পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় চলমান মৌসুমি বৃষ্টিতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে পৌঁছেছে। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের কারণে বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কৃষিজমিরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু
সবশেষ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে আপার সাউথ ওয়াজিরিস্তানের একটি গ্রামে। প্রবল বৃষ্টির সময় একটি বাড়ির ছাদ ধসে পড়লে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী, তাদের ছেলে ও মেয়ে রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনাটি ভারী বর্ষণের মধ্যেই ঘটে।
চার দিনে বেড়েছে ক্ষয়ক্ষতি
প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ জুলাই থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টির মধ্যে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় মোট ১৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১৯ জন।
এ সময় ২৩টি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সাতটি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। পাশাপাশি ১৩টি গবাদিপশুও মারা গেছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশাসন সব জেলা কর্তৃপক্ষকে সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
ভূমিধসে বন্ধ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক
লোয়ার সাউথ ওয়াজিরিস্তানে ভারী বৃষ্টির কারণে ভূমিধসে ওয়ানা-গোমাল জাম সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। এটি ওই অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক পথ।
পাহাড় থেকে বড় বড় পাথর গড়িয়ে পড়ায় এবং সড়কের বিভিন্ন স্থানে গভীর গর্ত তৈরি হওয়ায় যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কয়েকটি কালভার্ট, সেতু ও সুরক্ষাব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে।
সড়ক চালুর কাজ চলছে
স্থানীয় প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, ভারী যন্ত্র ব্যবহার করে সড়ক পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে। বন্যার পানিতে বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মেরামতের কাজও একসঙ্গে চলছে। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে দ্রুত সড়কটি আবার যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় জনগণ দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির স্থায়ী সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি অচল হয়ে পড়ে, ফলে যোগাযোগ ও বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
সতর্ক অবস্থায় প্রশাসন
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে প্রদেশের নদী ও পাহাড়ি ছড়াগুলোর পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে নতুন করে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় সব সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জাতীয় পর্যায়েও মৌসুমি বৃষ্টি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক হয়েছে। সেখানে উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণসামগ্রীর প্রস্তুতি, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
খাইবার পাখতুনখোয়ায় চলমান এই বৃষ্টিপাত আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে নিচু এলাকা ও পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
খাইবার পাখতুনখোয়ায় টানা বৃষ্টিতে প্রাণহানি বেড়ে ১৮। ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা ও ক্ষয়ক্ষতির সর্বশেষ পরিস্থিতি এক প্রতিবেদনে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















