দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে খাস পুকুর ইজারাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে এক পুলিশ সদস্যকে লাথি মেরে আহত করার অভিযোগে বিএনপি নেতার ছেলেসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সারাক্ষণ রিপোর্ট
সোমবার (৩ আগস্ট) বেলা পৌনে ২টার দিকে ইউএনও তানজিনা খাতুনের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ সদস্য নুরুজ্জামান সরকার বিরামপুর থানার কনস্টেবল। ঘটনার পর তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
অভিযুক্তদের পরিচয়
অভিযুক্ত রাহাদুজ্জামান পরাগ (২৭) উপজেলার দিওড় ইউনিয়নের ধানঘরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম আলী ওরফে বাবুর ছেলে এবং দিওড় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
এ ঘটনায় আল আমিন (২৫) নামের আরেকজনকে আসামি করা হয়েছে। তিনি পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
মামলার এজাহার অনুযায়ী, সোমবার সকাল ১১টা থেকে ইউএনও কার্যালয়ে উপজেলার অর্পিত পুকুর ইজারার আবেদন জমা নেওয়া হচ্ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে সেখানে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বেলা পৌনে ২টার দিকে রাহাদুজ্জামান পরাগ, আল আমিন এবং তাদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন ইউএনওর কক্ষের সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং পুকুর ইজারার আবেদন জমা দিতে বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় কনস্টেবল নুরুজ্জামান সরকার নিজের মোবাইল ফোনে পরিস্থিতির ভিডিও ধারণ করছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি অভিযুক্তরা জোর করে ইউএনওর কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করেন। পুলিশ বাধা দিলে তাদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে কনস্টেবল নুরুজ্জামানকে লাথি মারা হয়।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরে অভিযুক্তরা ইউএনওর কক্ষে ঢুকে ইউএনও তানজিনা খাতুনের উপস্থিতিতে পুলিশ সদস্যদের মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলতে বাধ্য করেন।
ঘটনার পর বৈঠক
ঘটনার পর বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ইউএনওর দাফতরিক কক্ষে উপজেলা বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিষয়টি মীমাংসার উদ্দেশ্যে এ বৈঠক করা হয়।
বৈঠকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজিয়া নওরীন, বিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার হারেজ উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিঞা মো. শফিকুল আলম, সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর এলাহী চৌধুরী, পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির এবং সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ইউএনও কার্যালয়ের বাইরে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী অবস্থান করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রশাসনের বক্তব্য
ঘটনাটি ইউএনওর সামনেই ঘটেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইউএনও তানজিনা খাতুন বলেন, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন এবং ভিডিও ফুটেজেও দেখেছেন।
উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সানোয়ার হোসেন দাবি করেন, তিনি আহত পুলিশ সদস্যকে নিরাপদে ইউএনওর কক্ষে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় পেছন থেকে ওই পুলিশ সদস্যের কোমর ও পায়ে লাথি মারা হয়। তার নিজের পায়েও একটি লাথি লাগে। তিনি বলেন, ঘটনাটি গোপন করার সুযোগ নেই, কারণ দুই পাশেই ক্যামেরা ছিল।
এদিকে বিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শামীম আল মামুন জানান, পুলিশ সদস্যকে মারধর এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
বিরামপুরে ইউএনও কার্যালয়ে পুকুর ইজারা নিয়ে বিশৃঙ্খলার সময় পুলিশ সদস্যকে লাথি মারার ঘটনায় বিএনপি নেতার ছেলেসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















