সৌদি আরবে একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। রোববার বিকেলে দেশটির রাজধানী রিয়াদের খোরদাম শহরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের বাড়ি নওগাঁ, নাটোর ও রাজশাহী জেলায় বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
সোমবার ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এ ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
নওগাঁর ১০ জন নিহত

নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ১০ জন আত্রাই উপজেলার বাসিন্দা। তারা হলেন কালিকাপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদ কলি, লুৎফর, জ্যান্ডার ও রুবেল; বিশা ইউনিয়নের সাগর ও মাজিদুল; দুবাই এলাকার শুভ ও সুমন; পারকাসুন্দা গ্রামের জালাল এবং উদনপাই গ্রামের মো. ফরিদ শেখ।
তাদের বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে বলে জানা গেছে। অগ্নিকাণ্ডে একই উপজেলার একসঙ্গে এতজনের প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়ভাবে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
নাটোরের তিনজনের পরিচয় শনাক্ত
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল আমনান খান তিন নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। তারা হলেন খাজুরা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা সাব্বির হোসেন শুভ, শামীম হোসেন ও রাবিউল আওয়াল হৃদয়।

এ ঘটনায় নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে এখন পর্যন্ত নওগাঁর ১০ জন ও নাটোরের তিনজনের পরিচয় জানা গেছে। বাকি নিহতদের পরিচয় এবং তাদের বাড়ির ঠিকানা সম্পর্কে মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
রিয়াদের খোরদাম শহরে অগ্নিকাণ্ড
স্থানীয় সময় অনুযায়ী রোববার বিকেলে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের খোরদাম শহরের একটি সোফা কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। বাংলাদেশ সময় আনুমানিক বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।
অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারি সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















