সিলেট বিভাগে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে হামে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২২ জনে।
মারা যাওয়া দুই শিশু হলো সিলেট সদর উপজেলার এক বছর পাঁচ মাস বয়সী ইয়ামিন এবং হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার আট মাস বয়সী আনিসা। তারা দুজনই সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মোট ১২২ জনের মৃত্যুর মধ্যে ১১৬ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। এ ছাড়া পরীক্ষায় ছয়জনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে হাম নিশ্চিত হয়েছে।
জেলাভিত্তিক তথ্য বলছে, সর্বোচ্চ ৫২টি মৃত্যু হয়েছে সুনামগঞ্জে। এছাড়া সিলেট জেলায় ৪৩ জন, হবিগঞ্জে ১৪ জন এবং মৌলভীবাজারে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ
গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৯৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে এ ধরনের ২৯৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপও বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিকাদান, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
এ বছর শনাক্ত ৭৮৮টি নিশ্চিত হামের রোগী
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ৭৮৮টি নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে।
এর মধ্যে সিলেট জেলায় ২৫৬ জন, হবিগঞ্জে ৯১ জন (এর মধ্যে দুটি রুবেলা রোগী), মৌলভীবাজারে ৯০ জন এবং সুনামগঞ্জে ৩৫১ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।
ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের নির্ধারিত সময়ে হামের টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে র্যাশ বা হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সিলেটে গত কয়েক মাস ধরে হামের সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















