যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে জুন মাসে চাকরির শূন্যপদ সামান্য কমলেও সামগ্রিকভাবে কর্মসংস্থানের বাজার এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী রয়েছে। ইরানে যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হলেও তার বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব এখনো শ্রমবাজারে দেখা যায়নি।
জুনে চাকরির শূন্যপদ কমেছে
মার্কিন শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে দেশটির নিয়োগদাতারা প্রায় ৭৩ লাখ ৬০ হাজার চাকরির পদ খালি রেখেছিলেন। মে মাসে এই সংখ্যা ছিল ৭৫ লাখ ৪০ হাজার। অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের সঙ্গেই জুনের পরিসংখ্যান মোটামুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এদিকে জুনে চাকরি হারানোর ঘটনা খুব বেশি পরিবর্তিত হয়নি। প্রায় ১৮ লাখ মানুষ চাকরি ছেড়েছেন। তবে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার হার সামান্য বেড়েছে। সাধারণত মানুষ যখন নতুন চাকরি পাওয়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী থাকে, তখন স্বেচ্ছায় বর্তমান চাকরি ছাড়ার প্রবণতা বাড়ে।
গত বছরের তুলনায় কর্মসংস্থানে বড় উন্নতি
চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমবাজারের চিত্র গত বছরের তুলনায় অনেকটাই উন্নত হয়েছে। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৯২ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।
অথচ গত বছর মাসে গড়ে ১০ হাজারেরও কম নতুন চাকরি তৈরি হয়েছিল। ২০০২ সালের পর মন্দার সময় বাদ দিলে সেটিই ছিল সবচেয়ে দুর্বল কর্মসংস্থান পরিস্থিতিগুলোর একটি।
উচ্চ সুদের হার এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতিকে ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে গত বছর অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী নিয়োগে সতর্ক অবস্থান নিয়েছিল। চলতি বছর সেই পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে।
কম চাকরি তৈরি হলেও বেকারত্ব বাড়ছে না
আগামী শুক্রবার জুলাই মাসের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের ধারণা, জুলাইয়ে প্রায় ১ লাখ নতুন চাকরি তৈরি হয়েছে, যা জুনের ৫৭ হাজারের তুলনায় বেশি। বেকারত্বের হারও ৪ দশমিক ২ শতাংশের কাছাকাছি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অতীতে মাসে ১ লাখ নতুন চাকরি সৃষ্টি হলে সেটিকে খুব একটা শক্তিশালী কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধি হিসেবে দেখা হতো না। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের কাঠামো এখন বদলে গেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ নীতি এবং বেবি বুম প্রজন্মের ব্যাপক অবসরের কারণে শ্রমবাজারে নতুন কর্মীর সংখ্যা কমছে। ফলে বেকারত্বের হার স্থিতিশীল রাখতে আগের মতো বিপুলসংখ্যক নতুন চাকরি তৈরি করার প্রয়োজন হচ্ছে না।
কিছু অর্থনীতিবিদের মতে, বেকারত্বের হার না বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় নতুন চাকরির সংখ্যা প্রায় শূন্যের কাছাকাছিও নেমে আসতে পারে।
যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও স্থিতিশীল অর্থনীতি
ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানির দাম বেড়েছে। এতে মার্কিন অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত শ্রমবাজার সেই ধাক্কা সামলে নেওয়ার সক্ষমতা দেখাচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, চাকরির শূন্যপদে সামান্য পতন ঘটলেও নিয়োগ, চাকরি ছাড়ার প্রবণতা এবং বেকারত্বের হার—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার এখনো তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















