রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় তিস্তা নদীর পানি আকস্মিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত দুটি বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। নদীর তীব্র ভাঙনে কৃষিজমি, বসতভিটা এবং বিভিন্ন স্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, অস্থায়ী ব্যবস্থা নয়, তিস্তার ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণই এখন সবচেয়ে জরুরি।
গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে তিস্তার পানি হঠাৎ বেড়ে গেলে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত দুটি বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। এরপর দ্রুত নদীর পানি আশপাশের গ্রামে ঢুকে পড়ে এবং বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।
স্থানীয়ভাবে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে প্রায় ১৫০ মিটার বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর ফলে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানির নিচে চলে গেছে এবং স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
ভাঙনের মুখে বসতবাড়ি ও অবকাঠামো
নদীভাঙনের কারণে শতাধিক বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, একটি মন্দির, সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
চর বাঘধোগড়া, চর কাছারি, চিলাখাল, বিনবিনিয়া ও মুকুটপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা জানান, শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং গবাদিপশু নিয়ে অনেক পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অনেকে স্বজনদের বাড়িতে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থায়ী সমাধানের দাবি
স্থানীয় বাসিন্দা মোনায়েম হোসেন বলেন, প্রতিবছরই নদীভাঙনে শত শত মানুষ ঘরবাড়ি হারান, কিন্তু সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয় না।
তার ভাষ্য, প্রায় ১৫০ মিটার বাঁধ ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে। মূল বাঁধ ভেঙে গেলে হাজারো মানুষ বসতভিটা হারাবে। কয়েক হাজার জিও ব্যাগ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়; স্থায়ী বাঁধ নির্মাণই একমাত্র সমাধান।
আরেক বাসিন্দা আবদুল করিম বলেন, কয়েকটি বাড়ি ইতোমধ্যেই নদীগর্ভে চলে গেছে। তার নিজের বাড়িটিও এখন ঝুঁকিতে। বসতভিটা হারালে পরিবার নিয়ে জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় গিয়ে রিকশা চালানো ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত মমিনুল ইসলাম জানান, বারবার নদীভাঙনে তাদের বাড়িঘর, কৃষিজমি, মসজিদ, মাদ্রাসা ও বিদ্যালয় বিলীন হয়েছে। তিনি বলেন, তারা ত্রাণ নয়, স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ চান।
প্রশাসনের পদক্ষেপ
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, বাঁধ রক্ষায় ইতোমধ্যে ৪ হাজার ৫০০টি জিও ব্যাগ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং তা ফেলার কাজ চলছে। প্রয়োজন হলে আরও জিও ব্যাগ সরবরাহ করা হবে। বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাম্মৎ জেসমিন আক্তার জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। নদীভাঙন ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তিস্তার ভাঙনে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বাঁধ ভেঙে প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি। কৃষিজমি ও বসতবাড়ি ঝুঁকিতে, স্থায়ী বাঁধের দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















