টানা বৃষ্টি ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় নড়াইলের বিস্তীর্ণ এলাকায় আউশ ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে জেলার নিচু জমিগুলো দীর্ঘদিন পানির নিচে থাকায় শত শত কৃষক বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কৃষকদের আশঙ্কা, ক্ষতির পরিমাণ শেষ পর্যন্ত কয়েক কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে।
বুকসমান পানিতে তলিয়ে গেছে ধানক্ষেত
লোহাগড়া উপজেলার আমদার, আঁধারকোটা ও কুচিয়াবাড়ি বিলসহ কয়েকটি নিচু এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ কৃষিজমি বুকসমান পানিতে ডুবে আছে। যেখানে পাকার কথা আউশ ধান, সেখানে এখন শাপলা ও বিভিন্ন জলজ আগাছায় ভরে গেছে জমি। পানিতে হাঁটছে হাঁসের দল।
কৃষকেরা জানান, এসব নিচু জমিতে পানি সহনশীল স্থানীয় জাত ‘রাতুল আউশ’ ভালো ফলন দেয়। পানির উচ্চতা বাড়লেও দ্রুত বেড়ে ওঠার সক্ষমতার কারণে গত কয়েক বছর ধরে এই জাতের আবাদ জনপ্রিয় হয়েছে। আগের বছরগুলোতে ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় চলতি মৌসুমে কৃষকেরা এ জাতের আবাদ আরও বাড়িয়েছিলেন।
৫০টির বেশি বিলে আবাদ
লক্ষ্মীপাশার পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ৫০টিরও বেশি বিলে রাতুল আউশের চাষ করা হয়। এর মধ্যে বাংগ্রাম, নলধী, কোটাকোল, কালাবাড়িয়া, বাইয়াশোনা, পোড়াডাঙ্গা, খাশিয়াল, মাইজপাড়া ও শেখহাটি ইউনিয়ন উল্লেখযোগ্য।
কৃষকদের ভাষ্য, জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাত হঠাৎ করেই নিচু জমিগুলো প্লাবিত করে। পরে পানি দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় ধানের গোড়া পচে যেতে শুরু করে। তাদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত মাছের ঘের এবং ভরাট হয়ে যাওয়া খাল ও নালা পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ করে দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে।
পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় বিপর্যয়
কৃষকেরা দ্রুত অবৈধ মাছের ঘের অপসারণ, বন্ধ হয়ে যাওয়া খাল-নালা পুনরুদ্ধার এবং নদীর সঙ্গে সংযোগ থাকা খালগুলো পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এসব ব্যবস্থা নেওয়া না হলে নিচু এলাকার কৃষি কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে হুমকির মুখে পড়বে।
নড়াইলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জেলায় প্রায় ৯ হাজার ১০৭ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। তবে কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতি সীমিত বলে ধারণা করা হলেও কৃষকেরা এ মূল্যায়নের সঙ্গে একমত নন।
তাদের দাবি, তুলনামূলক উঁচু জমিতে কিছু ধান টিকে থাকলেও নিচু এলাকার অধিকাংশ ধান পানিতে পচে গেছে। এতে কৃষকেরা কয়েক কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
স্থায়ী জলাবদ্ধতা বড় হুমকি
নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ভরাট বা বিলীন হয়ে যাওয়া খালগুলো উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।
তিনি বলেন, নিচু জলাভূমি এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা কৃষি কার্যক্রমের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নড়াইলে আউশ ধানের ক্ষতি নিয়ে কৃষকদের উদ্বেগ এখন মূলত পানি দ্রুত সরানো এবং ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর দিকে। খাল ও নালা পুনরুদ্ধার এবং পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ সচল করা না গেলে নিচু এলাকার কৃষকদের উৎপাদন ও আয়ের ওপর এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে।
নারাইলে আউশ ধানে জলাবদ্ধতার ক্ষতি: টানা বৃষ্টি ও পানি নিষ্কাশনের সংকটে শত শত কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















