১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬
প্রজাপতির আবাস বদলের বৈশ্বিক সংকেত, জলবায়ু পরিবর্তনের গভীর সতর্কবার্তা হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অগ্রগতি, আশাবাদ ট্রাম্পের শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশের ক্ষোভ গ্ল্যাডিয়েটর মঞ্চে নতুন চমক, প্রথম তারকা যোদ্ধা হচ্ছেন জো মার্লার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার জবাবে পাল্টা পদক্ষেপ চীনের, ড্রোন রপ্তানিতে কড়াকড়ি কণ্ঠনালীতে কাঠের টুকরো আটকে ক্ষতির অভিযোগ, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে সাবেক শিশুশিল্পীর মামলা জাপানের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার, ‘প্রয়োজন হলে নতুন সামরিক পদক্ষেপ’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে আবার ফিরছে ‘সবকিছু একসঙ্গে’ অ্যাপের ধারণা, এবার কি সফল হবে প্রযুক্তি জায়ান্টরা? পুলিশ কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু হার্পারের হত্যাকারীদের আগাম মুক্তি ঠেকাতে আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত সমুদ্রে নিখোঁজ ১৩ বছরের কিশোরের মরদেহ উদ্ধার, শোকে স্তব্ধ উপকূলীয় জনপদ

শেখ পরিবারের সবাই নিরাপদে দেশের বাইরে, কারাগারে দলের বহু নেতা

প্রায় দুই বছর বিচারকাজের বাইরে সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতি

জাগো নিউজ২৪,

সুপ্রিম কোর্ট ভবনের উঁচু সাদা গম্বুজের নিচে প্রতিদিন চলছে বিচারকাজ। উচ্চ আদালতের বিচার শুরুর আগে বেঞ্চ বসে, শুনানি হয়, রায় আসে। সেই বিচারিক কাঠামোর ভেতরেই এক বিচারপতি প্রায় দুই বছর ধরে কার্যত নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছেন। তিনি বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ।

শেখ হাসান আরিফ ২০১০ সালে শেখ হাসিনার সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর এক দশকের বেশি সময় তিনি বিচারিক দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রায় দুই বছর বিচারকাজের বাইরে সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতি

তবে ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবরের পর আর কোনো বেঞ্চে বসেননি বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ। অংশ নেননি কোনো মামলার শুনানিতে, রায়ও দেননি। তবুও তিনি পদে বহাল। এখনো বিচারপতির সব সাংবিধানিক সুবিধা ভোগ করছেন। পাচ্ছেন বেতন-ভাতা, রাষ্ট্রীয় প্রটোকল এবং অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা।

সুপ্রিম কোর্টের করিডরে তার নাম এখনো বহাল রয়েছে, কিন্তু বিচারিক কার্যক্রমে তার উপস্থিতি নেই। অভিযোগের মুখে তাকে বিচারকাজ থেকে সরিয়ে রাখা হলেও দেড় বছর পরও তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্তই শুরু হয়নি।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের আকার ছোট হয়ে আসছে

সমকাল,

নানা অনিয়ম-জালিয়াতির কারণে আমানত ফেরত দিতে না পারা আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের আকার ছোট হয়ে আসছে। এসব প্রতিষ্ঠান উচ্চ সুদ দিয়েও এখন আমানত পেতে হিমশিম খাচ্ছে। সুদ যোগ করেও প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানত স্থিতি বাড়ছে না। কমে যাচ্ছে ঋণ। আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে না পারা ২০ প্রতিষ্ঠানের প্রভাবে পুরো খাতে এই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। শিগগিরই পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বন্ধের পর এ খাতের আকার আরও ছোট হয়ে যাবে।

বন্ধ হতে যাওয়া পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, আভিভা ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ও ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট। প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানতকারীদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হবে। এরই মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া পরিস্থিতি উন্নতির জন্য সময় দেওয়া হয়েছে আরও চার প্রতিষ্ঠানকে। পরিস্থিতি উন্নতি নাহলে পরের ধাপে একীভূত করা হবে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স অ্যান্ড কোম্পানি এবং প্রাইম ফাইন্যান্স।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের আকার ছোট হয়ে আসছে

বিদ্যমান নিয়মে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন বা বন্ধ হলে একজন আমানতকারীর যত টাকাই জমা থাকুক আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা ফেরত পান। পরবর্তী ধাপে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনরুদ্ধার বা সম্পত্তি বিক্রি করে আনুপাতিক হারে টাকা ফেরত দিতে হয়। তবে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা আনতে এসব প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের সরকার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হবে। অবশ্য শুধু ব্যক্তি পর্যায়ের আমানতকারী অর্থ ফেরত পাবেন, নাকি সব পর্যায়ের আমানতকারীকে দেওয়া হবে স্কিম ঘোষণার পর তা জানা যাবে।

৫ প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তি আমানত ৩ হাজার কোটি টাকা

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যক্তি আমানত ছাড়াও অন্য ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে আমানত ও ঋণ নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে। বন্ধ হতে যাওয়া এসব প্রতিষ্ঠানের মোট আমানত রয়েছে ১৩ হাজার ৩০ কোটি টাকা। আর অন্য ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছে ২ হাজার ২০২ কোটি টাকা। পুরো এই দায়ের মধ্যে ব্যক্তি আমানত রয়েছে তিন হাজার ৩ কোটি টাকা।

শেখ পরিবারের সবাই নিরাপদে দেশের বাইরে, কারাগারে দলের বহু নেতা

প্রথম আলো,

শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর তাঁর সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফোনটি করেছিলেন তাপস, অপর প্রান্তে ছিলেন শেখ হাসিনা। তাপস শেখ হাসিনাকে সালাম দিয়ে বলেন, ‘আমি একটু সিঙ্গাপুর যাব, যেতে চাচ্ছিলাম। আমি কি যেতে পারি?’

জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘হ্যাঁ, যাও। যাবা না কেন?’ এরপর তাঁদের মধ্যে আরও কিছু কথা হয়।

এই কল তাপস করেছিলেন ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট সকাল ৮টা ১৬ মিনিটে। কথোপকথন থেকে জানা যায়, তাপস সিঙ্গাপুর যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন। তবে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাঁকে থামিয়ে দেয়। এ সময় তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করে সহায়তা চান।

শেখ পরিবারের সবাই নিরাপদে দেশের বাইরে, কারাগারে দলের বহু নেতা

তাপস তড়িঘড়ি করে বিদেশ যাওয়ার ঠিক আগের দিন পর্যন্ত ছাত্র-জনতার আন্দোলনে কয়েক শ মানুষ নিশ্চিত হত্যার শিকার হন। আন্দোলনে উত্তাল ঢাকাসহ সারা দেশ। আগের দিন ঢাকায় সরকারবিরোধী ‘দ্রোহযাত্রা’ নামে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী, শিল্পী, আইনজীবী, উন্নয়নকর্মী, মানবাধিকারকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নামে।

২০২৪ সালের ৩ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে। ওই দিন বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম সরকার পতনের এক দফা দাবি ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন চূড়ান্তভাবে সরকারবিরোধী গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়। একই দিন সকালে সেনা সদরের এক দরবারে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের ওপর শক্তি প্রয়োগের বিরুদ্ধে মত উঠে আসে।

সব মিলিয়ে সরকারের নড়বড়ে অবস্থা দেখে অনেকটা নিভৃতে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে তাপস। শেখ হাসিনার পতনের আগে ও পরে তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনের প্রায় সবাই দেশ ছেড়ে পালান। শেখ পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের সবাই গ্রেপ্তার এড়াতে সক্ষম হন। অথচ শেখ হাসিনার টানা সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে এই পরিবারের সদস্যরা ছিলেন ক্ষমতা প্রয়োগের শীর্ষে। এই পরিবার বা শেখ হাসিনার আত্মীয়স্বজনদের প্রায় দুই ডজন ব্যক্তি মন্ত্রী পদমর্যাদা, সংসদ সদস্য কিংবা গুরুত্বপূর্ণ দলীয় দায়িত্বে থেকে সরকারের সুবিধাভোগী ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রজাপতির আবাস বদলের বৈশ্বিক সংকেত, জলবায়ু পরিবর্তনের গভীর সতর্কবার্তা

শেখ পরিবারের সবাই নিরাপদে দেশের বাইরে, কারাগারে দলের বহু নেতা

১০:৪৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

প্রায় দুই বছর বিচারকাজের বাইরে সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতি

জাগো নিউজ২৪,

সুপ্রিম কোর্ট ভবনের উঁচু সাদা গম্বুজের নিচে প্রতিদিন চলছে বিচারকাজ। উচ্চ আদালতের বিচার শুরুর আগে বেঞ্চ বসে, শুনানি হয়, রায় আসে। সেই বিচারিক কাঠামোর ভেতরেই এক বিচারপতি প্রায় দুই বছর ধরে কার্যত নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছেন। তিনি বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ।

শেখ হাসান আরিফ ২০১০ সালে শেখ হাসিনার সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর এক দশকের বেশি সময় তিনি বিচারিক দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রায় দুই বছর বিচারকাজের বাইরে সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতি

তবে ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবরের পর আর কোনো বেঞ্চে বসেননি বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ। অংশ নেননি কোনো মামলার শুনানিতে, রায়ও দেননি। তবুও তিনি পদে বহাল। এখনো বিচারপতির সব সাংবিধানিক সুবিধা ভোগ করছেন। পাচ্ছেন বেতন-ভাতা, রাষ্ট্রীয় প্রটোকল এবং অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা।

সুপ্রিম কোর্টের করিডরে তার নাম এখনো বহাল রয়েছে, কিন্তু বিচারিক কার্যক্রমে তার উপস্থিতি নেই। অভিযোগের মুখে তাকে বিচারকাজ থেকে সরিয়ে রাখা হলেও দেড় বছর পরও তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্তই শুরু হয়নি।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের আকার ছোট হয়ে আসছে

সমকাল,

নানা অনিয়ম-জালিয়াতির কারণে আমানত ফেরত দিতে না পারা আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের আকার ছোট হয়ে আসছে। এসব প্রতিষ্ঠান উচ্চ সুদ দিয়েও এখন আমানত পেতে হিমশিম খাচ্ছে। সুদ যোগ করেও প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানত স্থিতি বাড়ছে না। কমে যাচ্ছে ঋণ। আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে না পারা ২০ প্রতিষ্ঠানের প্রভাবে পুরো খাতে এই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। শিগগিরই পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বন্ধের পর এ খাতের আকার আরও ছোট হয়ে যাবে।

বন্ধ হতে যাওয়া পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, আভিভা ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ও ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট। প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানতকারীদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হবে। এরই মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া পরিস্থিতি উন্নতির জন্য সময় দেওয়া হয়েছে আরও চার প্রতিষ্ঠানকে। পরিস্থিতি উন্নতি নাহলে পরের ধাপে একীভূত করা হবে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স অ্যান্ড কোম্পানি এবং প্রাইম ফাইন্যান্স।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের আকার ছোট হয়ে আসছে

বিদ্যমান নিয়মে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন বা বন্ধ হলে একজন আমানতকারীর যত টাকাই জমা থাকুক আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা ফেরত পান। পরবর্তী ধাপে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনরুদ্ধার বা সম্পত্তি বিক্রি করে আনুপাতিক হারে টাকা ফেরত দিতে হয়। তবে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা আনতে এসব প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের সরকার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হবে। অবশ্য শুধু ব্যক্তি পর্যায়ের আমানতকারী অর্থ ফেরত পাবেন, নাকি সব পর্যায়ের আমানতকারীকে দেওয়া হবে স্কিম ঘোষণার পর তা জানা যাবে।

৫ প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তি আমানত ৩ হাজার কোটি টাকা

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যক্তি আমানত ছাড়াও অন্য ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে আমানত ও ঋণ নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে। বন্ধ হতে যাওয়া এসব প্রতিষ্ঠানের মোট আমানত রয়েছে ১৩ হাজার ৩০ কোটি টাকা। আর অন্য ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছে ২ হাজার ২০২ কোটি টাকা। পুরো এই দায়ের মধ্যে ব্যক্তি আমানত রয়েছে তিন হাজার ৩ কোটি টাকা।

শেখ পরিবারের সবাই নিরাপদে দেশের বাইরে, কারাগারে দলের বহু নেতা

প্রথম আলো,

শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর তাঁর সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফোনটি করেছিলেন তাপস, অপর প্রান্তে ছিলেন শেখ হাসিনা। তাপস শেখ হাসিনাকে সালাম দিয়ে বলেন, ‘আমি একটু সিঙ্গাপুর যাব, যেতে চাচ্ছিলাম। আমি কি যেতে পারি?’

জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘হ্যাঁ, যাও। যাবা না কেন?’ এরপর তাঁদের মধ্যে আরও কিছু কথা হয়।

এই কল তাপস করেছিলেন ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট সকাল ৮টা ১৬ মিনিটে। কথোপকথন থেকে জানা যায়, তাপস সিঙ্গাপুর যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন। তবে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাঁকে থামিয়ে দেয়। এ সময় তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করে সহায়তা চান।

শেখ পরিবারের সবাই নিরাপদে দেশের বাইরে, কারাগারে দলের বহু নেতা

তাপস তড়িঘড়ি করে বিদেশ যাওয়ার ঠিক আগের দিন পর্যন্ত ছাত্র-জনতার আন্দোলনে কয়েক শ মানুষ নিশ্চিত হত্যার শিকার হন। আন্দোলনে উত্তাল ঢাকাসহ সারা দেশ। আগের দিন ঢাকায় সরকারবিরোধী ‘দ্রোহযাত্রা’ নামে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী, শিল্পী, আইনজীবী, উন্নয়নকর্মী, মানবাধিকারকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নামে।

২০২৪ সালের ৩ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে। ওই দিন বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম সরকার পতনের এক দফা দাবি ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন চূড়ান্তভাবে সরকারবিরোধী গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়। একই দিন সকালে সেনা সদরের এক দরবারে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের ওপর শক্তি প্রয়োগের বিরুদ্ধে মত উঠে আসে।

সব মিলিয়ে সরকারের নড়বড়ে অবস্থা দেখে অনেকটা নিভৃতে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে তাপস। শেখ হাসিনার পতনের আগে ও পরে তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনের প্রায় সবাই দেশ ছেড়ে পালান। শেখ পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের সবাই গ্রেপ্তার এড়াতে সক্ষম হন। অথচ শেখ হাসিনার টানা সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে এই পরিবারের সদস্যরা ছিলেন ক্ষমতা প্রয়োগের শীর্ষে। এই পরিবার বা শেখ হাসিনার আত্মীয়স্বজনদের প্রায় দুই ডজন ব্যক্তি মন্ত্রী পদমর্যাদা, সংসদ সদস্য কিংবা গুরুত্বপূর্ণ দলীয় দায়িত্বে থেকে সরকারের সুবিধাভোগী ছিলেন।