ইংল্যান্ডের পোর্টসমাউথে ফ্রান্সের নরম্যান্ডি থেকে ১৪০ অভিবাসী বহনকারী একটি ডিঙি নৌকা পৌঁছানোর পর ব্যাপক বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ৫০০ বিক্ষোভকারী রাস্তায় অবস্থান নিয়ে অভিবাসীদের কেন্টের ম্যানস্টন প্রসেসিং সেন্টারে নেওয়ার পথে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
সোমবার ভোররাতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার পোর্টসমাউথে পৌঁছানো অভিবাসীদের প্রক্রিয়াকরণ শুরু হয়েছে।
পোর্টসমাউথে নতুন পথে অভিবাসী আগমন
বড় আকারের ডিঙি নৌকাটি পোর্টসমাউথ ও আইল অব ওয়াইটের মধ্যবর্তী সোলেন্ট এলাকায় আটক করা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, নৌকাটি ফ্রান্সের নরম্যান্ডির উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করে। প্রায় ৬৮ মাইলের এই যাত্রাকে ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পার হওয়ার দীর্ঘতম যাত্রাগুলোর একটি বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনাটি দক্ষিণ ইংল্যান্ডের উপকূলে অভিবাসী পাচারকারীরা নতুন পথ ব্যবহার করছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। হ্যাম্পশায়ার ও আইল অব ওয়াইটের পুলিশ ও ক্রাইম কমিশনার ডোনা জোনস আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ডোভার আর পাচারকারীদের প্রধান গন্তব্য না থাকলে দক্ষিণ ইংল্যান্ডের বিভিন্ন উপকূলে এমন আগমন ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তিনি বলেন, দক্ষিণ ইংল্যান্ডের উপকূলজুড়ে শত শত মাইল এলাকা রয়েছে এবং ডোভারের পরিবর্তে অন্য জায়গাগুলো গন্তব্য হলে এটি সরকারের জন্য বড় ধরনের সমস্যা হয়ে উঠতে পারে।
বিক্ষোভে উত্তেজনা, পুলিশের কঠোর অবস্থান
অভিবাসীদের ইস্টনি মেরিনায় নামিয়ে আনার পর তাদের বহনকারী যানবাহনের চলাচল বন্ধ করতে বড় একটি দল সড়ক অবরোধ করে। পুলিশের দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী সদস্যরা ঢাল হাতে বিক্ষোভকারীদের মুখোমুখি হন।
বিক্ষোভকারীদের একটি ছোট দল লাইফবোট স্টেশনের কাছে সৈকতে অবস্থান নেয়। পুলিশ, কোস্টগার্ড বা রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউশনের (আরএনএলআই) উদ্ধারকর্মীরা এগিয়ে এলে অন্ধকারে পানির নিচে চলে যাওয়ার হুমকিও দেয় তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবিতে বিক্ষোভকারীদের পানিতে অবস্থান করতেও দেখা যায়।
শনিবার ডোভারে শত শত মুখোশধারী ব্যক্তি অভিবাসীদের চলাচলের পথ আটকে দেওয়ার চেষ্টা করার পর এটি ছিল সপ্তাহান্তে দ্বিতীয় বড় ধরনের বিক্ষোভ।
সরকারের নিন্দা
পোর্টসমাউথের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে বলা হয়, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ গণতন্ত্রের মৌলিক অধিকার হলেও তা কোনোভাবেই বিশৃঙ্খলায় পরিণত হওয়া উচিত নয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করা জরুরি সেবার কর্মীদেরও ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
ট্রেজারির চিফ সেক্রেটারি এমা রেনল্ডসও ঘটনাটিকে ভয় দেখানো ও বিশৃঙ্খল আচরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য, এটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ নয় এবং এমন পরিস্থিতি কোথাও দেখা উচিত নয়।
অন্যদিকে, রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজ ঘটনাটিকে দক্ষিণ উপকূলে অভিবাসী আগমনের নতুন প্রবণতা হিসেবে তুলে ধরে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















