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ দলের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিরা সরকারের কাছে তাদের দাবি লিখিতভাবে তুলে দিয়েছেন। রাজধানীর কিছু এলাকায় এখনো সমাবেশের ওপর বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে। তবুও আন্দোলনের আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে।
শিক্ষা সংস্কারক ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অনশন অব্যাহত রেখেছেন। তার শারীরিক অবস্থার ওপর চিকিৎসকদের নজরদারি চলছে।
রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভের পর শিক্ষার্থী আন্দোলন ইস্যুতে ভারতের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সরকার সংসদে আলোচনার ইঙ্গিত দিলেও বিরোধীরা তাদের পদত্যাগের দাবি থেকে সরে আসেনি।
রাহুল গান্ধীর বিক্ষোভের পর শিক্ষার্থী আন্দোলন ইস্যুতে ভারতের রাজনীতিতে উত্তেজনা বেড়েছে। সংসদে আলোচনার ইঙ্গিত দিলেও বিরোধীরা পদত্যাগের দাবিতে অনড়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















