০১:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা, আগুন ও সাময়িকভাবে বন্ধ কিছু কার্যক্রম জলবায়ু ঝুঁকির প্রমাণ আছে, এবার নেপালের দরকার কার্যকর পদক্ষেপ জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্টে উগ্র ডানপন্থীদের বড় জয়, চাপে মূলধারার রাজনীতি নেপালের ‘জেন জি’ আন্দোলনের এক বছর, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতাও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে না: কার্কি ‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি চার প্রদেশ নিয়েই অখণ্ড থাকবে পাকিস্তান, নতুন প্রদেশের প্রস্তাব নাকচ সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রীর নিউইয়র্কে বসছে ভোগ বিজনেসের বৈশ্বিক সম্মেলন, টিকিট বিক্রি শুরু ‘ক্লিন গার্ল’ যুগের বিদায়, বসন্ত-গ্রীষ্ম ২০২৭-এ আসছে নতুন ফ্যাশন ধারা দামি গয়না খোঁজার নতুন ঠিকানা কি টিকটক? বদলে যাওয়া শরীরের জন্য বিলাসবহুল ফ্যাশন, নতুন বাজার তৈরি করছে ওয়েলডান

কারখানার মেঝেতেই জাপানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আসল লড়াই

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে জাপান যেন ভুল জায়গায় প্রতিযোগিতা করছে। বিশাল তথ্যকেন্দ্র তৈরি কিংবা আরও শক্তিশালী চিপ তৈরির পেছনে ছুটে না গিয়ে দেশটির উচিত এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি করা, যা সরাসরি কারখানায় কাজে লাগানো যায়। কারণ উৎপাদনশিল্পে জাপানের যে দীর্ঘদিনের দক্ষতা, সেটিই হতে পারে এই প্রযুক্তিতে তার বড় শক্তি।

উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার

আইচি প্রদেশের ওবু শহরে টয়োটার অ্যালুমিনিয়াম ঢালাই কারখানায় একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবস্থা প্রতিবার ঢালাইয়ের সময় প্রায় ৪০ হাজার তথ্যবিন্দু বিশ্লেষণ করে। ধাতু ঠান্ডা হওয়ার আগেই সেটি সম্ভাব্য ত্রুটি শনাক্ত করতে পারে।

একইভাবে ইয়ামানাশি প্রদেশের ওশিনো এলাকায় ফানুকের কারখানায় রোবটই অন্য রোবট তৈরি করছে। সেখানে যন্ত্রের কম্পনের তথ্য বিশ্লেষণ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আগেই অনুমান করতে পারে, কোনো মোটরে ত্রুটি দেখা দিতে যাচ্ছে কি না।

Japan urged to focus AI on factory modernization — The Japan Times | UA.NEWS

আইচি প্রদেশের তোয়োটা শহরের কাছে মুসাশি সেইমিৎসুর কারখানায়ও প্রযুক্তিটির ব্যবহার আরও সরাসরি। সেখানে একটি যান্ত্রিক হাত গিয়ার তুলে আলোতে ঘুরিয়ে মাত্র দুই সেকেন্ডের মধ্যে তাতে কোনো ত্রুটি আছে কি না শনাক্ত করে।

বিশাল তথ্যকেন্দ্র নয়, কারখানার কাছেই প্রযুক্তি

এই ব্যবস্থাগুলোর কোনোটিই বিশাল ক্ষমতার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল নয়। এগুলো চালাতে কারখানার ভেতরেই প্রান্তীয় কম্পিউটিং ব্যবস্থায় এক বা দুটি গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিট যথেষ্ট। বিদ্যুৎ খরচও তুলনামূলকভাবে কম—প্রায় ৫ থেকে ১০ কিলোওয়াট।

অন্যদিকে বৃহৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামোর জন্য বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়। কিন্তু জাপানের শিল্পখাতের বাস্তব প্রয়োজন অনেক ক্ষেত্রে ভিন্ন। সেখানে এমন প্রযুক্তিই বেশি কার্যকর, যা সরাসরি উৎপাদনব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে ত্রুটি কমাতে, যন্ত্রপাতির আয়ু বাড়াতে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে।

From dance floor to war: China readies humanoid robots for combat | The  Asahi Shimbun: Breaking News, Japan News and Analysis

জাপানের আসল প্রতিযোগিতার জায়গা

তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় জাপানের সাফল্য শুধু কত বড় তথ্যকেন্দ্র তৈরি হলো কিংবা কত শক্তিশালী চিপ তৈরি হলো—এ দিয়ে মাপা উচিত নয়। কারখানার প্রতিটি ধাপে প্রযুক্তিটি কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে, সেটিই হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

জাপানের দীর্ঘদিনের শিল্পদক্ষতা, উন্নত উৎপাদনব্যবস্থা ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপ্রযুক্তির সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয় দেশটিকে ভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দিতে পারে। ভবিষ্যতের লড়াই তাই শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কে সবচেয়ে শক্তিশালী বানাতে পারে, তা নিয়ে নয়; বরং কে সেটিকে সবচেয়ে কার্যকরভাবে বাস্তব শিল্পে কাজে লাগাতে পারে, সেটিই হতে পারে বড় প্রশ্ন।

জাপানের শিল্পকারখানায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারই হতে পারে প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় দেশটির সবচেয়ে বড় শক্তি।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা, আগুন ও সাময়িকভাবে বন্ধ কিছু কার্যক্রম

কারখানার মেঝেতেই জাপানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আসল লড়াই

১১:১৬:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে জাপান যেন ভুল জায়গায় প্রতিযোগিতা করছে। বিশাল তথ্যকেন্দ্র তৈরি কিংবা আরও শক্তিশালী চিপ তৈরির পেছনে ছুটে না গিয়ে দেশটির উচিত এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি করা, যা সরাসরি কারখানায় কাজে লাগানো যায়। কারণ উৎপাদনশিল্পে জাপানের যে দীর্ঘদিনের দক্ষতা, সেটিই হতে পারে এই প্রযুক্তিতে তার বড় শক্তি।

উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার

আইচি প্রদেশের ওবু শহরে টয়োটার অ্যালুমিনিয়াম ঢালাই কারখানায় একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবস্থা প্রতিবার ঢালাইয়ের সময় প্রায় ৪০ হাজার তথ্যবিন্দু বিশ্লেষণ করে। ধাতু ঠান্ডা হওয়ার আগেই সেটি সম্ভাব্য ত্রুটি শনাক্ত করতে পারে।

একইভাবে ইয়ামানাশি প্রদেশের ওশিনো এলাকায় ফানুকের কারখানায় রোবটই অন্য রোবট তৈরি করছে। সেখানে যন্ত্রের কম্পনের তথ্য বিশ্লেষণ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আগেই অনুমান করতে পারে, কোনো মোটরে ত্রুটি দেখা দিতে যাচ্ছে কি না।

Japan urged to focus AI on factory modernization — The Japan Times | UA.NEWS

আইচি প্রদেশের তোয়োটা শহরের কাছে মুসাশি সেইমিৎসুর কারখানায়ও প্রযুক্তিটির ব্যবহার আরও সরাসরি। সেখানে একটি যান্ত্রিক হাত গিয়ার তুলে আলোতে ঘুরিয়ে মাত্র দুই সেকেন্ডের মধ্যে তাতে কোনো ত্রুটি আছে কি না শনাক্ত করে।

বিশাল তথ্যকেন্দ্র নয়, কারখানার কাছেই প্রযুক্তি

এই ব্যবস্থাগুলোর কোনোটিই বিশাল ক্ষমতার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল নয়। এগুলো চালাতে কারখানার ভেতরেই প্রান্তীয় কম্পিউটিং ব্যবস্থায় এক বা দুটি গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিট যথেষ্ট। বিদ্যুৎ খরচও তুলনামূলকভাবে কম—প্রায় ৫ থেকে ১০ কিলোওয়াট।

অন্যদিকে বৃহৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামোর জন্য বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়। কিন্তু জাপানের শিল্পখাতের বাস্তব প্রয়োজন অনেক ক্ষেত্রে ভিন্ন। সেখানে এমন প্রযুক্তিই বেশি কার্যকর, যা সরাসরি উৎপাদনব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে ত্রুটি কমাতে, যন্ত্রপাতির আয়ু বাড়াতে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে।

From dance floor to war: China readies humanoid robots for combat | The  Asahi Shimbun: Breaking News, Japan News and Analysis

জাপানের আসল প্রতিযোগিতার জায়গা

তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় জাপানের সাফল্য শুধু কত বড় তথ্যকেন্দ্র তৈরি হলো কিংবা কত শক্তিশালী চিপ তৈরি হলো—এ দিয়ে মাপা উচিত নয়। কারখানার প্রতিটি ধাপে প্রযুক্তিটি কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে, সেটিই হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

জাপানের দীর্ঘদিনের শিল্পদক্ষতা, উন্নত উৎপাদনব্যবস্থা ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপ্রযুক্তির সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয় দেশটিকে ভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দিতে পারে। ভবিষ্যতের লড়াই তাই শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কে সবচেয়ে শক্তিশালী বানাতে পারে, তা নিয়ে নয়; বরং কে সেটিকে সবচেয়ে কার্যকরভাবে বাস্তব শিল্পে কাজে লাগাতে পারে, সেটিই হতে পারে বড় প্রশ্ন।

জাপানের শিল্পকারখানায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারই হতে পারে প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় দেশটির সবচেয়ে বড় শক্তি।