০৭:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
গ্যাস লিক থেকে আগুন, সাভারে দগ্ধ দম্পতি আশঙ্কাজনক অবস্থায় ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবির মুখে নীরবতা, সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক ও শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের বার্তায় সক্রিয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চাঁদে মানুষ পাঠানোর আগে বড় মহড়া, দুই মহাকাশযান পরীক্ষা করবে নাসা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি, সরকারের কাছে শনিবার পর্যন্ত সময় আন্দোলনকারীদের চোটের কারণে সেরা ইয়ামালকে দেখা যায়নি, বললেন লেভানডোভস্কি উপবাস ভাঙতেই বিতর্ক, সোনম ওয়াংচুককে ঘিরে কংগ্রেস-বিজেপির তুমুল বাকযুদ্ধ ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে অটল আন্দোলনকারীরা, ফের বৈঠকে বসবে নড়াইলে কুপিয়ে হত্যা করা হলো ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে, আতঙ্কে এলাকাবাসী ট্রাম্পের নতুন শুল্কে বাণিজ্যচাপে বিশ্ব, ৬০ দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সিদ্ধান্ত হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু, দেশে মোট মৃত্যু ৮১০

আকাশপথে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত, নিজস্ব বিমান সংস্থা চালুর ভাবনায় আদানি

ভারতের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। দেশের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী আদানি গ্রুপ নিজস্ব বিমান সংস্থা চালুর সম্ভাবনা নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা করছে। এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বর্তমানে দুই বড় প্রতিষ্ঠানের প্রভাব থাকা বাজারে নতুন প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা

জানা গেছে, আদানি গ্রুপের অভ্যন্তরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে বিমান পরিবহন খাতকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এবং তুলনামূলকভাবে কম লাভজনক ব্যবসা হিসেবে বিবেচনা করা হয় বলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর আগে আদানি গ্রুপ জানিয়েছিল, তারা বিমানবন্দর পরিচালনায় আগ্রহী হলেও সরাসরি বিমান সংস্থা পরিচালনার পরিকল্পনা নেই। বর্তমান আলোচনা সেই অবস্থান থেকে সম্ভাব্য কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিমানবন্দর থেকে বিমান পরিচালনার পথে?

বর্তমানে আদানি গ্রুপ ভারতের আটটি বিমানবন্দর পরিচালনা করছে, যার মধ্যে মুম্বাইয়ের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরও রয়েছে। পাশাপাশি বিমানবন্দর সম্প্রসারণে তাদের বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনাও রয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, অবকাঠামো পরিচালনায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকায় বিমান পরিবহন ব্যবসায় প্রবেশ করলে আদানি গ্রুপ নতুন ধরনের প্রতিযোগিতা তৈরি করতে পারে। তবে একই সঙ্গে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্নও সামনে আসতে পারে, কারণ একটি প্রতিষ্ঠান একই সঙ্গে বিমানবন্দর ও বিমান সংস্থা পরিচালনা করলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন হবে।

Adani seeks clearance to own airline - The Economic Times

বাজারে দুই প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য

ভারতের অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহন বাজারে বর্তমানে দুটি প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই বাজারে প্রতিযোগিতা সীমিত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বড় প্রতিষ্ঠানের পরিচালনাগত সমস্যা, উড়োজাহাজ পরিচালনায় বিঘ্ন এবং যাত্রীসেবায় নানা চ্যালেঞ্জের কারণে নতুন শক্তিশালী প্রতিযোগীর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

সব বিকল্পই খোলা

আদানি গ্রুপ নতুন করে সম্পূর্ণ একটি বিমান সংস্থা চালুর পাশাপাশি বিদ্যমান কোনো প্রতিষ্ঠানে অংশীদার হওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। অর্থাৎ সম্ভাব্য বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একাধিক পথ খোলা রাখা হয়েছে।

তবে আলোচনাগুলো এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় সিদ্ধান্ত কবে হবে বা আদৌ হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি।

চ্যালেঞ্জও কম নয়

ভারতের বিমান পরিবহন খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও এটি লাভজনক ব্যবসা হিসেবে সব সময় সফল হয়নি। গত দেড় দশকে একাধিক বিমান সংস্থা আর্থিক সংকটে পড়ে কার্যক্রম বন্ধ করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ পরিচালন ব্যয়, তীব্র প্রতিযোগিতা, করের চাপ এবং উড়োজাহাজ সরবরাহসংক্রান্ত জটিলতা এই খাতের প্রধান চ্যালেঞ্জ। ফলে নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান বাজারে এলেও শুরু থেকেই কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে।

ভারতের বিমান পরিবহন খাতে আদানি গ্রুপের সম্ভাব্য প্রবেশ তাই এখন শুধু একটি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নয়, বরং ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতা, বিনিয়োগ এবং যাত্রীসেবার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

ভারতের বিমান পরিবহন খাতে আদানি গ্রুপের নতুন বিমান সংস্থা চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাজারে নতুন প্রতিযোগিতার সমীকরণ তৈরি হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্যাস লিক থেকে আগুন, সাভারে দগ্ধ দম্পতি আশঙ্কাজনক অবস্থায়

আকাশপথে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত, নিজস্ব বিমান সংস্থা চালুর ভাবনায় আদানি

০৫:৪৩:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

ভারতের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। দেশের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী আদানি গ্রুপ নিজস্ব বিমান সংস্থা চালুর সম্ভাবনা নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা করছে। এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বর্তমানে দুই বড় প্রতিষ্ঠানের প্রভাব থাকা বাজারে নতুন প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা

জানা গেছে, আদানি গ্রুপের অভ্যন্তরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে বিমান পরিবহন খাতকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এবং তুলনামূলকভাবে কম লাভজনক ব্যবসা হিসেবে বিবেচনা করা হয় বলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর আগে আদানি গ্রুপ জানিয়েছিল, তারা বিমানবন্দর পরিচালনায় আগ্রহী হলেও সরাসরি বিমান সংস্থা পরিচালনার পরিকল্পনা নেই। বর্তমান আলোচনা সেই অবস্থান থেকে সম্ভাব্য কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিমানবন্দর থেকে বিমান পরিচালনার পথে?

বর্তমানে আদানি গ্রুপ ভারতের আটটি বিমানবন্দর পরিচালনা করছে, যার মধ্যে মুম্বাইয়ের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরও রয়েছে। পাশাপাশি বিমানবন্দর সম্প্রসারণে তাদের বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনাও রয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, অবকাঠামো পরিচালনায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকায় বিমান পরিবহন ব্যবসায় প্রবেশ করলে আদানি গ্রুপ নতুন ধরনের প্রতিযোগিতা তৈরি করতে পারে। তবে একই সঙ্গে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্নও সামনে আসতে পারে, কারণ একটি প্রতিষ্ঠান একই সঙ্গে বিমানবন্দর ও বিমান সংস্থা পরিচালনা করলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন হবে।

Adani seeks clearance to own airline - The Economic Times

বাজারে দুই প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য

ভারতের অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহন বাজারে বর্তমানে দুটি প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই বাজারে প্রতিযোগিতা সীমিত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বড় প্রতিষ্ঠানের পরিচালনাগত সমস্যা, উড়োজাহাজ পরিচালনায় বিঘ্ন এবং যাত্রীসেবায় নানা চ্যালেঞ্জের কারণে নতুন শক্তিশালী প্রতিযোগীর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

সব বিকল্পই খোলা

আদানি গ্রুপ নতুন করে সম্পূর্ণ একটি বিমান সংস্থা চালুর পাশাপাশি বিদ্যমান কোনো প্রতিষ্ঠানে অংশীদার হওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। অর্থাৎ সম্ভাব্য বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একাধিক পথ খোলা রাখা হয়েছে।

তবে আলোচনাগুলো এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় সিদ্ধান্ত কবে হবে বা আদৌ হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি।

চ্যালেঞ্জও কম নয়

ভারতের বিমান পরিবহন খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও এটি লাভজনক ব্যবসা হিসেবে সব সময় সফল হয়নি। গত দেড় দশকে একাধিক বিমান সংস্থা আর্থিক সংকটে পড়ে কার্যক্রম বন্ধ করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ পরিচালন ব্যয়, তীব্র প্রতিযোগিতা, করের চাপ এবং উড়োজাহাজ সরবরাহসংক্রান্ত জটিলতা এই খাতের প্রধান চ্যালেঞ্জ। ফলে নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান বাজারে এলেও শুরু থেকেই কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে।

ভারতের বিমান পরিবহন খাতে আদানি গ্রুপের সম্ভাব্য প্রবেশ তাই এখন শুধু একটি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নয়, বরং ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতা, বিনিয়োগ এবং যাত্রীসেবার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

ভারতের বিমান পরিবহন খাতে আদানি গ্রুপের নতুন বিমান সংস্থা চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাজারে নতুন প্রতিযোগিতার সমীকরণ তৈরি হতে পারে।