ভারতের মেডিকেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজধানী দিল্লিতে নতুন করে বিক্ষোভে নেমেছেন হাজারো মানুষ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও আন্দোলনকারীরা বলছেন, শুধু আশ্বাস নয়, জবাবদিহি ও কাঠামোগত পরিবর্তনই এখন সময়ের দাবি।
মঙ্গলবার দিল্লির জন্তর মন্তরে পাঁচ হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারী জড়ো হন। একদিন আগে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রাকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পরও আন্দোলনের গতি থামেনি। তবে আন্দোলনের নেতারা জানিয়েছেন, আপাতত সংসদের দিকে আর কোনো মিছিল করা হবে না, যাতে সমর্থকদের নতুন করে সহিংসতার মুখে পড়তে না হয়।
প্রশ্নফাঁস ঘিরে ক্ষোভ

গত মে মাসে মেডিকেল কলেজে ভর্তির জাতীয় পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দেয়। এই পরীক্ষায় প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নেন। ঘটনাটি নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও তরুণদের দাবি, শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের দুর্নীতিরই বহিঃপ্রকাশ এই প্রশ্নফাঁস।
বিক্ষোভকারীরা শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ
দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সোমবারের সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং বিক্ষোভকারী মিলিয়ে প্রায় ১৮০ জন আহত হন। অন্যদিকে আন্দোলনের নেতাদের দাবি, আহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি এবং অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
পুলিশের বক্তব্য, বিক্ষোভকারীরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সহিংস আচরণ করেছিলেন। তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করা হয়েছে।
বিরোধী নেতাদের প্রতিবাদ

প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে বিরোধী নেতারাও মাঠে নেমেছেন। রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে প্রতিবাদ জানাতে গেলে কয়েকজন বিরোধী নেতাকে পুলিশ আটক করে। এই ঘটনাকে ঘিরেও রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
মোদির বার্তা
সরকারি জোটের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, প্রশ্নফাঁসের খবর পাওয়ার পরই সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পুনরায় পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্য পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
আন্দোলনের নতুন দিক
এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক একটি ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ থেকে। পরে তা দেশজুড়ে তরুণদের বড় আন্দোলনে রূপ নেয়। সাম্প্রতিক সময়ে পরিবেশ ও সামাজিক অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুকের সমর্থন আন্দোলনে নতুন গতি এনে দেয়।
এদিকে দিল্লি উচ্চ আদালতের নির্দেশে ওয়াংচুককে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীরা এটিকে তাদের দাবির আংশিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন।
তরুণদের ক্ষোভ বাড়ছেই
বিশ্লেষকদের মতে, প্রশ্নফাঁসের ঘটনা শুধু একটি পরীক্ষাকে নয়, দেশের লাখো তরুণের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আস্থাকেও বড় ধাক্কা দিয়েছে। কর্মসংস্থানের সংকটের পাশাপাশি নিয়মিত পরীক্ষা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তরুণ সমাজের ক্ষোভকে আরও তীব্র করে তুলেছে। তাই সরকারের আশ্বাসের পরও আন্দোলন আপাতত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















