যুক্তরাষ্ট্রে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সরকারি অর্থায়নের কাঠামোতে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। নতুন পরিকল্পনায় বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণার পরিবর্তে ব্যক্তিগত বিজ্ঞানী এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেন্দ্রিক প্রকল্পে আরও বেশি অর্থ বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে এই পরিবর্তন জরুরি হয়ে উঠেছে।
গবেষণা অর্থায়নে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি
হোয়াইট হাউসের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নীতিবিষয়ক কার্যালয়ের প্রকাশিত নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী দিনের প্রতিযোগিতায় শুধু প্রচলিত গবেষণা নয়, বরং দ্রুত ফল দিতে সক্ষম উদ্ভাবন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গবেষণায় গুরুত্ব বাড়ানো হবে। এজন্য ফেডারেল গবেষণা তহবিলের একটি বড় অংশ নতুনভাবে বণ্টনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের মতে, গবেষণায় অর্থ ব্যবহারের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে নতুন উদ্ভাবনকে আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি মেধাবী বিজ্ঞানীদের সরাসরি সহায়তা দিলে গবেষণার গতি বাড়বে।
চীনকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই দশকে গবেষণা ও উন্নয়নে চীন বিপুল বিনিয়োগ করেছে এবং বর্তমানে এই খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সমপর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এমন পরিস্থিতিকে প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, বেইজিং বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। গবেষণা, শিল্প, শিক্ষা ও সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল বাস্তবায়ন করছে দেশটি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বাড়বে বিনিয়োগ
নতুন পরিকল্পনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ভবিষ্যতের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সে কারণে এই খাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন গবেষণা প্রকল্পে উৎসাহ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, গবেষণা অর্থায়নের এই পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে এই পদক্ষেপ।
গবেষণা তহবিলের নতুন এই নীতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নেতৃত্ব ধরে রাখার কৌশলকে আরও শক্তিশালী করতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















