বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুজনই জনসম্পৃক্ত নেতা উল্লেখ করে দুই দেশের শীর্ষ নেতার বৈঠক হলে বিদ্যমান অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
রোববার ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে শিশুদের জন্য ‘চিলড্রেন প্লেয়িং এরিয়া’ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আশাবাদ জানান।
দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে সমাধানের আশা
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য বহুবার শুনেছেন। তার ভাষায়, তারেক রহমান একজন জনসম্পৃক্ত নেতা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও একই ধরনের নেতা। দুই নেতা যখন মুখোমুখি বসেন, তখন অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায় বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
তিনি বলেন, দুই দেশের জনগণ একসঙ্গে আছে এবং সমস্যাগুলোর সমাধান অবশ্যই বের হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতিবাচক কিছু দেখছেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ইতিবাচক রয়েছে এবং তিনি এ বিষয়ে অত্যন্ত আশাবাদী।
ভারতীয় ভিসার চাহিদা বাড়ছে
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ার ভিসার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সেই চাহিদা পূরণে ভিসা দেওয়ার সক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়ানো হচ্ছে।
এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতে আমন্ত্রণের বিষয়টি সামনে এসেছে। গত ৪ আগস্ট ভারত জানায়, বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানকে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর আগে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময়ই ভারত থেকে আলাদা দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন।
ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ
ভারত আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করবে। বৈশ্বিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও টেকসই উন্নয়ন সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই তারেক রহমানকে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্য তাকে পৃথক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
বিমসটেকে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড—এই সাত দেশ রয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে পরবর্তী দুই বছরের জন্য সংগঠনটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি
ব্রিকসের আমন্ত্রণের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে ২৯ জুলাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তা দ্রুত জানানো হবে বলে তিনি জানান।
এর মধ্যে শেখ হাসিনাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা
তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আশাবাদের পাশাপাশি ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েনও দেখা দিয়েছে। নয়াদিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্য বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।
ঢাকার অভিযোগ, ভারতের ভূখণ্ড থেকে এমন কিছু কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে, যা বাংলাদেশের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর। এর মধ্যে শেখ হাসিনার নয়াদিল্লিতে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
বাংলাদেশের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং সেখানে দেওয়া বক্তব্যের কোনো কিছুই সরকার সমর্থন করে না।
ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের আয়োজন ছিল এবং এতে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না। বাংলাদেশের যথাযথভাবে গঠিত সরকারের বিষয়ে অনুষ্ঠানে যা বলা হয়েছে, ভারত সরকার তা সমর্থন করে না বলেও তিনি জানান।
ভারতীয় মুখপাত্র আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর পরিস্থিতি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ বিবেচনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে বুধবার রাতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ ছিল, ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশ ও দেশের জনগণের বিরুদ্ধে তীব্র ও বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন।
দুই দেশের সম্পর্কে এমন সংবেদনশীল পরিস্থিতির মধ্যেই তারিক রহমান ও নরেন্দ্র মোদির সম্ভাব্য বৈঠককে সামনে রেখে সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের বিষয়ে আশাবাদ জানিয়েছে ভারত।












