ইরান যুদ্ধ এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়ার তথ্য গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পর পেন্টাগনে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন তদন্ত। এর অংশ হিসেবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট স্টাফের প্রায় ৫০ কর্মকর্তা ও বেসামরিক কর্মীকে পলিগ্রাফ বা মিথ্যা শনাক্তকারী পরীক্ষার মুখোমুখি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
আগস্টে এসব পরীক্ষা নেওয়া হয়। তদন্তকারীরা কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান, তারা গণমাধ্যমের কাছে কোনো গোপন বা শ্রেণিবদ্ধ তথ্য দিয়েছেন কি না এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেছেন কি না।
গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত নিয়ে খবর
সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে আসে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক গোলাবারুদের মজুত কমে গেছে। এর মধ্যে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টরও রয়েছে।
এই প্রতিবেদনগুলোর পরই পেন্টাগনে তথ্য ফাঁসের উৎস খুঁজতে তদন্ত জোরদার করা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, পলিগ্রাফ পরীক্ষার এই ব্যাপক প্রয়োগের উদ্দেশ্য শুধু তথ্য ফাঁসকারীদের শনাক্ত করা নয়, ভবিষ্যতে অন্যদের এমন তথ্য প্রকাশ থেকে নিরুৎসাহিত করাও হতে পারে।
জয়েন্ট স্টাফে কাজ করেন ১,৫০০-২,০০০ কর্মকর্তা
মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট স্টাফে প্রায় ১,৫০০ থেকে ২,০০০ কর্মকর্তা ও কর্মকর্তা পর্যায়ের কর্মী কাজ করেন। তারা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ পরিচালনাকারী কমান্ডারদের সঙ্গে সামরিক অভিযান, নীতি ও যুদ্ধপরিকল্পনা সমন্বয় করেন।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর আধুনিক ইতিহাসে এত বড় পরিসরে এবং এত উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ওপর পলিগ্রাফ পরীক্ষা চালানোর নজির নেই বলে জানিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত নেভি রিয়ার অ্যাডমিরাল ডোনাল্ড জে. গুটার। ২০০০ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত তিনি নৌবাহিনীর শীর্ষ আইন কর্মকর্তা ছিলেন।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল বলেছেন, অভ্যন্তরীণ কর্মী বা তদন্তসংক্রান্ত বিষয়ে তারা মন্তব্য করেন না। তবে জাতীয় নিরাপত্তার শ্রেণিবদ্ধ তথ্য সুরক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং এ ধরনের তথ্য ফাঁসের ঘটনা যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়।
পেন্টাগনে বাড়ছে অবিশ্বাস
ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের কৌশল এবং সামরিক গোলাবারুদের সংকট নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের মধ্যেই এই তদন্ত সামনে এলো। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তথ্য ফাঁসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে চাপ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধ পরিচালনা এবং গোলাবারুদের ঘাটতি নিয়ে সমালোচনামূলক সংবাদকে তিনি ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
পেন্টাগনের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, এসব পদক্ষেপের ফলে প্রতিরক্ষা দপ্তরের ভেতরে অবিশ্বাস ও সন্দেহের পরিবেশ আরও গভীর হয়েছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের নেতৃত্ব নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে বিতর্ক বেড়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি অন্তত ৮০ জন জেনারেল, অ্যাডমিরাল ও অন্যান্য কর্মকর্তার পদোন্নতি আটকে দিয়েছেন বা তাদের সরিয়ে দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে রিপাবলিকান দলের কয়েকজন সিনেটরও প্রকাশ্যে হেগসেথের সমালোচনা শুরু করেছেন। নর্থ ক্যারোলাইনার সিনেটর থম টিলিস তাকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় তিনি ‘অদক্ষ ব্যবস্থাপনা’র উদাহরণ তৈরি করেছেন। তবে ট্রাম্প এখনও হেগসেথের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাকে ‘দারুণ কাজ’ করছেন বলে মন্তব্য করেছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















