ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার মধ্যে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র ইয়ানবুতে সম্ভাব্য বিপদের সতর্কতা জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ইয়েমেন সীমান্তবর্তী দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর শারুরাহ এলাকায়ও জরুরি সতর্কতা জারি করেছে সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সৌদি আরবের এই সতর্কতা এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের মধ্যে নতুন করে সৌদি ভূখণ্ডে হামলা চালাচ্ছে হুতিরা। এতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মদিনামুখী ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি
ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, হুতিদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি ইসলামের পবিত্র নগরী মদিনার দিকে ছোড়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে জোটটি।
তবে বৃহস্পতিবার সৌদি আরবে কোনো হামলার দায় এখনো স্বীকার করেনি হুতিরা। এর আগে বুধবার তারা দাবি করেছিল, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সৌদি আরব সফরের সময় রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে তারা। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ এ হামলার বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেয়নি।
সৌদি-সিরিয়া প্রতিরক্ষা চুক্তি
সৌদি আরব সফরে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এটি ছিল সৌদি আরবে দুই নেতার দ্বিতীয় বৈঠক।
তবে চুক্তির শর্ত বা এর আওতায় কী ধরনের সামরিক সহযোগিতা থাকবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। গত মাসে জানা গিয়েছিল, সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করছে দামেস্ক।
সামরিক সহায়তা চাইছে রিয়াদ
বিশ্বের বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র। হুতিদের সঙ্গে নতুন করে সংঘাতের মধ্যে দেশটি প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক, উভয় ধরনের সামরিক সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।
গত মাসে মিসর সৌদি আরবকে সহায়তা দিতে দেশটির সামরিক বাহিনীকে অনুমোদন দিয়েছে। আঞ্চলিকভাবে অন্যতম বৃহৎ সামরিক শক্তি মিসরের এই সিদ্ধান্ত সংঘাতের বিস্তৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
অন্যদিকে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুমোদনের পথে রয়েছে তুরস্ক। চুক্তিতে যৌথ প্রতিরক্ষার ধারা রয়েছে, যার আওতায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় তুরস্কের সামরিক সহায়তার সুযোগ তৈরি হবে। ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি তুরস্কের এই সম্ভাব্য অংশগ্রহণ সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
এর আগে অক্টোবরে যুক্তরাজ্য জানিয়েছিল, হুতিদের আকাশপথের হামলা থেকে সৌদি শহরগুলো রক্ষায় প্রতিরক্ষামূলক অভিযানে যুদ্ধবিমান পাঠাবে তারা।
তেল সরবরাহ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
লোহিত সাগর উপকূলে অবস্থিত ইয়ানবু সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র। ফলে এই এলাকায় নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হলে দেশটির তেল সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বাড়তে পারে। হুতিদের হামলা অব্যাহত থাকায় সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর নিরাপত্তা এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।












