১০:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বড় ক্লাসের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থী, বদলাতে হবে শিক্ষার পদ্ধতি গ্যাস স্টেশনে বসল বিয়ের আসর, তিন পোশাকে চমকে দিলেন ড্রামার কনে ট্রাম্পের মানচিত্রে ‘মার্কিন’ আইসল্যান্ড, ক্ষুব্ধ রেইকিয়াভিক তলব করল মার্কিন রাষ্ট্রদূত এনভিডিয়া–হাগিং ফেস চুক্তিতে বদলে যেতে পারে প্রতিষ্ঠানের এআই কৌশল মেয়ের জন্মের স্মৃতি ধরে রাখতে টেলর সুইফটের প্রিয় গয়না-শিল্পীর অনন্য আংটি ১০–৩০ কাউন্ট সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বাতিল, আপত্তি বিজিএমইএ-বিকেএমইএর সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের চার প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: মিসরের সামনে যোগ দেওয়ার চেয়েও বড় প্রশ্ন কাঁচা সবুজ টমেটো সংরক্ষণ করুন শীতের জন্য, সহজেই তৈরি করুন মজাদার আচার ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের যেকোনো প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করল মিসর

বড় ক্লাসের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থী, বদলাতে হবে শিক্ষার পদ্ধতি

  • নেদা মুলজি
  • ১০:০০:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 2

নেদা মুলজির বিশ্লেষণের মূল প্রশ্নটি খুবই প্রাসঙ্গিক—সীমিত সম্পদ, বড় ক্লাস এবং নানা প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের মধ্যেও কীভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর শেখার পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়? পাকিস্তানের মূলধারার স্কুলগুলোতে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, প্রযুক্তিগত বাধা, শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নের সীমিত সুযোগ এবং শিক্ষক পরিবর্তনের মতো সমস্যা রয়েছে। তবে এর মধ্যে বড় ক্লাস এমন একটি সংকট, যা সরাসরি শিক্ষার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে বোঝা এবং তার প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষা দেওয়ার পথে বাধা তৈরি করে।

নেদা মুলজির মতে, শিক্ষার সবচেয়ে মূল্যবান শক্তিগুলোর একটি হলো শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্ক। বিশেষ করে উন্নয়নশীল সমাজে একজন শিক্ষক কেবল শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না; তার প্রভাব শিক্ষার্থীর পরিবার এবং বৃহত্তর সমাজেও পড়ে। কোনো শিক্ষার্থী স্কুলে অনিয়মিত হয়ে পড়লে তার বাড়িতে গিয়ে অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলা কিংবা শিশুটিকে আবার পড়াশোনায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা—এ ধরনের দায়িত্বশীল ভূমিকা শিক্ষকের সামাজিক গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে।

কিন্তু শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা যখন অতিরিক্ত বেড়ে যায়, তখন একজন শিক্ষকের পক্ষে প্রত্যেককে আলাদাভাবে চেনা, তার দুর্বলতা বোঝা কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ভিন্ন ভিন্ন শেখার ধরন বিবেচনায় নিয়ে পাঠদান করাও বাধাগ্রস্ত হয়।

শ্রেণিকক্ষ বদলালেই বদলাতে পারে শেখার পরিবেশ

শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তনের জন্য সবসময় বড় বাজেট বা নতুন ভবনের প্রয়োজন হয় না। অনেক সময় শ্রেণিকক্ষের ভেতরের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এনে শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতা উন্নত করা সম্ভব।

Texas should hire more teachers to fix overcrowding – The Roar

শিক্ষাবিদ জন ডিউই বহু আগেই শ্রেণিকক্ষের আসন বিন্যাস বদলে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতামূলক শেখার সুযোগ তৈরি করেছিলেন। দলবদ্ধভাবে বসা, গোল টেবিলে কাজ করা এবং হাতে-কলমে শেখার পরিবেশ শিক্ষার্থীদের নিষ্ক্রিয় শ্রোতা না রেখে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী করে তোলে।

বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। তাই পুরোনো শ্রেণিকক্ষের কাঠামোকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া জরুরি। প্রযুক্তি যুক্ত হয়েছে বলেই শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিক হয়ে যায় না; শিক্ষার্থীরা কীভাবে সেই সুযোগ ব্যবহার করে নিজের চিন্তা ও শেখার ক্ষমতা বাড়াচ্ছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু শিক্ষক বলবেন, শিক্ষার্থী শুনবে—এ ধারণা বদলাতে হবে

প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষক সাধারণত অধিকাংশ সময় কথা বলেন, আর শিক্ষার্থীরা শুনে ও নোট নেয়। কিন্তু এই পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের শেখার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারে না।

শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করার, নিজেদের মত প্রকাশের, হাতে-কলমে কাজ করার, শেখানো বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা করার এবং সহপাঠীদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। এতে শেখার প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদেরও দায়িত্ব তৈরি হয়।

শিক্ষার্থীদের নিজেদের শেখা বিষয় বা প্রকল্প সহপাঠীদের সামনে উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া এর একটি কার্যকর উদাহরণ। এতে যে শিক্ষার্থী উপস্থাপন করে, তার নিজের ধারণাও আরও পরিষ্কার হয়। পাশাপাশি অন্য শিক্ষার্থীরা তার ব্যাখ্যা থেকে নতুনভাবে বিষয়টি বুঝতে পারে।

এই পদ্ধতি শিক্ষকের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কে দ্রুত শিখছে, কে বিষয়টি ভালোভাবে বুঝেছে এবং কার আরও সহায়তা প্রয়োজন—তা শিক্ষক সহজেই শনাক্ত করতে পারেন। ফলে একই পদ্ধতিতে সবাইকে শেখানোর বদলে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয়।

সব শিক্ষার্থী একইভাবে শেখে না

Where are the teachers? | Office of Strategy and Evidence Innocenti

শিক্ষাব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হলো, সব শিক্ষার্থীর শেখার ধরন এক নয়। কেউ উদাহরণের মাধ্যমে সহজে বুঝতে পারে, কেউ বাস্তব উপকরণ ব্যবহার করলে দ্রুত ধারণা তৈরি করে। কেউ সহপাঠীর সঙ্গে কাজ করে ভালো শেখে, আবার কেউ প্রশ্ন, অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে বেশি কার্যকরভাবে শিখতে পারে।

তাই একজন শিক্ষকের কাজ শুধু একই পাঠ সবার সামনে একইভাবে তুলে ধরা নয়। বরং শিক্ষার্থীদের বৈচিত্র্য বুঝে শেখানোর পদ্ধতিতেও বৈচিত্র্য আনা দরকার।

এখানে শিক্ষার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনো বিষয় শুধু মুখস্থ করা আর সেটিকে বুঝে প্রয়োগ করার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, কৌতূহল এবং স্বাধীনভাবে শেখার অভ্যাস গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীর পাঠের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকা প্রয়োজন।

শিক্ষকের উৎকর্ষ মানে শুধু ভালো ফল নয়

একজন শিক্ষকের উৎকর্ষ শুধু তিনি কত ভালোভাবে পাঠ ব্যাখ্যা করতে পারেন, তার ওপর নির্ভর করে না। একজন শিক্ষার্থী যখন পড়াশোনায় সমস্যায় পড়ে, তখন শিক্ষক কতটা উৎসাহ দিতে পারেন, তার দুর্বলতার প্রতি কতটা সহানুভূতিশীল হতে পারেন এবং আচরণগত সমস্যার ক্ষেত্রে কতটা ধৈর্য দেখাতে পারেন—এসবও শিক্ষার ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলে।

How To Manage Your Overcrowded Classroom - Planbook Blog

শিক্ষার্থীকে মূল্যবান মনে করানো শিক্ষকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। যখন একজন শিশু অনুভব করে যে তার কথা শোনা হচ্ছে এবং তার অগ্রগতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তখন শেখার প্রতি তার আগ্রহও বাড়তে পারে।

শেষ পর্যন্ত শিক্ষার লক্ষ্য শুধু পাঠ্যবইয়ের তথ্য আয়ত্ত করা নয়। একজন শিক্ষার্থী কী শিখল, সেই জ্ঞান নিয়ে কীভাবে চিন্তা করল, নতুন পরিস্থিতিতে তা কীভাবে ব্যবহার করল এবং অন্যকে শেখাতে পারল কি না—এসব প্রশ্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

নেদা মুলজির যুক্তির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক এখানেই। ভালো শিক্ষা এমন শিক্ষার্থী তৈরি করবে না, যারা শুধু পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হয়; বরং এমন মানুষ তৈরি করবে, যারা শেখার প্রক্রিয়াকে নিজের জীবনের অংশ করে নিতে পারে।

বড় ক্লাস, সীমিত সম্পদ কিংবা প্রযুক্তিগত বাধা দ্রুত দূর করা সম্ভব নয়। কিন্তু শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ বদলানো, শিক্ষার্থীদের আরও সক্রিয় করা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ককে মানবিক ও অর্থবহ করে তোলা সম্ভব। শিক্ষার প্রকৃত পরিবর্তন হয়তো সেখান থেকেই শুরু হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বড় ক্লাসের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থী, বদলাতে হবে শিক্ষার পদ্ধতি

বড় ক্লাসের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থী, বদলাতে হবে শিক্ষার পদ্ধতি

১০:০০:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেদা মুলজির বিশ্লেষণের মূল প্রশ্নটি খুবই প্রাসঙ্গিক—সীমিত সম্পদ, বড় ক্লাস এবং নানা প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের মধ্যেও কীভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর শেখার পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়? পাকিস্তানের মূলধারার স্কুলগুলোতে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, প্রযুক্তিগত বাধা, শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নের সীমিত সুযোগ এবং শিক্ষক পরিবর্তনের মতো সমস্যা রয়েছে। তবে এর মধ্যে বড় ক্লাস এমন একটি সংকট, যা সরাসরি শিক্ষার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে বোঝা এবং তার প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষা দেওয়ার পথে বাধা তৈরি করে।

নেদা মুলজির মতে, শিক্ষার সবচেয়ে মূল্যবান শক্তিগুলোর একটি হলো শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্ক। বিশেষ করে উন্নয়নশীল সমাজে একজন শিক্ষক কেবল শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না; তার প্রভাব শিক্ষার্থীর পরিবার এবং বৃহত্তর সমাজেও পড়ে। কোনো শিক্ষার্থী স্কুলে অনিয়মিত হয়ে পড়লে তার বাড়িতে গিয়ে অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলা কিংবা শিশুটিকে আবার পড়াশোনায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা—এ ধরনের দায়িত্বশীল ভূমিকা শিক্ষকের সামাজিক গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে।

কিন্তু শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা যখন অতিরিক্ত বেড়ে যায়, তখন একজন শিক্ষকের পক্ষে প্রত্যেককে আলাদাভাবে চেনা, তার দুর্বলতা বোঝা কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ভিন্ন ভিন্ন শেখার ধরন বিবেচনায় নিয়ে পাঠদান করাও বাধাগ্রস্ত হয়।

শ্রেণিকক্ষ বদলালেই বদলাতে পারে শেখার পরিবেশ

শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তনের জন্য সবসময় বড় বাজেট বা নতুন ভবনের প্রয়োজন হয় না। অনেক সময় শ্রেণিকক্ষের ভেতরের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এনে শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতা উন্নত করা সম্ভব।

Texas should hire more teachers to fix overcrowding – The Roar

শিক্ষাবিদ জন ডিউই বহু আগেই শ্রেণিকক্ষের আসন বিন্যাস বদলে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতামূলক শেখার সুযোগ তৈরি করেছিলেন। দলবদ্ধভাবে বসা, গোল টেবিলে কাজ করা এবং হাতে-কলমে শেখার পরিবেশ শিক্ষার্থীদের নিষ্ক্রিয় শ্রোতা না রেখে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী করে তোলে।

বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। তাই পুরোনো শ্রেণিকক্ষের কাঠামোকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া জরুরি। প্রযুক্তি যুক্ত হয়েছে বলেই শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিক হয়ে যায় না; শিক্ষার্থীরা কীভাবে সেই সুযোগ ব্যবহার করে নিজের চিন্তা ও শেখার ক্ষমতা বাড়াচ্ছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু শিক্ষক বলবেন, শিক্ষার্থী শুনবে—এ ধারণা বদলাতে হবে

প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষক সাধারণত অধিকাংশ সময় কথা বলেন, আর শিক্ষার্থীরা শুনে ও নোট নেয়। কিন্তু এই পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের শেখার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারে না।

শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করার, নিজেদের মত প্রকাশের, হাতে-কলমে কাজ করার, শেখানো বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা করার এবং সহপাঠীদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। এতে শেখার প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদেরও দায়িত্ব তৈরি হয়।

শিক্ষার্থীদের নিজেদের শেখা বিষয় বা প্রকল্প সহপাঠীদের সামনে উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া এর একটি কার্যকর উদাহরণ। এতে যে শিক্ষার্থী উপস্থাপন করে, তার নিজের ধারণাও আরও পরিষ্কার হয়। পাশাপাশি অন্য শিক্ষার্থীরা তার ব্যাখ্যা থেকে নতুনভাবে বিষয়টি বুঝতে পারে।

এই পদ্ধতি শিক্ষকের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কে দ্রুত শিখছে, কে বিষয়টি ভালোভাবে বুঝেছে এবং কার আরও সহায়তা প্রয়োজন—তা শিক্ষক সহজেই শনাক্ত করতে পারেন। ফলে একই পদ্ধতিতে সবাইকে শেখানোর বদলে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয়।

সব শিক্ষার্থী একইভাবে শেখে না

Where are the teachers? | Office of Strategy and Evidence Innocenti

শিক্ষাব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হলো, সব শিক্ষার্থীর শেখার ধরন এক নয়। কেউ উদাহরণের মাধ্যমে সহজে বুঝতে পারে, কেউ বাস্তব উপকরণ ব্যবহার করলে দ্রুত ধারণা তৈরি করে। কেউ সহপাঠীর সঙ্গে কাজ করে ভালো শেখে, আবার কেউ প্রশ্ন, অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে বেশি কার্যকরভাবে শিখতে পারে।

তাই একজন শিক্ষকের কাজ শুধু একই পাঠ সবার সামনে একইভাবে তুলে ধরা নয়। বরং শিক্ষার্থীদের বৈচিত্র্য বুঝে শেখানোর পদ্ধতিতেও বৈচিত্র্য আনা দরকার।

এখানে শিক্ষার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনো বিষয় শুধু মুখস্থ করা আর সেটিকে বুঝে প্রয়োগ করার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, কৌতূহল এবং স্বাধীনভাবে শেখার অভ্যাস গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীর পাঠের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকা প্রয়োজন।

শিক্ষকের উৎকর্ষ মানে শুধু ভালো ফল নয়

একজন শিক্ষকের উৎকর্ষ শুধু তিনি কত ভালোভাবে পাঠ ব্যাখ্যা করতে পারেন, তার ওপর নির্ভর করে না। একজন শিক্ষার্থী যখন পড়াশোনায় সমস্যায় পড়ে, তখন শিক্ষক কতটা উৎসাহ দিতে পারেন, তার দুর্বলতার প্রতি কতটা সহানুভূতিশীল হতে পারেন এবং আচরণগত সমস্যার ক্ষেত্রে কতটা ধৈর্য দেখাতে পারেন—এসবও শিক্ষার ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলে।

How To Manage Your Overcrowded Classroom - Planbook Blog

শিক্ষার্থীকে মূল্যবান মনে করানো শিক্ষকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। যখন একজন শিশু অনুভব করে যে তার কথা শোনা হচ্ছে এবং তার অগ্রগতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তখন শেখার প্রতি তার আগ্রহও বাড়তে পারে।

শেষ পর্যন্ত শিক্ষার লক্ষ্য শুধু পাঠ্যবইয়ের তথ্য আয়ত্ত করা নয়। একজন শিক্ষার্থী কী শিখল, সেই জ্ঞান নিয়ে কীভাবে চিন্তা করল, নতুন পরিস্থিতিতে তা কীভাবে ব্যবহার করল এবং অন্যকে শেখাতে পারল কি না—এসব প্রশ্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

নেদা মুলজির যুক্তির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক এখানেই। ভালো শিক্ষা এমন শিক্ষার্থী তৈরি করবে না, যারা শুধু পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হয়; বরং এমন মানুষ তৈরি করবে, যারা শেখার প্রক্রিয়াকে নিজের জীবনের অংশ করে নিতে পারে।

বড় ক্লাস, সীমিত সম্পদ কিংবা প্রযুক্তিগত বাধা দ্রুত দূর করা সম্ভব নয়। কিন্তু শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ বদলানো, শিক্ষার্থীদের আরও সক্রিয় করা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ককে মানবিক ও অর্থবহ করে তোলা সম্ভব। শিক্ষার প্রকৃত পরিবর্তন হয়তো সেখান থেকেই শুরু হতে পারে।