শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে শিক্ষার্থীদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগও দাবি করেছেন।
সংসদে আলোচনা না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অভিযানের বিষয়ে সংসদে আলোচনা চাইলেও সরকার তাতে আগ্রহ দেখায়নি। এরপর বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতেই বিরোধী জোট প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।
পরে দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয় এবং রাহুল গান্ধীসহ একাধিক বিরোধী নেতাকে আটক করে। মুক্তির পর প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় রাহুল বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা নিয়ে সরকারের জবাবদিহি করা উচিত ছিল। কিন্তু সরকার সেই সুযোগ এড়িয়ে গেছে।

শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন
রাহুল গান্ধী বলেন, প্রশ্নফাঁস কেন বারবার ঘটছে, কেন উচ্চশিক্ষার ব্যয় সাধারণ পরিবারের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং কেন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছে—এসব প্রশ্নের জবাব সরকারের দিতে হবে।
তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর যে আচরণ হয়েছে, তার জন্য ক্ষমা চেয়ে দ্রুত পরীক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থায় কার্যকর সংস্কার শুরু করা উচিত। পাশাপাশি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা সব মামলা প্রত্যাহার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।
বিরোধী নেতাদের অংশগ্রহণ
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, অখিলেশ যাদব, সুপ্রিয়া সুলেসহ বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতারা অংশ নেন। কয়েক ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি চলার পর পুলিশ তাদের আটক করে। পরে সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আন্দোলনে সংঘর্ষ, আহত বহু মানুষ
শিক্ষার্থী ও যুব সংগঠনের ডাকা কর্মসূচিতে রাজধানীতে হাজারো মানুষ অংশ নেন। সংসদের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় বহু আন্দোলনকারী আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এক তরুণীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সরকারের পাল্টা বক্তব্য
অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান অভিযোগ করেছেন, বিরোধীরা শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। তার দাবি, সরকার শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে প্রস্তুত এবং পরীক্ষা পদ্ধতির সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় সংস্কারের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।
এদিকে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এ পর্যন্ত একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থা, প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে সাম্প্রতিক এই ঘটনাপ্রবাহ।
শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অভিযান নিয়ে রাহুল গান্ধীর ক্ষমা চাওয়ার দাবি, দুই মন্ত্রীর পদত্যাগের আহ্বান এবং শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কার নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















