০৬:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

চাঁদে মানুষ পাঠানোর আগে বড় মহড়া, দুই মহাকাশযান পরীক্ষা করবে নাসা

মানুষকে আবার চাঁদের মাটিতে নামানোর প্রস্তুতি আরও জোরদার করেছে নাসা। সেই লক্ষ্যেই ২০২৭ সালে বড় ধরনের মহাকাশ মহড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই পরীক্ষায় বেসরকারি দুই প্রতিষ্ঠানের তৈরি চাঁদে অবতরণকারী মহাকাশযানের পরীক্ষামূলক সংস্করণ ব্যবহার করা হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৮ সালে নভোচারীরা চাঁদে অবতরণের চেষ্টা করবেন।

কক্ষপথেই হবে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা

পরিকল্পনা অনুযায়ী, পৃথিবীর কক্ষপথে নাসার ওরিয়ন মহাকাশযান পরীক্ষামূলক চন্দ্র অবতরণযানের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার অনুশীলন করবে। এই মহড়ায় মহাকাশযানগুলোর যোগাযোগ, নিয়ন্ত্রণ, চলাচল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই করা হবে।

নাসার আশা, এই পরীক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যতের চন্দ্র অভিযানের ঝুঁকি কমবে এবং নভোচারীদের নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

দুই প্রতিষ্ঠানের দুই ভিন্ন পরিকল্পনা

চাঁদে নভোচারী পরিবহনের জন্য দুটি আলাদা অবতরণযান তৈরি করছে দুটি প্রতিষ্ঠান। একটির ভিত্তি হবে নতুন প্রজন্মের বিশাল মহাকাশযান, অন্যটি হবে বিশেষভাবে তৈরি একটি চন্দ্রযানের কেবিন।

পরীক্ষার সময় নাসার ওরিয়ন মহাকাশযান আলাদাভাবে উৎক্ষেপণ করা হবে। এরপর পৃথিবীর কক্ষপথে গিয়ে পরীক্ষামূলক অবতরণযানের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার অনুশীলন করবে।

NASA will test SpaceX and Blue Origin Moon landers before the next lunar  landing | ScienceDaily

নভোচারীরা কী করবেন

একটি পরীক্ষায় দুইজন পর্যন্ত নভোচারী পরীক্ষামূলক কেবিনে প্রবেশ করে ভেতরের বিভিন্ন ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন। সেখানে বিশেষ পরিমাপক যন্ত্র থাকবে, যা কেবিনের পরিবেশ ও বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করবে।

অন্য পরীক্ষায় নভোচারীরা ওরিয়ন মহাকাশযানেই অবস্থান করবেন। সেখান থেকে দুটি মহাকাশযানের সংযুক্তি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, দিকনির্দেশনা এবং নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হবে।

অল্প সময়ে তিনটি শক্তিশালী উৎক্ষেপণ

এই অভিযানের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হবে স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনটি শক্তিশালী রকেট উৎক্ষেপণ। প্রথমে পরীক্ষামূলক চন্দ্র অবতরণযান, এরপর ওরিয়ন মহাকাশযান এবং পরে আরেকটি পরীক্ষামূলক অবতরণযান উৎক্ষেপণ করা হবে।

এই পুরো প্রক্রিয়ায় উৎক্ষেপণ কার্যক্রম, নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন কেন্দ্রের সমন্বয়ও যাচাই করা হবে।

ভবিষ্যৎ চন্দ্র অভিযানের প্রস্তুতি

ভবিষ্যতে নাসা এমন একটি পদ্ধতি অনুসরণ করতে চায়, যেখানে আগে চন্দ্র অবতরণযান কক্ষপথে পাঠানো হবে। পরে নভোচারীরা ওরিয়ন মহাকাশযানে করে সেখানে পৌঁছাবেন। ২০২৭ সালের এই মহড়া সেই পরিকল্পনার প্রথম বাস্তব অনুশীলন হবে।

পরীক্ষামূলক অবতরণযান নির্দিষ্ট সময় কক্ষপথে অবস্থান করবে, যাতে প্রকৌশলীরা এর বিভিন্ন ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের সুযোগ পান।

নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব

নাসা জানিয়েছে, নভোচারীদের অংশগ্রহণের আগে পরীক্ষামূলক মহাকাশযানগুলোর সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং সংযুক্তি প্রযুক্তি পরীক্ষা শেষে তবেই মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।

এই কর্মসূচি শুধু চাঁদে মানুষ ফেরানোর পরিকল্পনাকেই এগিয়ে নেবে না, ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানব অভিযানের জন্যও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চাঁদে মানুষ পাঠানোর আগে ২০২৭ সালে বড় মহড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে নাসা। নিরাপদ অভিযানের লক্ষ্যে পরীক্ষামূলক মহাকাশযান যাচাই হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

চাঁদে মানুষ পাঠানোর আগে বড় মহড়া, দুই মহাকাশযান পরীক্ষা করবে নাসা

০৭:০৬:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

মানুষকে আবার চাঁদের মাটিতে নামানোর প্রস্তুতি আরও জোরদার করেছে নাসা। সেই লক্ষ্যেই ২০২৭ সালে বড় ধরনের মহাকাশ মহড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই পরীক্ষায় বেসরকারি দুই প্রতিষ্ঠানের তৈরি চাঁদে অবতরণকারী মহাকাশযানের পরীক্ষামূলক সংস্করণ ব্যবহার করা হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৮ সালে নভোচারীরা চাঁদে অবতরণের চেষ্টা করবেন।

কক্ষপথেই হবে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা

পরিকল্পনা অনুযায়ী, পৃথিবীর কক্ষপথে নাসার ওরিয়ন মহাকাশযান পরীক্ষামূলক চন্দ্র অবতরণযানের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার অনুশীলন করবে। এই মহড়ায় মহাকাশযানগুলোর যোগাযোগ, নিয়ন্ত্রণ, চলাচল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই করা হবে।

নাসার আশা, এই পরীক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যতের চন্দ্র অভিযানের ঝুঁকি কমবে এবং নভোচারীদের নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

দুই প্রতিষ্ঠানের দুই ভিন্ন পরিকল্পনা

চাঁদে নভোচারী পরিবহনের জন্য দুটি আলাদা অবতরণযান তৈরি করছে দুটি প্রতিষ্ঠান। একটির ভিত্তি হবে নতুন প্রজন্মের বিশাল মহাকাশযান, অন্যটি হবে বিশেষভাবে তৈরি একটি চন্দ্রযানের কেবিন।

পরীক্ষার সময় নাসার ওরিয়ন মহাকাশযান আলাদাভাবে উৎক্ষেপণ করা হবে। এরপর পৃথিবীর কক্ষপথে গিয়ে পরীক্ষামূলক অবতরণযানের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার অনুশীলন করবে।

NASA will test SpaceX and Blue Origin Moon landers before the next lunar  landing | ScienceDaily

নভোচারীরা কী করবেন

একটি পরীক্ষায় দুইজন পর্যন্ত নভোচারী পরীক্ষামূলক কেবিনে প্রবেশ করে ভেতরের বিভিন্ন ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন। সেখানে বিশেষ পরিমাপক যন্ত্র থাকবে, যা কেবিনের পরিবেশ ও বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করবে।

অন্য পরীক্ষায় নভোচারীরা ওরিয়ন মহাকাশযানেই অবস্থান করবেন। সেখান থেকে দুটি মহাকাশযানের সংযুক্তি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, দিকনির্দেশনা এবং নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হবে।

অল্প সময়ে তিনটি শক্তিশালী উৎক্ষেপণ

এই অভিযানের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হবে স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনটি শক্তিশালী রকেট উৎক্ষেপণ। প্রথমে পরীক্ষামূলক চন্দ্র অবতরণযান, এরপর ওরিয়ন মহাকাশযান এবং পরে আরেকটি পরীক্ষামূলক অবতরণযান উৎক্ষেপণ করা হবে।

এই পুরো প্রক্রিয়ায় উৎক্ষেপণ কার্যক্রম, নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন কেন্দ্রের সমন্বয়ও যাচাই করা হবে।

ভবিষ্যৎ চন্দ্র অভিযানের প্রস্তুতি

ভবিষ্যতে নাসা এমন একটি পদ্ধতি অনুসরণ করতে চায়, যেখানে আগে চন্দ্র অবতরণযান কক্ষপথে পাঠানো হবে। পরে নভোচারীরা ওরিয়ন মহাকাশযানে করে সেখানে পৌঁছাবেন। ২০২৭ সালের এই মহড়া সেই পরিকল্পনার প্রথম বাস্তব অনুশীলন হবে।

পরীক্ষামূলক অবতরণযান নির্দিষ্ট সময় কক্ষপথে অবস্থান করবে, যাতে প্রকৌশলীরা এর বিভিন্ন ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের সুযোগ পান।

নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব

নাসা জানিয়েছে, নভোচারীদের অংশগ্রহণের আগে পরীক্ষামূলক মহাকাশযানগুলোর সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং সংযুক্তি প্রযুক্তি পরীক্ষা শেষে তবেই মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।

এই কর্মসূচি শুধু চাঁদে মানুষ ফেরানোর পরিকল্পনাকেই এগিয়ে নেবে না, ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানব অভিযানের জন্যও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চাঁদে মানুষ পাঠানোর আগে ২০২৭ সালে বড় মহড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে নাসা। নিরাপদ অভিযানের লক্ষ্যে পরীক্ষামূলক মহাকাশযান যাচাই হবে।