খিরাই নদীর ওপর পুরোনো বেইলি সেতু ভেঙে পড়ায় চাঁদপুরের সঙ্গে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দাউদকান্দির খামারপাড়া এলাকায় চাঁদপুর-মতলব-দাউদকান্দি-ঢাকা সড়কের এই সেতুটি ধসে পড়ায় চাঁদপুর সদর, মতলব দক্ষিণ, মতলব উত্তর, ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ ও হাইমচরের হাজারো মানুষকে এখন অতিরিক্ত সময় ও খরচ করে বিকল্প পথে ঢাকায় যাতায়াত করতে হচ্ছে।
গত ১ আগস্ট হঠাৎ করেই সেতুটি নদীতে ধসে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, কয়েক হাজার ইটবোঝাই একটি বাল্কহেড সেতুটির নিচ দিয়ে ধীরে ধীরে যাওয়ার সময় সেতুটি ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনার পর বাল্কহেডটি নদীতে ডুবে যায়। তবে এতে থাকা ১৬ থেকে ১৭ জন শ্রমিক সাঁতরে তীরে উঠে নিরাপদে বেরিয়ে আসেন। এ সময় তাঁদের মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নদীতে পড়ে যায়।
ছোট নৌকায় নদী পারাপার
সেতু ধসে পড়ার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের ছোট নৌকায় করে খিরাই নদী পার হতে হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে রোগী ও জরুরি প্রয়োজনে ঢাকামুখী যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে।
স্থানীয় চালক মোফিজ বাকাউ, ফারুক মিয়া ও কবির হোসেন জানান, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে শত শত যানবাহন চলাচল করত। চাঁদপুরের ছয়টি এলাকার মানুষের ঢাকায় যাতায়াতের জন্য এটি ছিল তুলনামূলকভাবে সরাসরি ও কম দূরত্বের পথ।
সেতু ধসে যাওয়ায় এখন যানবাহনগুলোকে গৌরীপুর হয়ে প্রায় ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে যাত্রার সময় বেড়েছে, বাড়ছে জ্বালানি খরচও। এর প্রভাব পড়ছে যাত্রীদের ভাড়ার ওপর।
গুরুতর রোগীদের নিয়ে বাড়ছে দুশ্চিন্তা
চাঁদপুর জেলা সদর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সচালক আবদুল হামিদ বলেন, গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ঢাকায় নেওয়ার ক্ষেত্রে এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা বিশেষ সমস্যার তৈরি করেছে। আগের তুলনায় বিকল্প পথে যেতে বেশি সময় লাগায় জরুরি রোগী পরিবহনে ভোগান্তি বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, স্থায়ী সেতু নির্মাণে সময় লাগতে পারে। তাই মানুষের দুর্ভোগ কমাতে ধসে পড়া সেতুর পাশেই দ্রুত একটি অস্থায়ী বিকল্প সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।
৬ কোটি টাকায় স্থায়ী সেতু নির্মাণ
দাউদকান্দি উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী মোজাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ধসে পড়া সেতুর স্থানে একটি নতুন স্থায়ী কংক্রিট সেতু নির্মাণ করা হবে। এ জন্য সরকার ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে এবং প্রাথমিক কাজও শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, পুরোনো ও দুর্বল হয়ে পড়া বেইলি সেতুটির নাট-বল্টু খুলে সরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব ঠিকাদারকে দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ঠিকাদারের কাজের ত্রুটির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ কবে পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে প্রকৌশলী কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাতে পারেননি। ফলে স্থায়ী সেতু নির্মাণের অপেক্ষায় থাকা হাজারো মানুষের জন্য আপাতত দ্রুত একটি অস্থায়ী পারাপারের ব্যবস্থা করাই প্রধান দাবি হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















