কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে যুদ্ধের ধরনও বদলে যেতে পারে। সিলিকন ভ্যালির একদল উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, ভবিষ্যতের যুদ্ধে স্বয়ংক্রিয় রোবট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তবে এই প্রযুক্তি নিয়ে নৈতিকতা, নিরাপত্তা ও মানব নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগও বাড়ছে।
অস্ত্র বহনকারী রোবট তৈরিতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ
সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ফাউন্ডেশন ২০২৪ সালে যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি মানবসদৃশ রোবট তৈরির পাশাপাশি সামরিক ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও কাজ করছে। সম্প্রতি তাদের তৈরি ফ্যান্টম নামের একটি রোবটের ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যেখানে সেটিকে মর্টার বহন করতে দেখা যায়।
প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা সানকেত পাঠক মনে করেন, ভবিষ্যতে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবস্থার মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। তার মতে, এসব রোবট শত্রুর মোকাবিলায় সেনাদের সহায়তা করতে এবং সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে এআই সামরিক ব্যবহারে নতুন উদ্যোগ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন এআই-চালিত অস্ত্র ব্যবহারের নীতিমালা নতুন করে পর্যালোচনা করছে। সামরিক বাহিনীতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এমন ড্রোন ও রোবট তৈরি হতে পারে যেগুলো প্রথমে মানুষের নির্দেশে সক্রিয় হবে, এরপর নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নিজেরাই লক্ষ্য নির্বাচন ও আক্রমণের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
তবে নীতিনির্ধারকেরা বলছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে চূড়ান্ত দায়িত্ব মানুষের হাতেই থাকতে হবে।
মানব নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা
স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবস্থার বিরোধীরা বলছেন, জীবন-মৃত্যুর সিদ্ধান্ত কোনো যন্ত্রের হাতে ছেড়ে দেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। মানবাধিকার সংগঠন, কূটনীতিক এবং অনেক প্রযুক্তিবিদ আশঙ্কা করছেন, ভুল সিদ্ধান্ত বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন মহলে দীর্ঘদিন ধরেই স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বা নিষিদ্ধ করার আলোচনা চলছে। সমালোচকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ কমে গেলে জবাবদিহি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও মতভেদ
এআই শিল্পেও এই বিষয় নিয়ে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। কিছু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সামরিক সহযোগিতায় এগিয়ে গেলেও অনেক গবেষক মনে করছেন, বর্তমান এআই প্রযুক্তি এখনো জীবন-মৃত্যুর মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য নয়।
কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের প্রযুক্তি ব্যবহারে মানব অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার নীতি গ্রহণ করেছে। অন্যদিকে, সামরিক প্রযুক্তি সমর্থকেরা বলছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো একই ধরনের প্রযুক্তি তৈরি করলে পিছিয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
ভবিষ্যতের যুদ্ধ কেমন হবে
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই-নিয়ন্ত্রিত রোবট ও ড্রোন ভবিষ্যতের সামরিক ব্যবস্থার বড় অংশ হয়ে উঠতে পারে। তবে প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি নৈতিক নিয়ম, আন্তর্জাতিক আইন এবং মানব নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
সশস্ত্র রোবট নিয়ে বিতর্ক এখন শুধু প্রযুক্তির নয়, বরং মানবতার ভবিষ্যৎ নিয়েও একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















