যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় একটি পণ্যবাহী বিমান রানওয়ে ছাড়িয়ে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েছে। ভয়াবহ এ ঘটনায় পাঁচজন নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। একই সময়ে জার্মানির সাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে উগ্র ডানপন্থী অলটারনেটিভ ফর জার্মানি বা এএফডি বড় জয় পাওয়ায় দেশটির রাজনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মিয়ামি বিমানবন্দরে ভয়াবহ দুর্ঘটনা
রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে অ্যামাজনের একটি পণ্যবাহী বিমান মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় রানওয়ে ছাড়িয়ে যায়। এরপর বিমানটি মাটিতে থাকা কয়েকটি যানবাহনের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে বিধ্বস্ত হয়।
দুর্ঘটনায় পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতদের মধ্যে কারা বিমানে ছিলেন আর কারা মাটিতে ছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিমানটি পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে মিয়ামির উদ্দেশে যাত্রা করেছিল।
দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তকারীরা বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটি, পাইলটদের কার্যক্রম এবং আবহাওয়াসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখবেন। বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে চলে, কারণ একটি দুর্ঘটনার পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
মিয়ামি বিমানবন্দরের রানওয়েগুলো তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ হওয়ায় সেখানে রানওয়ে ছাড়িয়ে যাওয়া বিমান থামাতে বিশেষ ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
ইউক্রেনে শান্তি আলোচনার চেষ্টা, তবে অগ্রগতি নেই
এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বৈঠককে তারা গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করলেও বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। এর আগে তারা মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও দীর্ঘ আলোচনা করেছিলেন। তাদের লক্ষ্য হলো ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনা আবার শুরু করা।
যুদ্ধের সময় এটি ছিল দুই মার্কিন দূতের প্রথম ইউক্রেন সফর। তবে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা এখনো রয়ে গেছে। রাশিয়া শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে থাকা কিছু ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার দাবি করছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের অধিকাংশ মানুষ এ ধরনের ছাড়ের বিরোধিতা করছেন।
জার্মানিতে উগ্র ডানপন্থীদের বড় জয়
জার্মানির সাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে উগ্র ডানপন্থী এএফডি বড় ধরনের জয় পেয়েছে। দলটি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে তারা শেষ পর্যন্ত রাজ্য সরকার গঠন করতে পারবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
এই ফলাফল জার্মানির রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোড়ন তৈরি করেছে। এএফডি সরকার গঠন করতে পারলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানিতে উগ্র ডানপন্থীদের জন্য তা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অর্জন।
দলের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর পেছনে ৩৫ বছর বয়সী নেতা উলরিশ জিগমুন্ডের ভূমিকার কথাও উঠে এসেছে। তবে তার দলকে জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা সাক্সনি-আনহাল্টে উগ্রপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
এএফডির অন্যতম বিতর্কিত নীতি হলো ব্যাপক অভিবাসী ও শরণার্থী প্রত্যাবাসনের ধারণা। দলটি স্কুলে শরণার্থী ও প্রতিবন্ধী শিশুদের আলাদা করার মতো নীতির কথাও বলে আসছে। ফলে নির্বাচনের এই ফলাফল জার্মানির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
একসঙ্গে সামনে এলো দুর্ঘটনা, যুদ্ধ ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের ছবি
মিয়ামি বিমানবন্দরের ভয়াবহ দুর্ঘটনা, ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং জার্মানিতে উগ্র ডানপন্থীদের উত্থান—তিনটি ঘটনাই আন্তর্জাতিক রাজনীতির ভিন্ন ভিন্ন দিক তুলে ধরছে। কোথাও প্রাণহানির শোক, কোথাও যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা, আবার কোথাও রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলে যাওয়ার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।
মিয়ামি বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত যেমন এখনো চলছে, তেমনি ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি আলোচনাতেও বড় কোনো সমাধান আসেনি। আর জার্মানির নির্বাচনের ফল দেশটির মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















