ঢাকার সড়কে চলাচল করা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মালিক ও চালকদের প্রতিনিধিরা। তাদের দাবি, নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হলে একদিকে যেমন সড়কে হয়রানি কমবে, অন্যদিকে সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় করতে পারবে।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ইলেকট্রিক ব্যাটারি ও মোটরচালিত অটোরিকশা অটোবাইক সার্ভিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম এ দাবি জানান।
তিনি বলেন, তারা কর দিতে এবং আইন মেনে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে আগ্রহী। কিন্তু বর্তমানে নিবন্ধন না থাকায় তাদের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলোকে অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা আটক করছেন।
আটক করা অটোরিকশা ছাড়িয়ে নিতে অনেক সময় ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন আবুল কালাম। তার ভাষ্য, এ ধরনের পরিস্থিতির কারণে চালক ও মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং তারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার জন্য একটি সুস্পষ্ট ও কার্যকর আইনি নীতিমালা তৈরিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
আবুল কালাম বলেন, সরকার যদি এসব অটোরিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় আনে, তাহলে প্রতিটি গাড়ি থেকে প্রায় ৮ হাজার টাকা করে রাজস্ব আদায় করা সম্ভব। এতে সরকার যেমন রাজস্ব পাবে, তেমনি যানবাহনগুলোও একটি নির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর মধ্যে পরিচালনার সুযোগ পাবে।
ঢাকাতেই বিপুল সংখ্যক অনিবন্ধিত অটোরিকশা

তিনি জানান, শুধু ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকাতেই প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার অনিবন্ধিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। প্রতিটি অটোরিকশা নিবন্ধনের মাধ্যমে ৮ হাজার টাকা করে রাজস্ব আদায় করা হলে এই খাত থেকেই প্রায় ১৯২ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নিবন্ধনের মাধ্যমে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলোকে একটি নিয়মের মধ্যে আনা গেলে সড়কে তাদের চলাচল, কর প্রদান এবং আইন প্রয়োগ—সব ক্ষেত্রেই শৃঙ্খলা বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে মালিক ও চালকদের হয়রানির অভিযোগও কমতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















