যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেও বিপজ্জনক নজির তৈরি করবে। তিনি বলেন, কোনো রাষ্ট্র যদি আন্তর্জাতিক জলপথ নিয়ন্ত্রণ করে জাহাজ চলাচলের জন্য অর্থ দাবি করতে পারে এবং অর্থ না দিলে জাহাজে হামলার হুমকি দেয়, তাহলে তা আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
বুধবার ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নিয়ে রুবিও এ মন্তব্য করেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, টানা ১১তম রাতের মতো তারা ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করার সক্ষমতা দুর্বল করতেই এসব হামলা পরিচালিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক নৌপথ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
রুবিও বলেন, ইরান এমন একটি অধিকার দাবি করছে, যার কোনো ভিত্তি বিদ্যমান আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোতে নেই। তার ভাষায়, হরমুজ প্রণালির মতো একটি আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর কোনো একক রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেওয়া হলে তা ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্য অঞ্চলগুলোতেও একই ধরনের দাবি উত্থাপনের পথ খুলে দিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম মৌলিক নীতি এবং এই নীতিকে দুর্বল হতে দেওয়া যাবে না।
দক্ষিণ চীন সাগরের প্রেক্ষাপট
রুবিওর এই বক্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন দক্ষিণ চীন সাগরে চীন এবং আসিয়ানের কয়েকটি সদস্য দেশের মধ্যে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে বিভিন্ন পক্ষের দাবিদাওয়া এবং উত্তেজনা আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
ফিলিপাইনে পৌঁছানোর পরপরই দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত এলাকায় চীনা ও ফিলিপিনো নাবিকদের সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র নিন্দা জানায়। এ ঘটনাও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত
আসিয়ান সম্মেলনের ফাঁকে বুধবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে রুবিওর। পাশাপাশি ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানসহ কোয়াডভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তার বৈঠক হওয়ার কথা।
ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো গঠনমূলক ও ইতিবাচক কূটনৈতিক আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে তার অভিযোগ, তেহরান আলোচনাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে না।
তিনি বলেন, ইরান যদি আন্তরিকভাবে আলোচনায় অংশ নেয় এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রও একইভাবে এগোবে। কিন্তু তা না হলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের এবং মিত্রদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই রুবিওর এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক জলপথের নিরাপত্তা, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতির গুরুত্বকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরানের অবস্থানকে ঘিরে মার্কো রুবিওর সতর্কবার্তা, আসিয়ান বৈঠকের কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















