ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক বোমা আতঙ্ক এবং সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধারের ঘটনার পর পুলিশ সদস্যদের জন্য জারি করা নিরাপত্তা সতর্কতা কোনো নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, এটি ছিল পুলিশের যানবাহন, স্থাপনা ও সদস্যদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার জন্য একটি নিয়মিত সতর্কতামূলক নির্দেশনা।
নিরাপত্তা জোরদারে নিয়মিত সতর্কতা
রোববার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ডিবি প্রধান বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুলিশ সদস্য ও স্থাপনাগুলোর সুরক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব সময় সতর্ক অবস্থানে থাকে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি বোমা আতঙ্কের ঘটনা এবং বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়ানোর কারণে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ সব সময় সতর্ক থাকে। তবে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার পর পুলিশ যানবাহন, স্থাপনা ও সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
হামলার বিষয়ে নেই নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য
পুলিশকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবি প্রধান বলেন, এ ধরনের কোনো তথ্য নেই।
তিনি বলেন, নির্দিষ্ট কোনো তথ্য না থাকলেও পুলিশ সব সময় প্রস্তুত থাকে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করছেন এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের আরও সতর্কভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বিস্ফোরক উদ্ধারের তদন্ত চলছে
মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি ছাতার ভেতর থেকে উদ্ধার করা শক্তিশালী বিস্ফোরক যন্ত্রের তদন্ত প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম জানান, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) মূল তদন্ত করছে। পাশাপাশি ডিবিও আলাদাভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
সংগঠিত কোনো গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে
সন্দেহজনক বিস্ফোরক রাখার ঘটনায় কোনো সংগঠনের সম্পৃক্ততা শনাক্ত হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবি প্রধান বলেন, এ ধরনের ঘটনা সাধারণত একক কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হয় না। অনেক সময় কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা মতাদর্শ প্রচারের লক্ষ্যেও এসব কর্মকাণ্ড করা হতে পারে।
তিনি জানান, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের জরুরি নির্দেশনা
এর আগে শনিবার পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশন কন্ট্রোল রুম থেকে মাঠপর্যায়ের সব ইউনিটকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়, উগ্রবাদী গোষ্ঠী বা অপরাধীরা পুলিশের যানবাহন যেমন জিপ, পিকআপ ও বাস লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করতে পারে। এ কারণে সাময়িকভাবে কোথাও থামালে যানবাহন নিরাপদ স্থানে রাখার পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারির আওতায় রাখতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া থানার ভেতর, পুলিশ লাইন এবং কার্যালয় প্রাঙ্গণে রাখা যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল, নজরদারি বৃদ্ধি এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি ও বস্তুর বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জনসাধারণের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই
পুলিশ সদর দপ্তর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দিলেও সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম) এএইচএম শাহাদাত হোসেন জানান, পুলিশ সদস্যদের সক্রিয় ও সতর্ক রাখতে এ ধরনের নির্দেশনা নিয়মিত দেওয়া হয়। এতে সাধারণ মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
এক সপ্তাহে একাধিক বোমা আতঙ্ক
গত এক সপ্তাহে রাজধানীতে কয়েকটি বোমা আতঙ্কের ঘটনা ঘটে। ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি ছাতার ভেতরে লুকানো শক্তিশালী বিস্ফোরক যন্ত্র উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করে পুলিশ।
পরে কর্মকর্তারা জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের উল্টো রথযাত্রার পথ লক্ষ্য করে এটি রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর পরদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে একটি বস্তার ভেতর থেকে ছাতা বেরিয়ে থাকতে দেখে আতঙ্ক ছড়ায়। তবে পরীক্ষা করে সেখানে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।
শনিবার মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশন থেকে উদ্ধার করা দুটি সন্দেহজনক ব্যাগ ও বস্তাও পরীক্ষা করে ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল জানায়, সেগুলোর ভেতরে কোনো বিস্ফোরক ছিল না।
পুলিশ সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক এসব ঘটনার পর মাঠপর্যায়ের সদস্যদের আরও সতর্ক ও সক্রিয় রাখতেই নতুন করে নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















