মেসোপটেমিয়ার প্রাচীন সভ্যতার উত্তরাধিকার বহনকারী ইরাকের সঙ্গে ইহুদি জনগোষ্ঠীর সম্পর্ক কেবল ইতিহাস, ভূগোল কিংবা রাজনৈতিক সংঘাতের বিষয় নয়। এর গভীরে রয়েছে একটি অভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, যার কেন্দ্রীয় চরিত্র নবী ইব্রাহিম (আ.)। ইসলাম, ইহুদি ও খ্রিষ্টধর্ম—তিনটি ধর্মের অনুসারীদের কাছে তিনি বিশ্বাস, একেশ্বরবাদ ও আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকারের প্রতীক। সেই অভিন্ন উত্তরাধিকার থেকেই ইরাকের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের জনগণের প্রতি শান্তি ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার বার্তা জানাতে চাই।
আমাদের অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এমন এক রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে বসবাস করছে, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়, ঐতিহাসিক ক্ষত এবং জাতীয় স্বার্থকে প্রায়ই পরস্পরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হয়েছে। এর ফলে প্রজন্মের পর প্রজন্মের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। অথচ ধর্মীয় পরিচয় অক্ষুণ্ন রেখেও ভিন্ন জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব। মতপার্থক্য থাকা মানেই স্থায়ী শত্রুতায় আবদ্ধ থাকতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
শান্তির উদ্যোগ দুর্বলতার পরিচয় নয়। বরং মানুষের জীবন, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণকে রাজনৈতিক বিরোধের ঊর্ধ্বে রাখার একটি সচেতন সিদ্ধান্ত।
ইব্রাহিমের উত্তরাধিকার: বিভাজন নয়, সংযোগের ভিত্তি
ইব্রাহিমের নাম তিনটি আব্রাহামিক ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে একটি অভিন্ন আধ্যাত্মিক সংযোগ তৈরি করে। তাঁর উত্তরাধিকার কোনো একটি ভূখণ্ড বা রাজনৈতিক সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একেশ্বরবাদ, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি আনুগত্যের যে শিক্ষা তাঁর জীবন ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত, তা বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তি হতে পারে।
ইরাক ও ইহুদি জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক সম্পর্ককে তাই শুধু অতীতের রাজনৈতিক বিরোধ দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত নয়। এই সম্পর্কের মধ্যে রয়েছে বহু শতাব্দীর সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় স্মৃতি। সেই ইতিহাসকে নতুন করে বিবেচনা করলে সংঘাতের পরিবর্তে পরিচিতি ও সহযোগিতার পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক গবেষক এবং আল-হাদাফ সেন্টার ফর স্টাডিজের প্রধান হুসেইন আল-কিনানির একটি বক্তব্য বিশেষভাবে আলোচনার দাবি রাখে। তাঁর দাবি, ইরাকের ৭৫ শতাংশ মানুষ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পক্ষে। এই পরিসংখ্যানের পক্ষে স্বাধীন জনমত জরিপের বিস্তারিত তথ্য এখানে উপস্থাপিত না হলেও বক্তব্যটি রাজনৈতিক আলোচনায় তাৎপর্যপূর্ণ।

বিশেষ করে আল-হাদাফ সেন্টার এমন একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, যার সঙ্গে ইরানের সমর্থনপুষ্ট বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ও মিলিশিয়ার ঘনিষ্ঠতার কথা উল্লেখ করা হয়। এমন একটি পরিমণ্ডলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পক্ষে জনসমর্থনের দাবি আসা ইরাকের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এই দাবিকে জাতীয় জনমতের চূড়ান্ত প্রতিফলন হিসেবে গ্রহণ করার আগে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
ইরাকের সামনে আঞ্চলিক সহযোগিতার সুযোগ
ভৌগোলিক অবস্থান, মানবসম্পদ, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং সভ্যতার দীর্ঘ ইতিহাসের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার যেকোনো উদ্যোগে ইরাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দেশটির অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগের অবস্থান তাকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ দেয়।
তবে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইরাকের সামনে বড় রাজনৈতিক ও আইনি বাধা রয়েছে। দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং সম্পর্ক স্থাপনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এমন শাস্তিমূলক আইন ও বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ ধরনের আইনি পরিবর্তন ছাড়া কেবল রাজনৈতিক সদিচ্ছা দিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা কঠিন।
উপযুক্ত রাজনৈতিক ও আইনি পরিবেশ তৈরি হলে সহযোগিতার ক্ষেত্রও বিস্তৃত হতে পারে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, চিকিৎসা, কৃষি এবং বাণিজ্যে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। ইসরায়েলের প্রযুক্তিগত ও গবেষণাগত সক্ষমতা এবং ইরাকের মানবসম্পদ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র খুঁজে পাওয়া অসম্ভব নয়।
এ ধরনের সম্পর্কের সুফল শুধু দুই দেশের সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়, চিকিৎসক এবং সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে যে সম্ভাবনাগুলো অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে, সেগুলো কাজে লাগানোর পথ খুলতে পারে।
ইরাকে আব্রাহামিক আন্দোলনের তাৎপর্য
এই প্রেক্ষাপটে ইরাকের আব্রাহামিক আন্দোলনের গুরুত্ব রয়েছে। আন্দোলনটির ঘোষিত লক্ষ্য হলো ইব্রাহিমের অভিন্ন ধর্মীয় উত্তরাধিকারকে কেন্দ্র করে মুসলিম, ইহুদি ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে সংলাপ, পারস্পরিক পরিচিতি এবং সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরি করা।
গ্লোবাল আব্রাহামিক মুভমেন্টের প্রধান এবং ‘দ্য আব্রাহামিক রেভল্যুশন’ বইয়ের লেখক টম ওয়েগনারের চিন্তাভাবনায় এই উদ্যোগের একটি বিস্তৃত বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি পাওয়া যায়। তাঁর প্রস্তাবের মূল কথা হলো, মধ্যপ্রাচ্যের জনগোষ্ঠীগুলোকে পরস্পর সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা ও পূর্বধারণার বাইরে গিয়ে অভিন্ন মূল্যবোধ এবং ঐতিহাসিক সম্পর্ক খুঁজে দেখতে হবে।
এই চিন্তার আলোকে ‘আব্রাহামিক রেভল্যুশন’কে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি নতুন নৈতিক ও সামাজিক কাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এর উদ্দেশ্য কোনো ধর্মীয় পার্থক্য মুছে ফেলা কিংবা একটি অভিন্ন বিশ্বাস চাপিয়ে দেওয়া নয়। বরং প্রত্যেক সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় পরিচয় বজায় রেখেই অন্যের বিশ্বাস, অধিকার ও নিরাপত্তাকে সম্মান করার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা।
মধ্যপ্রাচ্যে প্রকৃত পরিবর্তন আনতে হলে শুধু কূটনৈতিক চুক্তি কিংবা রাজনৈতিক ঘোষণায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। সমাজের চিন্তাভাবনা, ধর্মীয় ব্যাখ্যা, গণমাধ্যমের ভাষা এবং রাজনৈতিক বক্তব্যেও পরিবর্তন প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস ও বিরোধকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, সেই সামাজিক সক্ষমতা গড়ে তোলা জরুরি।
এ ক্ষেত্রে ইরাকের আব্রাহামিক আন্দোলন গবেষণা, নিবন্ধ প্রকাশ, ধর্মীয় আলোচনা, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের উদ্যোগ নিতে পারে। ইরাকের ধর্মীয় ও গোত্রভিত্তিক সামাজিক কাঠামোর মধ্যে আমার অবস্থান এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব কাজে লাগিয়ে আমি নিজেও এ ধরনের উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।

ধর্মগ্রন্থ ও মানুষের ব্যাখ্যার মধ্যে পার্থক্য
ধর্মীয় সংঘাতের দীর্ঘ ইতিহাস পর্যালোচনা করলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়: অনেক সময় ধর্মগ্রন্থের বক্তব্যের চেয়ে রাজনৈতিক স্বার্থে তৈরি মানুষের ব্যাখ্যাই বিরোধকে দীর্ঘস্থায়ী করেছে। ক্ষমতার প্রতিযোগিতা, ভূরাজনৈতিক স্বার্থ এবং সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ধর্মীয় ভাষাকে ব্যবহার করে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে।
ইসলাম, ইহুদি ও খ্রিষ্টধর্মের ইতিহাসে সহাবস্থান ও সংলাপের প্রবণতা যেমন রয়েছে, তেমনি বিভিন্ন যুগের রাজনৈতিক সংঘাত থেকে জন্ম নেওয়া কঠোর ব্যাখ্যাও রয়েছে। ফলে ধর্মীয় ঐতিহ্যকে বুঝতে হলে মূল ধর্মগ্রন্থ, তার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, ভাষাগত অর্থ এবং পরবর্তী সময়ে তৈরি ব্যাখ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে হবে।
বিশেষ করে কোরআনের আয়াত ও ধর্মীয় নির্দেশনাকে রাজনৈতিক বিরোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা নিয়ে নতুন করে বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা প্রয়োজন। কোনো আয়াতের বিচ্ছিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে একটি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে স্থায়ী শত্রুতার ধারণা প্রতিষ্ঠা করা ধর্মীয় জ্ঞানচর্চার যথাযথ পদ্ধতি নয়। বরং প্রামাণ্য ধর্মীয় গবেষণা, ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের আলোকে এসব বক্তব্যের অর্থ অনুধাবন করতে হবে।
ইরাকের আব্রাহামিক আন্দোলনের গবেষণা ও বক্তব্যে আমরা এ বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করছি। ইসলামের মধ্যপন্থী ও প্রভাবশালী আলেম, ফকিহ এবং মুফাসসিরদের ব্যাখ্যা অনুসরণ করে কোরআনের বক্তব্যের এমন পাঠ সামনে আনা সম্ভব, যা ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরে।
ধর্মীয় বিশ্বাসের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার সুযোগ অস্বীকার করার কারণ নেই। একজন মুসলমান নিজের ধর্মের প্রতি নিষ্ঠাবান থেকেও ইহুদিদের সম্মান করতে পারেন। একইভাবে একজন ইহুদির পক্ষেও নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রেখে মুসলমানদের মর্যাদা ও অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া সম্ভব।
ইসলাম ও ইহুদি ধর্মীয় ঐতিহ্য—উভয় ক্ষেত্রেই ইব্রাহিমের দুই পুত্র ইসহাক ও ইসমাইলের বংশধারার উল্লেখ রয়েছে। এই ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক সম্পর্ককে পরস্পরের বিরুদ্ধে বিভাজনের উপকরণ না বানিয়ে বৃহত্তর মানবিক সংযোগের ভিত্তি হিসেবে দেখা যেতে পারে। কোরআনেও বনি ইসরাইলের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের উল্লেখ রয়েছে। এই ঐতিহ্যকে সম্মান করা মুসলমানের ধর্মীয় নিষ্ঠার পরিপন্থী নয়।
পরিচয়ের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেই শান্তি
শান্তির পথে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণাগুলোর একটি হলো, অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে গেলে নিজের পরিচয় বিসর্জন দিতে হয়। বাস্তবে বিষয়টি উল্টো। একটি পরিণত সমাজ নিজের বিশ্বাস ও সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেই অন্যের সঙ্গে সহযোগিতা করতে পারে।
ইরাক ও ইসরায়েলের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এই নীতিই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের লক্ষ্য কোনো জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তন করা নয়; বরং প্রত্যেকের নিজস্ব পরিচয়, ইতিহাস ও মর্যাদাকে স্বীকৃতি দেওয়া।
ইসরায়েলের জনগণের প্রতি ইরাক থেকে আমাদের বার্তা তাই পারস্পরিক পরিচিতি ও আশার। আমরা এমন একটি ভবিষ্যৎ দেখতে চাই, যখন ইরাকি ও ইসরায়েলিরা নিরাপত্তাহীনতা বা শত্রুতার ভয় ছাড়াই বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন। যখন একজন মানুষকে তার জাতীয়তা বা ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিচার না করে ব্যক্তিগত মর্যাদার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে।
আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের সামনে এমন সুযোগ থাকা উচিত, যেখানে তারা শিক্ষা, কর্মসংস্থান, গবেষণা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে পারবে। তারা যেন এমন সংঘাতের উত্তরাধিকার বহন করতে বাধ্য না হয়, যা তাদের নিজেদের পছন্দে শুরু হয়নি এবং যার অনিবার্যতা কোনো ধর্মীয় বিশ্বাসও প্রতিষ্ঠা করে না।
আমরা যে শান্তির কথা বলছি, তা শুধু রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে চুক্তি কিংবা কূটনৈতিক অনুষ্ঠানে হাত মেলানোর বিষয় নয়। এর প্রকৃত ভিত্তি তৈরি হতে হবে দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক পর্যায়ে যোগাযোগ ও আস্থা তৈরি না হলে রাজনৈতিক সমঝোতাও দীর্ঘস্থায়ী ভিত্তি পাবে না।
ইব্রাহিমের উত্তরাধিকার আমাদের সামনে সেই সম্ভাবনার কথা মনে করিয়ে দেয়। ইতিহাসের বিরোধ অস্বীকার না করেও ভবিষ্যতের জন্য নতুন পথ তৈরি করা যায়। ইরাক ও ইসরায়েলের জনগণ যদি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদাকে সম্পর্কের ভিত্তি করতে পারে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতার বাইরে একটি ভিন্ন বাস্তবতা নির্মাণের আলোচনা শুরু হতে পারে।












