নেপাল বহু বছর ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করছে। পাহাড়, নদী, হিমবাহ, জীববৈচিত্র্য, অবকাঠামো এবং মানুষের জীবনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন আর কেবল আশঙ্কার বিষয় নয়; এর পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণও রয়েছে। অথচ বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে নেপালের অবদান অত্যন্ত কম। এই বৈপরীত্য জলবায়ু ন্যায্যতার পক্ষে নেপালের অবস্থানকে শক্তিশালী করে। কিন্তু শুধু আন্তর্জাতিক সহায়তার দাবি জানানোতেই দায়িত্ব শেষ হতে পারে না। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো—জানা ঝুঁকিগুলোকে কীভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত, কার্যকর বিনিয়োগ এবং বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেওয়া যায়।
নেপালের তৃতীয় জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান এই কাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে। এতে দেশের জলবায়ু ঝুঁকি, অভিযোজনের অগ্রাধিকার এবং জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে এটিও স্বীকার করা হয়েছে যে কিছু জলবায়ু ঝুঁকি কেবল অভিযোজনের মাধ্যমে পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়। ফলে জলবায়ু অর্থায়ন নিয়ে আমাদের চিন্তাভাবনাতেও পরিবর্তন দরকার। প্রশ্নটা শুধু কত টাকা পাওয়া যাবে—এমন হওয়া উচিত নয়। বরং কোন ঝুঁকি সবচেয়ে বড়, কারা সবচেয়ে বেশি বিপন্ন, কোন উদ্যোগ দেশের নিজস্ব অর্থে বাস্তবায়ন সম্ভব এবং কোথায় আন্তর্জাতিক সহায়তা অপরিহার্য—এসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
ঝুঁকির প্রমাণ এখন আর তাত্ত্বিক নয়
নেপালের জলবায়ু অঙ্গীকারগুলোতেই বন্যা, ভূমিধস, হিমবাহের হ্রদ ফেটে বন্যা, খরা, দাবানল ও তাপপ্রবাহের মতো ঝুঁকির কথা উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি তাপমাত্রা বৃদ্ধি, হিমবাহের ক্ষয় এবং জীববৈচিত্র্য হ্রাসের মতো দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের চরম বৃষ্টিপাত আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। ওই সময় নেপালে ৫৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়। এতে ২৪৯ জন নিহত, ১৭৮ জন আহত এবং প্রায় ১১ হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়। বিশ্ব আবহাওয়া সংযুক্তিকরণ সংস্থার বিজ্ঞানীদের দ্রুত পরিচালিত বিশ্লেষণ বলছে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের বৃষ্টিপাত প্রায় ১০ শতাংশ বেশি তীব্র এবং প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি সম্ভাবনাময় হয়েছে।
এর অর্থ এই নয় যে জলবায়ু পরিবর্তন একাই ওই দুর্যোগ ঘটিয়েছে। বরং প্রমাণটি দেখায়, উষ্ণতর জলবায়ু কীভাবে নির্দিষ্ট ধরনের চরম বৃষ্টিপাতের তীব্রতা ও সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে। নেপালের জলবায়ু ঝুঁকির আলোচনাকে সাধারণ দুর্বলতার বর্ণনা থেকে সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের দিকে নিতে এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৬ সালের ভয়াবহ বিপর্যয় নতুন সতর্কবার্তা

২৬ আগস্ট ২০২৬-এর ভোতে কোশি–ত্রিশূলী দুর্যোগ এই বাস্তবতাকে আরও কঠিনভাবে সামনে এনেছে। উচ্চ পার্বত্য এলাকায় বরফ, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের বড় ধরনের ধস থেকে সৃষ্ট ধারাবাহিক বিপর্যয় ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীপথের জনপদ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেপালের হিসাবে অন্তত ১ হাজার ৩৮০ জনের মৃত্যু এবং ৫ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষের নিখোঁজ থাকার কথা জানানো হয়েছিল। উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম তখনও চলছিল। প্রাথমিক সরকারি হিসাব অনুযায়ী সম্পদ, ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর ক্ষতি প্রায় ৩৮৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন নেপালি রুপি, অর্থাৎ প্রায় ২ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতি ও প্রয়োজন নিরূপণের কাজ অবশ্য তখনও চলমান ছিল।
এই দুর্যোগ আমাদের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। পাহাড়ের একটি বিপর্যয় খুব দ্রুত নদীভিত্তিক দুর্যোগে পরিণত হতে পারে এবং তার প্রভাব অনেক দূরের জনপদে পৌঁছাতে পারে। এতে বসতি, সড়ক, জলবিদ্যুৎকেন্দ্র, জীবিকা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। হিমালয় অঞ্চলে এমন বিপর্যয়ের প্রভাব প্রশাসনিক এমনকি জাতীয় সীমারেখাও অতিক্রম করতে পারে।
তবে ভোতে কোশি–ত্রিশূলী ঘটনার ক্ষেত্রে আমাদের বৈজ্ঞানিক সতর্কতা বজায় রাখতে হবে। পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়া ঘটনাটিকে সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের ফল বলা ঠিক হবে না। তাৎক্ষণিক বিপর্যয়ের সঙ্গে বরফ, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল ধস জড়িত ছিল। এই ঘটনার বিস্তৃত কারণ ও চালিকাশক্তি নিয়ে আরও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান প্রয়োজন।
বাস্তবতা স্বীকার করাই শক্তিশালী যুক্তির ভিত্তি
জলবায়ু ন্যায্যতার দাবি শক্তিশালী করতে হলে প্রতিটি বন্যা, ভূমিধস বা খরার জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করার প্রয়োজন নেই। নেপালে প্রাকৃতিক দুর্যোগ অতীতেও ঘটেছে। কিন্তু পরিবর্তিত জলবায়ু এসব বিপদের সম্ভাবনা, তীব্রতা ও চরিত্র বদলে দিতে পারে। আবার একটি দুর্যোগ কতটা প্রাণঘাতী বা ধ্বংসাত্মক হবে, তা নির্ভর করে ভূমি ব্যবহার, অবকাঠামোর মান, মানুষের বসতি, দারিদ্র্য এবং প্রস্তুতির ওপরও।
সুতরাং বৈজ্ঞানিক কারণ নির্ণয়ের লক্ষ্য প্রতিটি দুর্যোগের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের একটি সরল ব্যাখ্যা দাঁড় করানো নয়। লক্ষ্য হলো বোঝা—পরিবর্তিত জলবায়ু কীভাবে ঝুঁকি বদলাচ্ছে এবং সেই পরিবর্তন কীভাবে মানুষের বাস্তব ক্ষতিতে পরিণত হচ্ছে।
এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়া তথ্য, জলপ্রবাহ ও নদী পর্যবেক্ষণ, উপগ্রহের তথ্য, মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান, জলবায়ু পূর্বাভাসের মডেল এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক মূল্যায়ন প্রয়োজন। নেপালকে এসব ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। কারণ নির্ভরযোগ্য তথ্য শুধু আন্তর্জাতিক অর্থায়ন পাওয়ার হাতিয়ার নয়; এটি দেশের নিজস্ব নীতি ও বিনিয়োগের ভিত্তিও।
ক্ষতির হিসাব শুধু রাস্তা ও ভবনে সীমাবদ্ধ নয়
আগের দুর্যোগগুলোর অর্থনৈতিক ক্ষতির হিসাবও আমাদের সতর্ক করে। নেপালের হিসাবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের বৃষ্টিপাতে প্রায় ৩৪৫ মিলিয়ন ডলার, ২০২১ সালের জুনে মেলামচি বন্যায় প্রায় ৪৯৮ মিলিয়ন ডলার এবং ওই বছরের অক্টোবরে অমৌসুমি বৃষ্টিতে ধান উৎপাদনে প্রায় ৬৮ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছিল।
কিন্তু অর্থনৈতিক ক্ষতির এসব হিসাব পুরো বাস্তবতাকে ধারণ করে না। একটি সড়ক বা ভবনের ক্ষতির পুনর্নির্মাণ ব্যয় হিসাব করা তুলনামূলক সহজ। কিন্তু একটি পরিবারের জীবিকা হারানোর মূল্য নির্ধারণ কঠিন। সাংস্কৃতিক স্থান, স্থানীয় পানির উৎস, পরিবেশগত সম্পদ কিংবা একটি সম্প্রদায়ের সামাজিক সংযোগ হারানোর মূল্য আরও জটিল।
তবু এগুলো ক্ষতি। আর সেগুলো নথিভুক্ত না করলে জাতীয় পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় তাদের গুরুত্ব হারিয়ে যেতে পারে।
তাই বড় কোনো দুর্যোগের পর শুধু কতজন মারা গেলেন বা কতটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলো, সেই হিসাব যথেষ্ট নয়। আমাদের জানতে হবে মানুষ কী হারিয়েছে, সেই ক্ষতি তাদের ভবিষ্যৎ জীবন ও জীবিকায় কী প্রভাব ফেলছে এবং একটি দুর্যোগ কীভাবে ধাপে ধাপে বিস্তৃত হয়েছে। ভোতে কোশির মতো ঘটনায় পাহাড়ের প্রাথমিক বিপর্যয় থেকে শুরু করে নিচের দিকে ক্ষয়ক্ষতির পুরো ধারাটিও বিশ্লেষণ করা দরকার। কোথায় সতর্কবার্তা ব্যর্থ হয়েছে, কোথায় যোগাযোগে সমস্যা ছিল এবং অবকাঠামো বা ভূমি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত ক্ষতির মাত্রা বাড়িয়েছে কি না—এসব প্রশ্নেরও উত্তর প্রয়োজন।
ক্ষয়ক্ষতির অর্থায়নে বাস্তববাদী হতে হবে
জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতির অর্থায়ন নেপালের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ২০২২ সালের জলবায়ু সম্মেলনে সরকারগুলো এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় নতুন অর্থায়নব্যবস্থা এবং একটি বিশেষ তহবিল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। পরের বছর সেই তহবিল কার্যকর করা হয়। উন্নয়নশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
তবে এটিকে এমনভাবে দেখা ঠিক হবে না যে প্রতিটি বন্যা বা ভূমিধসের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য দেশের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাটি এখনও বিকশিত হচ্ছে। অর্থায়নে প্রবেশের জন্য প্রয়োজন বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠান, শক্তিশালী প্রমাণ এবং উপযুক্ত প্রক্রিয়া।
আরেকটি বাস্তবতা হলো, আন্তর্জাতিক ক্ষয়ক্ষতি অর্থায়নের পরিমাণ জলবায়ুজনিত ক্ষতির সামগ্রিক মাত্রার তুলনায় এখনও সীমিত। তাই নেপালকে আন্তর্জাতিক সহায়তার জন্য জোরালোভাবে দাবি জানাতে হবে, কিন্তু একই সঙ্গে বুঝতে হবে যে বৈদেশিক অর্থ একা আমাদের সব প্রয়োজন মেটাতে পারবে না।
দেশের দায়িত্বও স্পষ্ট

জলবায়ু ন্যায্যতা মানে এমন নয় যে যেসব ঝুঁকি দেশের ভেতরে যুক্তিসঙ্গতভাবে কমানো সম্ভব, সেগুলোর অর্থায়নও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে। নিরাপদ ভূমি ব্যবহার, ঝুঁকিসম্মত অবকাঠামো, কার্যকর আগাম সতর্কতা, রক্ষণাবেক্ষণ, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি—এসব নেপালের নিজের দায়িত্ব।
পরিচিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় একই ধরনের অবকাঠামো বারবার ধ্বংস হওয়ার পর শুধু পুনর্নির্মাণ করা হলে প্রশ্ন উঠবেই—এটি কি অর্থের সমস্যা, নাকি সিদ্ধান্ত গ্রহণেরও সমস্যা? আবার এটিও সত্য যে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের সব পরিণতি নেপালের নিজস্ব সম্পদ দিয়ে সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।
তাই আমাদের অবস্থান হওয়া উচিত ভারসাম্যপূর্ণ। নেপালকে দেখাতে হবে সে নিজে কী করছে, কোথায় তার সক্ষমতার সীমা এবং সেই সীমা অতিক্রম করতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের কী প্রয়োজন।
বিনিয়োগের আগে জানতে হবে ঝুঁকিটা কোথায়
জলবায়ু অর্থায়নের ক্ষেত্রেও আমাদের পদ্ধতি বদলানো প্রয়োজন। কোনো অঞ্চল বা খাতকে শুধু ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে চিহ্নিত করাই যথেষ্ট নয়। জানতে হবে—কোন ঝুঁকি, কোন সময়সীমায়, কী ধরনের ক্ষতি ঘটাতে পারে এবং কোন পদক্ষেপ সবচেয়ে কার্যকরভাবে সেই ঝুঁকি কমাতে সক্ষম।
অবকাঠামো, কৃষি, পানি, বসতি, পরিবেশ ও জীবিকার ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য। যেখানে প্রকল্প তৈরি করা সহজ, সেখানে অর্থ দেওয়া নয়; বরং যেখানে তথ্য ও বিশ্লেষণ দেখায় যে বিনিয়োগ বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারবে, সেখানেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
প্রতিটি দুর্যোগ থেকে শিক্ষা নেওয়া দরকার
জলবায়ু তথ্য, ক্ষয়ক্ষতির নথি এবং জলবায়ু ঝুঁকি মূল্যায়নকে নেপালের জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। বড় কোনো দুর্যোগের পর আমাদের শুধু ক্ষয়ক্ষতির হিসাব রাখলে চলবে না। জানতে হবে, দুর্যোগের আগে কী তথ্য আমাদের হাতে ছিল, সতর্কবার্তা কীভাবে কাজ করেছিল, কোন অনুমান ভুল প্রমাণিত হয়েছে এবং ক্ষতির কতটা অংশ আগে থেকেই কমানো সম্ভব ছিল।

এই তথ্য নিয়মিতভাবে সংগ্রহ করা গেলে সময়ের সঙ্গে নেপালের হাতে একটি শক্তিশালী প্রমাণভিত্তি তৈরি হবে। সেটি সরকারি বিনিয়োগকে আরও কার্যকর করতে পারে, অভিযোজন পরিকল্পনাকে উন্নত করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় নেপালের অবস্থানকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পারে।
শেষ পর্যন্ত নেপালের জলবায়ু সমস্যা শুধু অর্থের ঘাটতি নয়। জ্ঞানের ঘাটতিও নয়। মূল সমস্যা হলো আমাদের জানা তথ্যকে সিদ্ধান্তের সঙ্গে এবং সিদ্ধান্তকে বিনিয়োগের সঙ্গে কতটা কার্যকরভাবে যুক্ত করা যাচ্ছে।
বিশ্বের নিঃসরণ কোন পথে যাবে, তা নেপাল একা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আন্তর্জাতিক অর্থায়নও প্রয়োজনীয় মাত্রায় আসবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু তথ্যের মান উন্নত করা, সঠিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা এবং হাতে থাকা প্রতিটি রুপি ও ডলার কতটা কার্যকরভাবে ব্যয় করা হবে—এসব নেপালের নিয়ন্ত্রণে।
তাই জলবায়ু অর্থায়নে নেপালের পরিচয় শুধু আরও অর্থপ্রত্যাশী একটি দেশ হিসেবে হওয়া উচিত নয়। নেপালকে এমন একটি দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে, যে নিজের ঝুঁকি সম্পর্কে জানে, অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে পারে এবং প্রমাণ দিয়ে দেখাতে পারে স্থিতিস্থাপকতায় বিনিয়োগের বাস্তব ফল কী।
প্রমাণ আমাদের হাতে আছে। এখন আসল প্রশ্ন হলো, আমরা সেই প্রমাণকে কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে পদক্ষেপে পরিণত করতে পারি।
কৃষ্ণ সি. দেবকোটা 



















