শরৎ এলেই পোশাকে আসে নতুনত্বের ভাবনা। গরমের হালকা পোশাক সরিয়ে আলমারিতে জায়গা করে নেয় জিনস, বোনা পোশাক, কোট, জ্যাকেট ও নানা ধরনের আরামদায়ক পোশাক। আর এই ঋতুর সাজে অনুপ্রেরণা খুঁজতে গেলে বহু বছর আগের জেন বারকিনের ছবিগুলো আজও সমান প্রাসঙ্গিক।
ব্রিটিশ গায়িকা, অভিনেত্রী ও ফরাসি সংস্কৃতির অন্যতম পরিচিত মুখ জেন বারকিন ২০২৩ সালে ৭৬ বছর বয়সে মারা যান। তবে তাঁর নিজস্ব পোশাকের ধরন এখনো ফ্যাশনপ্রেমীদের কাছে আকর্ষণীয়। বিশেষ করে শরতের পোশাকে তাঁর স্বচ্ছন্দ, কিছুটা এলোমেলো অথচ আত্মবিশ্বাসী সাজ ছিল একেবারেই আলাদা।
স্বচ্ছন্দ পোশাকেই ছিল তাঁর নিজস্বতা
জেন বারকিন একবার বলেছিলেন, পুরোনো জিনস, কেডস ও পুরুষের ঢিলেঢালা জার্সিতেই তিনি সবচেয়ে স্বচ্ছন্দ বোধ করতেন। তাঁর পোশাকের এই সরলতা আসলে ছিল তাঁর ব্যক্তিত্বেরই প্রতিফলন।
পুরোনো ছবিগুলোতে দেখা যায়, ঢিলেঢালা বোনা পোশাক, বড় কলারের উলের কোট, ছাপা নকশার সোয়েটার, ভাঁজওয়ালা কলারের ব্লাউজ ও সাধারণ জিনসের সঙ্গে নানা ধরনের জুতা পরতেন তিনি। অনেক সময় এমন সব পোশাক একসঙ্গে পরতেন, যেগুলো প্রচলিত অর্থে একে অপরের সঙ্গে মেলে না। তবু তাঁর আত্মবিশ্বাস সেই অসম সমন্বয়কেও অনায়াসে আকর্ষণীয় করে তুলত।
একটি সাজে জিনস ও বোতাম লাগানো শার্টের সঙ্গে কাঁধে ঝোলানো সোয়েটার এবং পায়ে উঁচু হিলের জুতা—এমন বৈপরীত্যই ছিল তাঁর ফ্যাশনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
ঝুড়ির ব্যাগেই তৈরি হয়েছিল এক কিংবদন্তি
জেন বারকিনের হাতে প্রায়ই দেখা যেত সাধারণ বেতের ঝুড়ি। সেটিই পরবর্তীতে বিলাসবহুল ফ্যাশনজগতের সবচেয়ে পরিচিত ব্যাগগুলোর একটির নামকরণের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়।
২০১৮ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ঝুড়ি হাতে বহন করার জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন। তাঁর ধারণা ছিল, নারীরা হাতব্যাগে অনেক কিছু রাখতে পছন্দ করেন। তাঁর সেই সহজ, ব্যবহারিক ঝুড়িই পরবর্তীতে বিখ্যাত বিলাসবহুল হাতব্যাগের অনুপ্রেরণার অংশ হয়ে ওঠে।
কালো পোশাক ও বেতের ঝুড়ি
শরতের সন্ধ্যার জন্য জেন বারকিনের একটি পুরোনো সাজ হতে পারে দারুণ অনুপ্রেরণা। সাধারণ কালো পোশাকের সঙ্গে বেতের ঝুড়ি—সরল অথচ ব্যক্তিত্বপূর্ণ এই সমন্বয় আজও সহজে নজর কাড়ে।
চোখে পড়ার মতো অলংকার
সাদামাটা পোশাকের সঙ্গে বড় ও স্বতন্ত্র অলংকার ব্যবহারের অভ্যাসও ছিল তাঁর। গলায় বিশেষ ধরনের লকেট বা চোখে নজরকাড়া রোদচশমা—এমন ছোটখাটো সংযোজনই সাধারণ সাজকে আলাদা করে তুলত।
বোতাম-শার্ট ও ছড়ানো পায়ের জিনস
ঢিলেঢালা বোতাম-শার্টের সঙ্গে ছড়ানো পায়ের জিনস ছিল বারকিনের অন্যতম স্বাভাবিক সাজ। শরতের আরামদায়ক দিনের জন্য এমন পোশাক এখনো সহজে অনুসরণ করা যায়। এর সঙ্গে সাধারণ জুতা বা ছোট ব্যাগ যোগ করলেই তৈরি হতে পারে অনায়াস সাজ।
সাধারণ বোনা পোশাক ও মখমলের জুতা
জেন বারকিনের আরেকটি বিশেষত্ব ছিল অতিরিক্ত সাজসজ্জা এড়িয়ে চলা। সাধারণ গলার বোনা পোশাকের সঙ্গে নরম মখমলের জুতা—এই ধরনের সংযত সমন্বয়ে তাঁর স্বাভাবিক সৌন্দর্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠত।
মোটা বেল্টে বদলে যেত জিনসের চেহারা
জিনসের সঙ্গে চওড়া বেল্ট ব্যবহারের মধ্যেও ছিল তাঁর নিজস্ব স্বাক্ষর। সাধারণ জিনস ও ওপরের পোশাকের সঙ্গে একটি মোটা বেল্ট যোগ করেই তিনি পুরো সাজে ভিন্ন মাত্রা আনতেন।
লম্বা কোট ও নরম জুতার সৌন্দর্য
লম্বা কোটের সঙ্গে হালকা নকশার নরম জুতা—বারকিনের আরেকটি স্মরণীয় শরতের সাজ। এতে ছিল একদিকে শহুরে পরিশীলন, অন্যদিকে তাঁর চিরচেনা স্বচ্ছন্দ ভাব।
ছোট পোশাকেও শরতের ছোঁয়া
শরৎ মানেই যে শুধু ভারী পোশাক, বারকিনের সাজ তা মানত না। হালকা ঢেউখেলানো নকশার ওপরের পোশাক ও ছোট প্যান্টের সঙ্গে শহুরে রাস্তায় তাঁর উপস্থিতি দেখিয়েছে, ঋতুভিত্তিক পোশাকেও ব্যক্তিগত স্বকীয়তা ধরে রাখা যায়।
জেন বারকিনের ফ্যাশনের আসল শক্তি ছিল পোশাকের দাম বা জটিলতায় নয়, বরং সেটি পরার আত্মবিশ্বাসে। তাঁর নিজের ভাষায়, আত্মবিশ্বাস ছাড়া সত্যিকারের আড়ম্বরপূর্ণ হওয়া কঠিন। তাই কয়েক দশক আগের তাঁর পোশাক আজও নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে আছে—বিশেষ করে এমন শরতে, যখন আরাম আর ব্যক্তিত্বকে একসঙ্গে ধরে রাখাই হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে বড় ফ্যাশন-বার্তা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















