যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে সমাজতন্ত্র শব্দটি নতুন কোনো আতঙ্কের নাম নয়। বরং গত শতাব্দীজুড়েই বামঘেঁষা নানা নীতি ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগকে আক্রমণ করতে এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। এখন আবার ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার অগ্রগতি সেই পুরোনো বিতর্ককে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
ট্রুম্যানের সময়েও ছিল একই বিতর্ক
১৯৪৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান বলেছিলেন, গত দুই দশকে সাধারণ মানুষের জন্য যেসব অগ্রগতি হয়েছে, সেগুলোর প্রায় প্রতিটিকেই বিরোধীরা ‘সমাজতন্ত্র’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
সরকারি বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার উদ্যোগ, শ্রমিক সংগঠনের বিস্তার এবং ব্যাংকে আমানত বিমার মতো নীতিকেও তখন সমাজতন্ত্রের তকমা দেওয়া হয়েছিল।
:max_bytes(150000):strip_icc()/harry-s-truman-3070854-5c849558c9e77c0001f2ac83.jpg)
ট্রুম্যানের যুক্তি ছিল, রিপাবলিকানরা আসলে সমাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে নয়, তারা মূলত ‘নিউ ডিল’ নীতির বিরোধিতা করছে। তাঁর ভাষায়, সমাজতন্ত্র ছিল এমন একটি শব্দ, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের উপকার করে—এমন প্রায় যেকোনো উদ্যোগকেই আক্রমণ করা হতো।
পুরোনো শব্দ, নতুন রাজনৈতিক লড়াই
বর্তমান মার্কিন রাজনীতিতেও সেই প্রবণতার পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার প্রার্থীরা বিভিন্ন প্রাথমিক নির্বাচনে সাফল্য পাওয়ায় সমাজতন্ত্র নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে ‘সমাজতন্ত্র’ শব্দটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। যেসব নীতিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সমাজতন্ত্র বলে চিহ্নিত করে, সেগুলোর অনেকগুলোই প্রচলিত অর্থে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা নয়। বরং সেগুলোর বড় অংশই রাষ্ট্রীয় সহায়তা, সামাজিক নিরাপত্তা, শ্রমিক অধিকার বা সাধারণ মানুষের কল্যাণের সঙ্গে সম্পর্কিত।
মূল প্রশ্ন আমেরিকার রাজনৈতিক সীমা
তাই বর্তমান বিতর্কের আসল প্রশ্ন শুধু যুক্তরাষ্ট্র সমাজতন্ত্র গ্রহণ করবে কি না—তা নয়। বরং প্রশ্ন হলো, সাধারণ মানুষের জন্য রাষ্ট্র কতটা সামাজিক ও অর্থনৈতিক দায়িত্ব নেবে এবং সেই সীমাকে রাজনৈতিকভাবে কী নামে ডাকা হবে।
সমাজতন্ত্র শব্দটি নিয়ে দীর্ঘদিনের ভয় ও রাজনৈতিক প্রচারণার ইতিহাস দেখায়, যুক্তরাষ্ট্রে জনকল্যাণমূলক নীতি নিয়ে বিতর্ক যতটা নীতির, তার বড় অংশই ততটা শব্দের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা নিয়ে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















