১০:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
মুম্বাইয়ে জেন-জির মুখোমুখি আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত, ছাত্র বিক্ষোভের পর বাড়ছে রাজনৈতিক বিতর্ক দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে সুপারমার্কেটে বিস্ফোরণ: ধর্মীয় আলেম নিহত, লক্ষ্য করেই বোমা পাতা হয়েছিল সন্দেহ জেন জি বিক্ষোভের রেশের মধ্যেই ব্যাংকিপুর-১৫৬ আসনে প্রশান্ত কিশোরের জয়, তিন উপনির্বাচনে দুই ধাক্কা বিজেপির রূপপুর প্রকল্পের আবাসিকে দুই রুশ নাগরিকের সংঘর্ষ, নিহত ১ রাজবাড়ীতে বাস-মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত, একই পরিবারের চার সদস্যসহ আহত ৮ শেখ হাসিনা ফিরলে বিমানবন্দর থেকেই ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হবে: এনসিপির নাহিদ ইসলামের বক্তব্য গ্যাস সংকট তীব্র: শিল্প উৎপাদন ব্যাহত, রপ্তানি ঝুঁকিতে, দুর্ভোগে নগরজীবন শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য ঠেকাতে ভারতের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতায় ইতিবাচক বাংলাদেশ, সব সিদ্ধান্ত হবে জাতীয় স্বার্থে পাবনার যমুনায় গোসল করতে নেমে নিখোঁজ দুই স্কুলছাত্র, চলছে যৌথ উদ্ধার অভিযান

গ্যাস সংকট তীব্র: শিল্প উৎপাদন ব্যাহত, রপ্তানি ঝুঁকিতে, দুর্ভোগে নগরজীবন

বাংলাদেশে গ্যাসের সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করায় শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং নগরজীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। তৈরি পোশাক, বস্ত্র ও ইস্পাতসহ রপ্তানিমুখী শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। শিল্পমালিকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সংকটের মূল কারণ হিসেবে গত ২২ জুলাই দেশের একটি ভাসমান এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনরায় গ্যাসীকরণ ইউনিটে (এফএসআরইউ) যান্ত্রিক ত্রুটির কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ কমে গেছে।

গ্যাসের ঘাটতি আরও বেড়েছে

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। স্বাভাবিক অবস্থায় সরবরাহ থাকে ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট, ফলে আগে থেকেই এক হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি ঘাটতি ছিল।

এফএসআরইউতে ত্রুটির পর সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ২ হাজার ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে। এতে দৈনিক ঘাটতি প্রায় এক হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছেছে।

বর্তমানে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন ১ হাজার ৬৫০ থেকে ১ হাজার ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে। তবে বড় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মজুত কমে যাওয়ায় প্রতি বছর উৎপাদন প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট করে হ্রাস পাচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে আমদানি করা এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রায় এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যোগ হয়।

রপ্তানিমুখী শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত

গ্যাস ও বিদ্যুতের দ্বৈত সংকটে রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যয়বহুল ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে, ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে সময়মতো পণ্য সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে বিলম্বজনিত জরিমানা কিংবা ক্রয়াদেশ বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ না থাকায় পোশাক কারখানাগুলো স্বাভাবিক উৎপাদন বজায় রাখতে পারছে না। উৎপাদন সচল রাখতে সরকারকে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া ও বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে অনেক নিট পোশাক কারখানা উৎপাদন কমিয়ে দিতে বা ডিজেলচালিত বিকল্প ব্যবস্থায় যেতে বাধ্য হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনেও বড় ধাক্কা

গ্যাস সংকটের প্রভাব বিদ্যুৎ উৎপাদনেও পড়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস বরাদ্দ প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। ফলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াট থেকে কমে ৩ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে।

পেট্রোবাংলার হিসাবে, গ্যাসের ঘাটতির কারণে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। এতে সারা দেশে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি তৈরি হয়ে লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি বেড়েছে।

ভোগান্তিতে পরিবার ও সিএনজি ব্যবহারকারী

ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় অনেক পরিবার রান্নার সময় পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছে না। কেউ গভীর রাত বা ভোরে রান্না করছেন, আবার অনেকে এলপিজি সিলিন্ডার কিংবা বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এতে মাসিক ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনেও দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে কম গ্যাসচাপের কারণে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন সীমিত করতে বাধ্য হচ্ছে।

সমাধানে কাজ চলছে

পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনাল সচল করতে প্রকৌশলীরা সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের সাময়িক দুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি জানিয়েছে, স্বাভাবিক সরবরাহ পুরোপুরি ফিরে না আসা পর্যন্ত ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার গ্রাহকদের কম গ্যাসচাপের সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে।

সরকারও জনদুর্ভোগের জন্য আবারও দুঃখ প্রকাশ করেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, এফএসআরইউতে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। শিল্প, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন এবং গৃহস্থালি গ্রাহক—সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়েছে। সংশ্লিষ্ট এলএনজি টার্মিনালটি আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ধীরে ধীরে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরবে বলে কর্মকর্তারা আশা করছেন।

গ্যাস সংকট তীব্র হওয়ায় শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানি ঝুঁকিতে, বিদ্যুৎ ঘাটতি বেড়েছে এবং নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনেও দুর্ভোগ বাড়ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মুম্বাইয়ে জেন-জির মুখোমুখি আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত, ছাত্র বিক্ষোভের পর বাড়ছে রাজনৈতিক বিতর্ক

গ্যাস সংকট তীব্র: শিল্প উৎপাদন ব্যাহত, রপ্তানি ঝুঁকিতে, দুর্ভোগে নগরজীবন

০৯:৪১:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে গ্যাসের সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করায় শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং নগরজীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। তৈরি পোশাক, বস্ত্র ও ইস্পাতসহ রপ্তানিমুখী শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। শিল্পমালিকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সংকটের মূল কারণ হিসেবে গত ২২ জুলাই দেশের একটি ভাসমান এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনরায় গ্যাসীকরণ ইউনিটে (এফএসআরইউ) যান্ত্রিক ত্রুটির কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ কমে গেছে।

গ্যাসের ঘাটতি আরও বেড়েছে

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। স্বাভাবিক অবস্থায় সরবরাহ থাকে ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট, ফলে আগে থেকেই এক হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি ঘাটতি ছিল।

এফএসআরইউতে ত্রুটির পর সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ২ হাজার ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে। এতে দৈনিক ঘাটতি প্রায় এক হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছেছে।

বর্তমানে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন ১ হাজার ৬৫০ থেকে ১ হাজার ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে। তবে বড় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মজুত কমে যাওয়ায় প্রতি বছর উৎপাদন প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট করে হ্রাস পাচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে আমদানি করা এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রায় এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যোগ হয়।

রপ্তানিমুখী শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত

গ্যাস ও বিদ্যুতের দ্বৈত সংকটে রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যয়বহুল ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে, ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে সময়মতো পণ্য সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে বিলম্বজনিত জরিমানা কিংবা ক্রয়াদেশ বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ না থাকায় পোশাক কারখানাগুলো স্বাভাবিক উৎপাদন বজায় রাখতে পারছে না। উৎপাদন সচল রাখতে সরকারকে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া ও বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে অনেক নিট পোশাক কারখানা উৎপাদন কমিয়ে দিতে বা ডিজেলচালিত বিকল্প ব্যবস্থায় যেতে বাধ্য হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনেও বড় ধাক্কা

গ্যাস সংকটের প্রভাব বিদ্যুৎ উৎপাদনেও পড়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস বরাদ্দ প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। ফলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াট থেকে কমে ৩ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে।

পেট্রোবাংলার হিসাবে, গ্যাসের ঘাটতির কারণে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। এতে সারা দেশে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি তৈরি হয়ে লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি বেড়েছে।

ভোগান্তিতে পরিবার ও সিএনজি ব্যবহারকারী

ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় অনেক পরিবার রান্নার সময় পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছে না। কেউ গভীর রাত বা ভোরে রান্না করছেন, আবার অনেকে এলপিজি সিলিন্ডার কিংবা বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এতে মাসিক ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনেও দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে কম গ্যাসচাপের কারণে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন সীমিত করতে বাধ্য হচ্ছে।

সমাধানে কাজ চলছে

পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনাল সচল করতে প্রকৌশলীরা সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের সাময়িক দুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি জানিয়েছে, স্বাভাবিক সরবরাহ পুরোপুরি ফিরে না আসা পর্যন্ত ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার গ্রাহকদের কম গ্যাসচাপের সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে।

সরকারও জনদুর্ভোগের জন্য আবারও দুঃখ প্রকাশ করেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, এফএসআরইউতে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। শিল্প, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন এবং গৃহস্থালি গ্রাহক—সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়েছে। সংশ্লিষ্ট এলএনজি টার্মিনালটি আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ধীরে ধীরে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরবে বলে কর্মকর্তারা আশা করছেন।

গ্যাস সংকট তীব্র হওয়ায় শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানি ঝুঁকিতে, বিদ্যুৎ ঘাটতি বেড়েছে এবং নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনেও দুর্ভোগ বাড়ছে।