যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা জেনেরিক ওষুধের ওপর ধাপে ধাপে উচ্চ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের জুলাই পর্যন্ত জেনেরিক ওষুধ আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্ক থাকবে না। তবে ওই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর থেকে ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে এবং এক বছর পর তা বেড়ে ২০০ শতাংশে পৌঁছাবে।
দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশি ওষুধ প্রস্তুতকারকদের যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন কারখানা স্থাপনে উৎসাহিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারা দেশটির ভেতরে উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তুলতে পারবে না, তাদের জন্য এই বাড়তি শুল্ক কার্যকর হবে। তবে পেটেন্ট ও ব্র্যান্ডভিত্তিক ওষুধের ক্ষেত্রে বর্তমান শুল্ক কাঠামো অপরিবর্তিত থাকবে।
সবচেয়ে বেশি চাপে ভারত
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত অধিকাংশ জেনেরিক ওষুধ আসে ভারত, চীন ও ইউরোপের বিভিন্ন উৎপাদন কেন্দ্র থেকে। এর মধ্যে ভারত একাই দেশটির মোট জেনেরিক ওষুধের প্রায় অর্ধেক সরবরাহ করে। ফলে নতুন ঘোষণার পর ভারতীয় ওষুধ কোম্পানিগুলোর শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভবিষ্যৎ রপ্তানি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের সংশয়
বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ওষুধ উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল। তাছাড়া উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক কাঁচামাল ও উপাদান বিদেশ থেকেই আমদানি করতে হবে। ফলে শুধু উচ্চ শুল্ক আরোপ করলেই উৎপাদন পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর হবে—এমনটি নিশ্চিত নয়।
তাদের আশঙ্কা, বিদেশি কম খরচের জেনেরিক ওষুধের সরবরাহ কমে গেলে যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধের দাম বাড়তে পারে। এতে সাধারণ রোগীদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের ওষুধ পাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
![]()
বড় কোম্পানিগুলোর সতর্ক অবস্থান
বিশ্বের অন্যতম বড় জেনেরিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, নতুন শুল্ক নীতির পূর্ণ প্রভাব এখনই মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধের সহজলভ্যতা ও সাশ্রয়ী মূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছে।
ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণে বৃহত্তর উদ্যোগ
জেনেরিক ওষুধে নতুন শুল্ক পরিকল্পনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে কম দামে প্রেসক্রিপশন ওষুধ সরবরাহের উদ্যোগও চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন। ইতোমধ্যে শত শত জেনেরিক ওষুধকে মূল্যছাড় কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি বড় ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে কম দামে ওষুধ সরবরাহের জন্য পৃথক সমঝোতাও হয়েছে।
নতুন শুল্ক নীতি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক ওষুধ বাণিজ্য, বিশেষ করে ভারতীয় ওষুধ রপ্তানি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধের বাজারে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে এখন থেকেই আলোচনা শুরু হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















