বুধবার একনেক বৈঠকে প্রাথমিক শিক্ষার পিইডিপি-৫ কর্মসূচি অনুমোদন পেয়েছে। এর আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ হাজার ৯০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। কর্মসূচিটি চলবে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত, অর্থাৎ পাঁচ বছর। এর আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন শ্রেণিকক্ষ হবে, ডিজিটাল ক্লাসরুম বসবে, আর শিক্ষকেরা পাবেন ট্যাব।
একনেক হলো জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি, যারা বড় উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করে। একই বৈঠকে মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। সেগুলোর মোট ব্যয় ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এর মধ্যে পিইডিপি-৫ই সবচেয়ে বড় প্রকল্প।
পিইডিপি মানে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি। এটি সরকারের ধারাবাহিক কর্মসূচি, আগের ধাপ ছিল পিইডিপি-৪। এবার পঞ্চম ধাপের কাজ ধরা হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করবে।
মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে আসবে ৩৩ হাজার ২০৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা। হিসাবে এটি মোট ব্যয়ের প্রায় ৮১ শতাংশ। বাকি ৭ হাজার ৮৮৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা আসবে বিদেশি ঋণ ও অনুদান থেকে। উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে বিশ্বব্যাংক, এডিবি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউনিসেফের নাম এসেছে। তবে ঋণ ও অনুদানের চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
প্রাথমিক শিক্ষার পিইডিপি-৫ কর্মসূচিতে সবচেয়ে বড় অংশ অবকাঠামো। এতে ১৫ হাজার ৬৪১টি নতুন শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের কথা আছে। সঙ্গে হবে ১ হাজার ৫০০টি স্যানিটারি ওয়াশ ব্লক এবং ১০ হাজার সীমানা প্রাচীর। জেলা পর্যায়ে ২০টি আর উপজেলা পর্যায়ে ১২৫টি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভবন তৈরির পরিকল্পনা আছে। উপজেলা রিসোর্স ট্রেনিং সেন্টারের ১০০টি ভবনও এই কর্মসূচির অংশ।
ডিজিটাল অংশে ২০ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম করার কথা বলা হয়েছে। সেখানে থাকবে ইন্টারঅ্যাকটিভ ফ্ল্যাট প্যানেল, অর্থাৎ বড় টাচস্ক্রিন বোর্ড। সঙ্গে থাকবে ওয়াই-ফাই ও ইন্টারনেট। “এক শিক্ষক, এক ট্যাব” উদ্যোগে শিক্ষকেরা ট্যাব পাবেন। শিক্ষার্থীদের জন্যও সুবিধা আছে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পোশাক, ব্যাগ, জুতা ও মোজা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
অনুমোদনের সময় পরিকল্পনা কমিশন কয়েকটি শর্ত দিয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাব সংশোধন করে দুই সপ্তাহের মধ্যে আবার জমা দিতে বলা হয়েছে। নিয়মিত পরিচালন ব্যয় দুই বছরের মধ্যে রাজস্ব বাজেটে নিয়ে যেতে হবে। পিইডিপি-৩ ও পিইডিপি-৪ কর্মসূচির প্রকল্প সমাপ্তি প্রতিবেদন দ্রুত দেওয়ার নির্দেশও আছে। অর্থাৎ আগের ধাপগুলোর হিসাব মিটিয়ে নতুন ধাপে এগোতে চায় সরকার।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার পিইডিপি-৫ কর্মসূচি একটি বড় উদ্যোগ। তাঁর ভাষ্য, প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজন বিবেচনা করেই এটি অনুমোদন করা হয়েছে। তবে পরিকল্পনা কমিশনের সব পর্যবেক্ষণ বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্প সংশোধন করতে হবে।
প্রাথমিক শিক্ষার পিইডিপি-৫ কর্মসূচি কাগজে অনুমোদন পেলেও কাজ শুরু হতে সময় লাগবে। এখন নজর থাকবে সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব আর বিদেশি ঋণ ও অনুদানের চুক্তির দিকে। এই দুই ধাপ কত দ্রুত শেষ হয়, তার ওপর নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে কাজ কবে শুরু হচ্ছে। কর্মসূচির মেয়াদ পাঁচ বছর, আর কাজের পরিধি দেশজুড়ে ছড়ানো। তাই শ্রেণিকক্ষ, ওয়াশ ব্লক আর ডিজিটাল সরঞ্জাম বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে সময় লাগবে।












