০৭:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬
শেখ হাসিনা ফিরলে আবারও রক্তপাত হবে, কাউকে রেহাই দেবেন না: রিজভী বিজয় সরকারের প্রথম বাজেটে জনকল্যাণ ও আর্থিক শৃঙ্খলার সমন্বয়ের চেষ্টা জ্বালানির দাম বাড়ার জন্য তেল কোম্পানি নয়, নীতিনির্ধারণের মূল্যই দিচ্ছে বিশ্ব সংসদ অচলাবস্থা কাটাতে রাহুলের সঙ্গে বৈঠক, বিরোধীদের শর্তে চাপে সরকার তসলিমা নাসরিনের কলকাতা প্রত্যাবর্তন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ ইমেশা দুলানি সপ্তাহের সেরা ক্রিকেটার: অপরাজিত শতকে পাকিস্তানকে হারিয়ে শ্রীলঙ্কার দাপুটে জয় যৌন সহিংসতা, উপনিবেশবাদ ও ফিলিস্তিন: রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার এক অন্ধকার ইতিহাস পশ্চিম আফ্রিকার কাদামাটি কচ্ছপ: কাদার আড়ালে টিকে থাকার এক বিস্ময় উচ্চশিক্ষায় নতুন সমীকরণ, বদলে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া চীনের পাল্টা পদক্ষেপে স্পষ্ট বাণিজ্যযুদ্ধের নতুন কৌশল

আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও ভূমি অধিকার নিশ্চিতে ৯ দফা সুপারিশ, জাতীয় সেমিনারে সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান

আদিবাসীদের জীবন, ভূমি অধিকার, সংস্কৃতির সুরক্ষা এবং সাংবিধানিক স্বীকৃতি নিশ্চিতের দাবিতে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জাতীয় পর্যায়ের ১৭টি অধিকারভিত্তিক সংস্থার উদ্যোগে একটি জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৬ আগস্ট) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে বক্তারা আদিবাসীদের অধিকার রক্ষায় সরকারের প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভূমি অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃভাষায় শিক্ষা, সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং পার্বত্য শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সেমিনারের শিরোনাম ছিল ‘আদিবাসী জনগণ: জীবন, ভূমি অধিকার ও সংস্কৃতির সম্মান’। এতে জাতীয় সংসদের সদস্য আন্না মিনজ এমপি ও অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা এমপি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানবাধিকারকর্মী ইলিরা দেওয়ান। আলোচনায় অংশ নেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, গবেষক ও নৃবিজ্ঞানী ড. ঈশিতা দস্তিদার, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভানেত্রী ডা. ফওজিয়া মোসলেমসহ সমতল ও পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসী নেতারা।

উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান

স্বাগত বক্তব্যে অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি)-এর নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, বর্তমান সরকার আদিবাসীদের উন্নয়ন নিয়ে ইতিবাচক বক্তব্য দিলেও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ নিয়মিত জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামে অংশ নিলেও দেশে সরকারিভাবে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালন করা হয় না। তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালনের দাবি জানান।

আদিবাসীদের অধিকার নিশ্চিতে ৯ দফা সুপারিশ

মূল প্রবন্ধে ইলিরা দেওয়ান আদিবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় সরকারের প্রতি ৯ দফা সুপারিশ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে সংবিধানের ২৩ক অনুচ্ছেদে ‘উপজাতি, নৃ-গোষ্ঠী’ শব্দের পরিবর্তে ‘আদিবাসী’ শব্দ সংযোজন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে কার্যকর করা, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন, আদিবাসীদের জন্য জাতীয় পর্যায়ে একটি অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা, আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় পর্যটন উন্নয়নের আগে সুরক্ষামূলক নীতিমালা প্রণয়ন, নারী স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগে স্থানীয় আদিবাসীদের অগ্রাধিকার, আদিবাসী ধাত্রীদের প্রশিক্ষণ, পার্বত্য শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম এলাকার অধিগ্রহণকৃত ভূমি প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ।

ভূমি, স্বাস্থ্য ও সাংস্কৃতিক অধিকারে গুরুত্ব

গবেষক ড. ঈশিতা দস্তিদার আদিবাসীদের লোকজ চিকিৎসাজ্ঞান ও ধাত্রীসেবার স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের আহ্বান জানান। ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য আদিবাসী ধাত্রীদের ভূমিকার গুরুত্বকে সামনে এনেছে। তিনি আদিবাসী মাতৃস্বাস্থ্য, নবজাতকের সুরক্ষা এবং ভূমি অধিকারের নিশ্চয়তায় সরকারের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈচিত্র্যময় সমাজ গঠনের যে অঙ্গীকার বর্তমান সরকার করেছে, তা বাস্তবায়িত না হলে আদিবাসীদের বৈষম্য দূর করা সম্ভব হবে না।

সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও ভূমি কমিশন সক্রিয় করার দাবি

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কোনো বিতর্ক ছাড়াই আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি আদিবাসীদের প্রথাগত ভূমির মালিকানার আইনগত স্বীকৃতি, সংসদীয় আদিবাসী বিষয়ক ককাস গঠন এবং আদিবাসীদের মধ্যে ঐক্য জোরদারের আহ্বান জানান।

সংসদ সদস্য আন্না মিনজ বলেন, আদিবাসীদের বঞ্চনার পাশাপাশি অর্জনগুলোকেও স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তিনি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার, বাজেট ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে আদিবাসীদের উন্নয়ন বিষয়ক উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা এমপি জুম চাষকে পরিবেশবান্ধব কৃষিপদ্ধতি হিসেবে উল্লেখ করে এ বিষয়ে নেতিবাচক প্রচারণা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি আদিবাসীদের মাতৃভাষায় শিক্ষা, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা এবং বন ও কৃষি উন্নয়ন কার্যক্রমে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।

উন্নয়ন প্রকল্পে অংশগ্রহণ নিশ্চিতের দাবি

আলোচকরা বলেন, আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় ইকো-ট্যুরিজম বা অন্য যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্পে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। তারা অভিযোগ করেন, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তি চুক্তির অধীনে গঠিত ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনে ২৭ হাজারের বেশি আবেদন জমা থাকলেও কমিশনের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে স্থবির। তাই জরুরি ভিত্তিতে কমিশনকে সক্রিয় করা এবং বিদ্যমান আইনের আলোকে আদিবাসীদের ভূমি অধিকার সুরক্ষায় প্রশাসনিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।

আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভূমি অধিকার ও সংস্কৃতি রক্ষার দাবিতে ঢাকার জাতীয় সেমিনারে ৯ দফা সুপারিশ তুলে ধরে সরকারের দ্রুত উদ্যোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শেখ হাসিনা ফিরলে আবারও রক্তপাত হবে, কাউকে রেহাই দেবেন না: রিজভী

আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও ভূমি অধিকার নিশ্চিতে ৯ দফা সুপারিশ, জাতীয় সেমিনারে সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান

০৫:৪২:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

আদিবাসীদের জীবন, ভূমি অধিকার, সংস্কৃতির সুরক্ষা এবং সাংবিধানিক স্বীকৃতি নিশ্চিতের দাবিতে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জাতীয় পর্যায়ের ১৭টি অধিকারভিত্তিক সংস্থার উদ্যোগে একটি জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৬ আগস্ট) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে বক্তারা আদিবাসীদের অধিকার রক্ষায় সরকারের প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভূমি অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃভাষায় শিক্ষা, সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং পার্বত্য শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সেমিনারের শিরোনাম ছিল ‘আদিবাসী জনগণ: জীবন, ভূমি অধিকার ও সংস্কৃতির সম্মান’। এতে জাতীয় সংসদের সদস্য আন্না মিনজ এমপি ও অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা এমপি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানবাধিকারকর্মী ইলিরা দেওয়ান। আলোচনায় অংশ নেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, গবেষক ও নৃবিজ্ঞানী ড. ঈশিতা দস্তিদার, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভানেত্রী ডা. ফওজিয়া মোসলেমসহ সমতল ও পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসী নেতারা।

উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান

স্বাগত বক্তব্যে অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি)-এর নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, বর্তমান সরকার আদিবাসীদের উন্নয়ন নিয়ে ইতিবাচক বক্তব্য দিলেও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ নিয়মিত জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামে অংশ নিলেও দেশে সরকারিভাবে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালন করা হয় না। তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালনের দাবি জানান।

আদিবাসীদের অধিকার নিশ্চিতে ৯ দফা সুপারিশ

মূল প্রবন্ধে ইলিরা দেওয়ান আদিবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় সরকারের প্রতি ৯ দফা সুপারিশ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে সংবিধানের ২৩ক অনুচ্ছেদে ‘উপজাতি, নৃ-গোষ্ঠী’ শব্দের পরিবর্তে ‘আদিবাসী’ শব্দ সংযোজন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে কার্যকর করা, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন, আদিবাসীদের জন্য জাতীয় পর্যায়ে একটি অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা, আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় পর্যটন উন্নয়নের আগে সুরক্ষামূলক নীতিমালা প্রণয়ন, নারী স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগে স্থানীয় আদিবাসীদের অগ্রাধিকার, আদিবাসী ধাত্রীদের প্রশিক্ষণ, পার্বত্য শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম এলাকার অধিগ্রহণকৃত ভূমি প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ।

ভূমি, স্বাস্থ্য ও সাংস্কৃতিক অধিকারে গুরুত্ব

গবেষক ড. ঈশিতা দস্তিদার আদিবাসীদের লোকজ চিকিৎসাজ্ঞান ও ধাত্রীসেবার স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের আহ্বান জানান। ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য আদিবাসী ধাত্রীদের ভূমিকার গুরুত্বকে সামনে এনেছে। তিনি আদিবাসী মাতৃস্বাস্থ্য, নবজাতকের সুরক্ষা এবং ভূমি অধিকারের নিশ্চয়তায় সরকারের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈচিত্র্যময় সমাজ গঠনের যে অঙ্গীকার বর্তমান সরকার করেছে, তা বাস্তবায়িত না হলে আদিবাসীদের বৈষম্য দূর করা সম্ভব হবে না।

সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও ভূমি কমিশন সক্রিয় করার দাবি

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কোনো বিতর্ক ছাড়াই আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি আদিবাসীদের প্রথাগত ভূমির মালিকানার আইনগত স্বীকৃতি, সংসদীয় আদিবাসী বিষয়ক ককাস গঠন এবং আদিবাসীদের মধ্যে ঐক্য জোরদারের আহ্বান জানান।

সংসদ সদস্য আন্না মিনজ বলেন, আদিবাসীদের বঞ্চনার পাশাপাশি অর্জনগুলোকেও স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তিনি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার, বাজেট ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে আদিবাসীদের উন্নয়ন বিষয়ক উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা এমপি জুম চাষকে পরিবেশবান্ধব কৃষিপদ্ধতি হিসেবে উল্লেখ করে এ বিষয়ে নেতিবাচক প্রচারণা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি আদিবাসীদের মাতৃভাষায় শিক্ষা, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা এবং বন ও কৃষি উন্নয়ন কার্যক্রমে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।

উন্নয়ন প্রকল্পে অংশগ্রহণ নিশ্চিতের দাবি

আলোচকরা বলেন, আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় ইকো-ট্যুরিজম বা অন্য যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্পে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। তারা অভিযোগ করেন, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তি চুক্তির অধীনে গঠিত ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনে ২৭ হাজারের বেশি আবেদন জমা থাকলেও কমিশনের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে স্থবির। তাই জরুরি ভিত্তিতে কমিশনকে সক্রিয় করা এবং বিদ্যমান আইনের আলোকে আদিবাসীদের ভূমি অধিকার সুরক্ষায় প্রশাসনিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।

আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভূমি অধিকার ও সংস্কৃতি রক্ষার দাবিতে ঢাকার জাতীয় সেমিনারে ৯ দফা সুপারিশ তুলে ধরে সরকারের দ্রুত উদ্যোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।