যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতিতে আবারও বড় পরিবর্তন এসেছে। এবার জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে ৮০টিরও বেশি দেশের পণ্যের ওপর নতুন আমদানি শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন এই সিদ্ধান্তের আওতায় বিশ্বের অধিকাংশ প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার দেশ পড়েছে।
নতুন শুল্ক কাঠামো কার্যকর
নতুন ঘোষণার আওতায় যেসব দেশের জোরপূর্বক শ্রম প্রতিরোধে আইন রয়েছে, সেসব দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। আর যেসব দেশে এ ধরনের আইন নেই, তাদের ক্ষেত্রে শুল্কের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।
এই নতুন ব্যবস্থা আগের অস্থায়ী ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের পরিবর্তে কার্যকর হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের প্রায় ৯৯ শতাংশ মার্কিন বাণিজ্য এই নীতির আওতায় চলে এসেছে বলে প্রশাসনের দাবি।
কিছু পণ্য থাকছে শুল্কমুক্ত
নতুন শুল্ক সব পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, মোটরগাড়ি ও যন্ত্রাংশের মতো জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট শুল্কের আওতায় থাকা পণ্য এতে অন্তর্ভুক্ত নয়। পাশাপাশি নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্য, কৃষিপণ্য, সার এবং জ্বালানি খাতের কিছু আমদানিও এই নতুন শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে।
আইনি ভিত্তি আরও শক্তিশালী
ট্রাম্প প্রশাসন এবার এমন একটি বাণিজ্য আইনের ধারা ব্যবহার করেছে, যা আগের ব্যবস্থার তুলনায় বেশি শক্তিশালী বলে মনে করা হচ্ছে। এই আইনি কাঠামোর অধীনে শুল্ক দীর্ঘ সময় বহাল রাখা সম্ভব এবং প্রয়োজনে প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে এর পরিবর্তনও করতে পারবেন।
অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক প্রভাব সীমিত
বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন শুল্কহার আগের অস্থায়ী শুল্কের কাছাকাছি হওয়ায় তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক প্রভাব খুব বেশি হবে না। তবে আগামী মাসগুলোতে আরও নতুন বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ ভোক্তাদের ব্যয় বাড়তে পারে।
আইন করলে কমতে পারে শুল্ক
প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রম প্রতিরোধে কার্যকর আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে অগ্রগতি দেখাবে, তারা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ শুল্কের সুবিধা পেতে পারে। ইতোমধ্যে একটি দেশের ক্ষেত্রে এমন পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
তবে কোনো দেশের জন্য ভবিষ্যতে শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত নেই। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর শ্রম সুরক্ষা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবে।
সমালোচনাও রয়েছে
নতুন শুল্ক ঘোষণার পর সমালোচকদের একাংশের দাবি, এটি মূলত আগের বৈশ্বিক শুল্ক কাঠামো নতুন আইনি ভিত্তিতে পুনর্বহালের একটি উদ্যোগ। যদিও প্রশাসনের বক্তব্য, এই নীতির প্রধান লক্ষ্য জোরপূর্বক শ্রম নিরুৎসাহিত করা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শ্রম অধিকার নিশ্চিত করা।
বাণিজ্য আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যবহৃত আইনি কাঠামো প্রেসিডেন্টকে বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়ায় নতুন শুল্ক আদালতের পরীক্ষায় টিকে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
মার্কিন নতুন শুল্ক নীতিতে ৮০টির বেশি দেশের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক কার্যকর। এর উদ্দেশ্য, প্রভাব ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এক প্রতিবেদনে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















