দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজে ভারতের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ জয় এসেছিল ২০০৬ সালে। সেই সিরিজে ক্যারিবীয়রা ৪-১ ব্যবধানে ভারতকে হারিয়েছিল। এরপর কেটে গেছে দুই দশক। এই সময়ে দুই দল ১২টি দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে, যার প্রতিটিতেই জয় পেয়েছে ভারত।
এবার সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটানোর লক্ষ্য নিয়েই ভারতের মাটিতে এসেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ শুরু হয়েছে ২৭ সেপ্টেম্বর তিরুবনন্তপুরমে। দ্বিতীয় ম্যাচ ৩০ সেপ্টেম্বর গুয়াহাটিতে এবং তৃতীয় ম্যাচ ৩ অক্টোবর নিউ চণ্ডীগড়ে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক শাই হোপ জানেন, ভারতের বিপক্ষে তাদের কাজটা সহজ হবে না। তবে দুই দশকের অপেক্ষাই দলকে বাড়তি অনুপ্রেরণা দিচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
হোপ বলেন, ভারতকে ২০ বছর বা ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে হারাতে না পারার বিষয়টি তারা সবসময়ই আলোচনা করেন। ভারতের মাটিতে এসে বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে জয় পাওয়া তাই তাদের জন্য বিশেষ অর্জন হবে। কঠিন লড়াইয়ের কথা স্বীকার করেও তিনি জানান, দল এই চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ বর্তমানে আইসিসি পুরুষদের ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে দশম অবস্থানে রয়েছে। আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠেয় ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পাওয়ার দৌড়েও তাদের অবস্থান খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। ভারত সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের পরই বিশ্বকাপের সরাসরি যোগ্যতা অর্জনের বর্তমান চক্র শেষ হবে।
অন্যদিকে ভারত গত বিশ্বকাপের রানার্সআপ এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপাধারী। ফলে দুই দলের শক্তির পার্থক্য কাগজে-কলমে স্পষ্ট। তবে সাম্প্রতিক ফল ভারতের জন্য খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়।
চলতি বছর ভারত তিনটি ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে এবং তার মধ্যে দুটিতেই হেরেছে। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দীর্ঘদিনের আধিপত্য থাকলেও এবার সিরিজটি একেবারে একতরফা হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
ওয়েস্ট ইন্ডিজও অবশ্য খুব ধারাবাহিক অবস্থায় নেই। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে তাদের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সিরিজ ১-১ ব্যবধানে ড্র হয়েছে। সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরেছে তারা।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ভারতীয় উপমহাদেশের কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ। ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড কিংবা ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ—প্রতিটি জায়গার পরিবেশ ও উইকেট আলাদা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক মনে করেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে থাকতে হলে পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হোপ বলেন, ভারতে ব্যাটিং করতে হলে অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ডের তুলনায় ভিন্নভাবে খেলতে হয়। প্রতিটি দিন বা প্রতিটি ম্যাচ একজন খেলোয়াড়ের পক্ষে ভালো যাবে না। তাই নিজের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দেওয়ার পাশাপাশি ছোট ছোট বিষয় ঠিক রাখার ওপরই তিনি গুরুত্ব দেন।
ভারতের ঘরের মাঠে খেলা যে বাড়তি চাপ তৈরি করবে, সেটিও স্বীকার করেছেন হোপ। তবে তার মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের জন্য সেরা দল ও সেরা পরিবেশের বিপক্ষে খেলার সুযোগই নিজেদের পরীক্ষা করার সবচেয়ে ভালো উপায়।
দুই দলের সাম্প্রতিক ইতিহাস ভারতের পক্ষে থাকলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে এবার একটি বিশেষ সুযোগ রয়েছে। ২০০৬ সালের পর ভারতের বিপক্ষে কোনো দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ জিততে না পারার দীর্ঘ অপেক্ষা শেষ করতে হলে শুধু অতীতের পরিসংখ্যান নয়, ভারতের সাম্প্রতিক দুর্বলতাগুলোকেও কাজে লাগাতে হবে।
অন্যদিকে ভারত চাইবে ঘরের মাঠে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ২০ বছরের আধিপত্য আরও দীর্ঘ করতে। ফলে সিরিজটি শুধু আরেকটি দ্বিপক্ষীয় লড়াই নয়; ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য এটি দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটানোর পরীক্ষাও।
সূচি
প্রথম ওয়ানডে — ২৭ সেপ্টেম্বর, তিরুবনন্তপুরম
দ্বিতীয় ওয়ানডে — ৩০ সেপ্টেম্বর, গুয়াহাটি
তৃতীয় ওয়ানডে — ৩ অক্টোবর, নিউ চণ্ডীগড়
এরপর পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজও খেলবে দুই দল। ম্যাচগুলো হবে ৬ অক্টোবর লক্ষ্ণৌ, ৯ অক্টোবর রাঁচি, ১১ অক্টোবর ইন্দোর, ১৪ অক্টোবর হায়দরাবাদ এবং ১৭ অক্টোবর বেঙ্গালুরুতে।












