হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের টানাপোড়েন এখনো কাটেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে তেহরান, প্রণালি খোলার জন্য জুড়ে দিয়েছে নিজস্ব শর্ত। এই দরকষাকষি যত লম্বা হবে, বাংলাদেশের খরচও তত বাড়বে। হরমুজ সংকট দেশে ঢুকছে তিনটি পথে: গ্যাস, জ্বালানি তেল আর বাজারদর।
গ্যাস: চুক্তি থাকলেও চালান নেই
কাতার থেকে বাংলাদেশ বছরে অন্তত ৪০টি এলএনজি চালান পায়। এপ্রিল থেকে সেই সরবরাহ বন্ধ, আর এবার বন্ধের মেয়াদ গড়িয়েছে নভেম্বর পর্যন্ত। ঘাটতি মেটাতে ভরসা স্পট মার্কেট। কিন্তু সেখানে এলএনজির দাম এখন ২০২২ সালের শেষ দিকের পর সবচেয়ে বেশি। বিকল্প চালান কিনলে বাড়তি ডলার গুনতে হয়, না কিনলে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও কারখানায় গ্যাসের চাপ কমে যায়। রাস লাফানে ক্ষতিগ্রস্ত দুটি ইউনিট মেরামতে তিন থেকে পাঁচ বছর লাগতে পারে। তাই হরমুজ খুলে গেলেও কাতারের সরবরাহ পুরোপুরি আগের জায়গায় ফিরবে না।
জ্বালানি তেল: দাম বেড়েছে, লোকসান কমেনি
এপ্রিল, জুন ও সেপ্টেম্বরে তিন দফায় ডিজেলের দাম লিটারে ৩৫ টাকা বেড়ে এখন ১৩৫ টাকা। এরপরও সরকারি হিসাবে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপিসির ঘাটতি প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা। হরমুজ দিয়ে তেলবাহী জাহাজের চলাচল স্বাভাবিক না হলে বিশ্ববাজারে দাম আর জাহাজভাড়া দুটোই চড়া থাকবে। তাতে চতুর্থ দফায় দাম বাড়ানোর চাপও থেকে যাবে।
বাজারদর: ভাড়া থেকে থালায়
ডিজেলের দাম বাড়লে বাসভাড়া, ট্রাকভাড়া আর সেচের খরচ একসঙ্গে বাড়ে। সেপ্টেম্বরের দামবৃদ্ধির পরপরই ট্রাকের এক খেপের ভাড়া বেড়েছে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। এই বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত যোগ হয় চাল, সবজি আর মাছের দামে। চার বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে যে পরিবারগুলো সঞ্চয় ভেঙে চলছে, তাদের ঘাড়ে এটি নতুন বোঝা।
সরকারের সামনে তিন প্রশ্ন
হরমুজ সংকট বাংলাদেশের তৈরি নয়, তবে এর ধাক্কা সামলানোর দায় সরকারের। এক উৎসের ওপর নির্ভরতা কীভাবে কমানো হবে, দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্তোলন কতটা বাড়ানো যাবে, আর ভর্তুকি নিয়ে পরিকল্পনা কী, এই তিন প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দরকার শীত নামার আগেই।












