রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় বিরোধী জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরের আগে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন এই জোটের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশন ভবনে গিয়ে তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দেয়।
সকাল ১১টা ৪৯ মিনিটে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
মনোনয়নপত্রে অলি আহমেদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে প্রস্তাব করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদ সদস্য ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর প্রস্তাব সমর্থন করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন।
এর আগে ১১ দলীয় বিরোধী জোট লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদকে রাষ্ট্রপতি পদে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এবার একাধিক প্রার্থীর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
গত ৬ আগস্ট নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে ইতোমধ্যে সংসদ সদস্যদের নিয়ে ভোটের আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। ওই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।
নির্বাচনে মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোটার হিসেবে ভোট দেবেন। চট্টগ্রাম-৪ আসনটি বর্তমানে শূন্য থাকায় ভোটার সংসদ সদস্যের সংখ্যা ৩৪৯ জন।
১৬ আগস্ট মনোনয়ন যাচাই
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট।
এরপর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী ২০ আগস্ট সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

৩৫ বছর পর একাধিক প্রার্থীর নির্বাচন
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ইতিহাসে এবারের নির্বাচন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এমন একটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে, যেখানে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
১৯৯১ সালের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী নিয়ে ভোট হওয়ার ঘটনা আর ঘটেনি। সে কারণে অলি আহমেদের প্রার্থিতা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
এদিকে বিএনপির সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামও আলোচনায় রয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কতটা জমে ওঠে, সেদিকেই এখন রাজনৈতিক মহলের নজর।
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নির্বাচন
গত ২৪ জুলাই মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের ২ উপধারা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ পদত্যাগের কারণে শূন্য হলে সেই পদ পূরণের জন্য ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হয়। সেই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার আওতায় এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করছে নির্বাচন কমিশন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলি আহমেদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে ভোটের আনুষ্ঠানিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এখন মনোনয়ন যাচাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরই বোঝা যাবে ২০ আগস্টের ভোটে কারা মুখোমুখি হচ্ছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















