এক ফ্লাইট থেকে নেমে আরেক ফ্লাইট ধরতে গিয়ে হাতে থাকে মাত্র কয়েক মিনিট। গন্তব্যের ফটকে পৌঁছাতেই বোঝা যায়, খাবার কেনার জন্য লাইনে দাঁড়ানোর সময় নেই। শেষ পর্যন্ত ক্ষুধার্ত অবস্থায়ই পরের ফ্লাইটে উঠতে হয়। সংযোগকারী ফ্লাইটের যাত্রীদের এমন বিড়ম্বনা কমাতে নতুন একটি সুবিধার পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু করেছে ইউনাইটেড এয়ারলাইনস।
মোবাইলেই মিলবে খাবারের সুযোগ
২ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই সুবিধার পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ফ্লাইট ছাড়ার আগে যাত্রীর মোবাইল অ্যাপে একটি বার্তা পাঠানো হবে। সেখানে খাবার ও ভ্রমণের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রীর তালিকা থাকবে।
যাত্রীরা স্যান্ডউইচ, সালাদ, শিশুদের খাবার, পানীয়, চিপস, মিষ্টিজাতীয় খাবার, সাধারণ ওষুধ, ভ্রমণের বালিশ এবং মোবাইল চার্জ দেওয়ার তারের মতো জিনিস অর্ডার করতে পারবেন।
সবচেয়ে সুবিধার বিষয় হলো, খাবার সংগ্রহের জন্য যাত্রীকে দূরের কোনো দোকানে যেতে হবে না। অর্ডার করা খাবার নির্ধারিত ফটকের কাছেই একটি সংগ্রহস্থলে প্রস্তুত রাখা হবে। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই খাবার নিয়ে বিমানে ওঠা সম্ভব হবে।
অল্প সময়ের যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে উদ্যোগ
নিউয়ার্ক বিমানবন্দরকে এই পরীক্ষার জন্য বেছে নেওয়ার কারণও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যস্ত সংযোগকারী বিমানবন্দর। প্রতিদিন বহু যাত্রী সেখানে একটি বিমান থেকে নেমে অল্প সময়ের ব্যবধানে অন্য বিমানে ওঠেন।
ফলে বিমানবন্দরের ভেতরে খাবার কেনার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ইউনাইটেডের নতুন উদ্যোগের লক্ষ্য হলো, যাত্রীরা যেন সময় নষ্ট না করেই প্রয়োজনীয় খাবার ও কিছু ভ্রমণসামগ্রী হাতে পান।
বর্তমানে টার্মিনাল সির নয়টি ফটকে এই সুবিধা পরীক্ষামূলকভাবে চালু রয়েছে। নির্দিষ্ট কয়েকটি ফটক দিয়ে যেসব বিমান ছেড়ে যায় বা সংযোগকারী যাত্রীদের নিয়ে আসে, তাদের জন্যই আপাতত এই ব্যবস্থা প্রযোজ্য।
খাবার পৌঁছে দেবে বিমানবন্দরের খাবারসেবা প্রতিষ্ঠান
টার্মিনাল সিতে থাকা কয়েকটি খাবারের দোকান থেকে অর্ডার করা খাবার প্রস্তুত করা হচ্ছে। এরপর বিমানবন্দরের খাবার ও খুচরা পণ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান সেগুলো যাত্রীর নির্ধারিত ফটকে পৌঁছে দিচ্ছে।
তবে ভ্রমণের বালিশ, চার্জ দেওয়ার তার ও সাধারণ ওষুধ কোথা থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এবার হিউস্টনেও চালুর পরিকল্পনা
নিউয়ার্কের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হলে চলতি বছরের শেষের দিকে হিউস্টন বিমানবন্দরেও এই সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে খাবার কোনো নির্দিষ্ট সংগ্রহস্থলে রেখে দেওয়ার বদলে সরাসরি যাত্রীর হাতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ আরও বড় পরিসরে চালু হলে বিমানের ভেতরে আসনের সামনে থাকা পর্দা ব্যবহার করেও খাবার অর্ডার করার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিমানবন্দরে এমন উদ্যোগ অবশ্য নতুন নয়
নিউয়ার্ক বিমানবন্দরেই কয়েক বছর আগে যাত্রীদের আসন থেকে খাবার অর্ডার করার ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। তখন টার্মিনালের বিভিন্ন জায়গায় বিপুলসংখ্যক ট্যাবলেট বসানো হয়েছিল। যাত্রীরা নিজেদের আসন না ছেড়েই খাবার ও পানীয় অর্ডার করতে পারতেন।
পরে সেই ট্যাবলেট সরিয়ে কিউআর সংকেতভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করা হয়। মোবাইল ফোন দিয়ে সংকেত স্ক্যান করে যাত্রীরা খাবার অর্ডার করতে পারেন। আগে থেকে খাবার অর্ডার করে রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে।
বিভিন্ন বিমানবন্দর ও বিমান সংস্থাও এরই মধ্যে যাত্রীদের ফটকে খাবার পৌঁছে দেওয়ার মতো ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে ইউনাইটেডের নতুন উদ্যোগের বিশেষত্ব হলো, সংযোগকারী ফ্লাইটের অল্প সময়ের যাত্রীদের কথা মাথায় রেখেই পুরো প্রক্রিয়াটি সাজানো হয়েছে।
ব্যস্ত যাত্রায় একটু স্বস্তির আয়োজন
বিমানবন্দরে ফ্লাইট বদলানোর সময় কয়েক মিনিটও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সেই ব্যস্ত সময়ের মধ্যে খাবারের জন্য ছুটতে না হলে যাত্রীরা যেমন সময় বাঁচাতে পারবেন, তেমনি দীর্ঘ যাত্রার মাঝেও একটু স্বস্তি পাবেন।
ইউনাইটেডের এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে সংযোগকারী ফ্লাইটের যাত্রীদের জন্য বিমানবন্দরের খাবার পাওয়ার অভিজ্ঞতাই বদলে যেতে পারে। ব্যস্ত ফ্লাইটের মাঝেও তখন ক্ষুধার্ত অবস্থায় বিমানে ওঠার দিন হয়তো ধীরে ধীরে শেষ হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















