যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোর পর রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে রিপাবলিকান শিবিরে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির বাড়তি দামের চাপ মোকাবিলায় অর্ধডজনের বেশি রিপাবলিকান প্রার্থী ও আইনপ্রণেতা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতীয়ভাবে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম এখন ৬ দশমিক ৫৩ ডলার। ইরান যুদ্ধ শুরুর সময় ফেব্রুয়ারির তুলনায় এই দাম প্রায় ৭৫ শতাংশ বেড়েছে। বাড়তি জ্বালানি ব্যয় কৃষি, পরিবহন, শিল্প ও সাধারণ ভোক্তাদের ওপর চাপ বাড়িয়েছে।
রপ্তানি বন্ধের প্রস্তাব ঘিরে রিপাবলিকানদের মধ্যে অবশ্য পূর্ণ ঐকমত্য নেই। ট্রাম্প গত মঙ্গলবার জানিয়েছিলেন, তাঁর প্রশাসন ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে পরদিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেন, ডিজেলের ওপর পুরোপুরি বা শূন্য রপ্তানির কোনো নিষেধাজ্ঞা কেউ চান না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডগ বার্গামও এর আগে বলেছিলেন, এমন নিষেধাজ্ঞায় জ্বালানির দাম কমবে না।
কেন রপ্তানি বন্ধের দাবি
ডিজেল যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি। কৃষিযন্ত্র, কারখানার সরঞ্জাম এবং অধিকাংশ বাণিজ্যিক যানবাহন ডিজেলে চলে। অনেক আবাসিক ভবনের বয়লার, চুল্লি ও পানি গরম করার ব্যবস্থাতেও এটি ব্যবহৃত হয়।
তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, রপ্তানি বন্ধ করলেই দাম কমবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। রপ্তানি সীমিত হলে মার্কিন তেল শোধনাগারগুলো ডিজেল উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে। এতে অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ কমে গিয়ে উল্টো দাম আরও বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
যারা নিষেধাজ্ঞার পক্ষে
টেনেসির রিপাবলিকান প্রতিনিধি টিম বারচেট ১৫ সেপ্টেম্বর ডিজেল রপ্তানি বন্ধে দুটি বিল উত্থাপন করেন। একটি বিল ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সরাসরি রপ্তানি নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যটি জাতীয় গড় দাম গ্যালনপ্রতি ৫ ডলারে পৌঁছালে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের কথা বলেছে। দাম টানা ৩০ দিন ৪ দশমিক ৫০ ডলার বা তার নিচে থাকলে তা প্রত্যাহারের প্রস্তাব রয়েছে। জর্জিয়ার প্রতিনিধি ক্লে ফুলার দুটি বিলেই সহ-উদ্যোক্তা।
লুইজিয়ানার গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রি ৯০ দিনের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে তাঁর রাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি ও জন কেনেডি এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন।
আইওয়ার সিনেটর চাক গ্রাসলি ১৯ সেপ্টেম্বর ডিজেল রপ্তানি বন্ধের আহ্বান জানান। একই রাজ্যের প্রতিনিধি জ্যাক নান এবং মারিয়েনেট মিলার-মিকসও পরদিন এ দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
মিশিগানের রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্সও সাময়িক ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার দাবি তুলেছেন। আলাস্কার সিনেটর ড্যান সুলিভান বলেছেন, ইরান যুদ্ধ শেষ না হওয়া এবং হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে ডিজেল রপ্তানি বন্ধ রাখা উচিত।
দাম কমানোর চাপ
ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি এখন রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনী রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কৃষিপ্রধান ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনপ্রণেতারা জ্বালানি ব্যয় কমানোর দাবিতে সরব হয়েছেন। তবে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবে ভোক্তা পর্যায়ে দাম কমাবে কি না, তা নিয়ে প্রশাসনের মধ্যেই মতভেদ রয়েছে।
রপ্তানি বন্ধের দাবির পেছনে মূল যুক্তি হলো—মার্কিন জ্বালানি আগে মার্কিন ভোক্তাদের জন্য ব্যবহার করা। বিপরীতে প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা মনে করছেন, এমন পদক্ষেপ বাজারে প্রত্যাশিত স্বস্তি না এনে সরবরাহ ও উৎপাদনের ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।










